Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ৩ ঘন্টা আগে
  • ১৪ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

অবহেলায় জুমা ত্যাগের শাস্তি অত্যন্ত ভয়াবহ

অবহেলায় জুমা ত্যাগের শাস্তি অত্যন্ত ভয়াবহ

অনলাইন ডেস্ক ►
মুসলমানের জীবনে শুক্রবার নিছক সপ্তাহের আরেকটি দিন নয়; এটি আল্লাহর বিশেষভাবে মর্যাদাপূর্ণ একটি দিন। আর প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ, মুকিম মুসলিম পুরুষের জন্য জুমার নামাজ ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত।

কর্মব্যস্ততা, ব্যবসা-বাণিজ্য, ঘুম, অলসতা কিংবা পার্থিব ব্যস্ততার কারণে জুমার নামাজ ছেড়ে দেওয়া তাই কোনো সাধারণ বিষয় নয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং বেচাকেনা ছেড়ে দাও।’ (সুরা : জুমুআহ, আয়াত : ৯)
জুমার নামাজ কার ওপর ফরজ

জুমার নামাজ প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ ও মুকিম মুসলিম পুরুষের ওপর ফরজ। নারীদের ওপর জুমা ফরজ নয়; তারা চাইলে জুমায় অংশগ্রহণ করতে পারেন।

একইভাবে তাদের জুমায় অনুপস্থিত থাকার অনুমতি রয়েছে। তবে শুধু চাকরি, ব্যবসা, ঘুম, অলসতা, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা কিংবা অন্য কোনো সাধারণ দুনিয়াবি ব্যস্ততার কারণে কোনো পুরুষের জন্য জুমা ত্যাগ করা বৈধ নয়।
জুমা ছুটে গেলে করণীয়

জুমার দিন জুমার সময় শেষ হয়ে গেলে জুমার নামাজের বদলে যোহরের চার রাকাত নামাজ আদায় করতে হবে। অর্থাৎ কেউ যদি বৈধ ওজরের কারণে জুমায় যেতে না পারেন, তাহলে তিনি জোহরের নামাজ আদায় করবেন।

আর কোনো ব্যক্তি কোনো ওজর ছাড়া অলসতা বা অবহেলার কারণে জুমা ছেড়ে দিলে তাকে আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে তওবা করতে হবে এবং জোহরের নামাজ আদায় করতে হবে। জুমার নামাজের সময় থাকা অবস্থায় কোনো ব্যক্তি মসজিদে পৌঁছাতে পারলে অবশ্যই জুমায় অংশগ্রহণের চেষ্টা করবেন। আর যদি জুমা আদায় করা সম্ভব না হয়, তখন জোহর আদায় করবেন।
জুমা ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দেওয়ার শাস্তি

জুমার নামাজ ত্যাগের ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (সা.) অত্যন্ত কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। আবদুল্লাহ ইবন ওমর ও আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তাঁরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে তাঁর মিম্বারে দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছেন, ‘লোকেরা যেন জুমার নামাজ ছেড়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকে; নতুবা আল্লাহ তাদের অন্তরে মোহর মেরে দেবেন।

এরপর তারা গাফেলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৮৬৫)
এটি অত্যন্ত ভয়াবহ সতর্কবার্তা। কারণ মানুষের সবচেয়ে বড় ক্ষতি শুধু সম্পদ হারানো নয়; বরং অন্তরের ঈমানি অনুভূতি ও আল্লাহভীতি দুর্বল হয়ে যাওয়া।

পরপর তিন জুমা অবহেলায় ছেড়ে দিলে কী হয়

রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও সতর্ক করে বলেছেন. ‘যে ব্যক্তি অবহেলা করে তিনটি জুমা ছেড়ে দেয়, আল্লাহ তার অন্তরে মোহর মেরে দেন।’ (নাসায়ি, হাদিস : ১৩৬৯)

অন্য বর্ণনায়ও তিনটি জুমা অবহেলায় ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে একই ধরনের সতর্কবাণী এসেছে। এখানে ‘অন্তরে মোহর’ বলতে বোঝানো হয়েছে—অবহেলার কারণে মানুষের অন্তর ধীরে ধীরে কল্যাণ গ্রহণে কঠিন হয়ে যেতে পারে এবং গাফেলতাপূর্ণ জীবন তার জন্য স্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারে। তাই হাদিসটি তিনটি জুমা পার হওয়ার অপেক্ষা না করে প্রথম জুমা থেকেই সতর্ক হওয়ার শিক্ষা দেয়।

বৈধ ওজর থাকলে কি গুনাহ হবে

শরিয়তসম্মত ওজরের কারণে জুমা ছুটে গেলে উল্লিখিত কঠোর সতর্কবার্তা প্রযোজ্য নয়। অসুস্থতা, সফর কিংবা এমন বাস্তব পরিস্থিতি যাতে শরিয়তসম্মতভাবে জুমায় উপস্থিত হওয়া সম্ভব নয়—এসব ক্ষেত্রে ব্যক্তি ওজরগ্রস্ত হতে পারেন। তবে ‘ওজর’ আর ‘অজুহাত’ এক জিনিস নয়। সামান্য অলসতা, দেরিতে ঘুম থেকে ওঠা, ব্যবসার ব্যস্ততা বা বিনোদনের কারণে জুমা ছেড়ে দেওয়া বৈধ ওজর নয়।

অনেক সময় মানুষ জুমার দিন রাতে দেরি করে ঘুমানোর কারণে দুপুরে ঘুম থেকে ওঠে এবং জুমা ছুটে যায়। এ ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃত অবহেলা এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে ঘুমিয়ে পড়ার মধ্যে পার্থক্য করতে হবে। যদি কেউ জুমার সময়ের ব্যাপারে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন না করে ইচ্ছাকৃতভাবে এমনভাবে ঘুমায় যে জুমা ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে তাকে নিজের অবহেলার জন্য তওবা করতে হবে। আর কেউ যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করার পরও অনিচ্ছাকৃতভাবে ঘুমিয়ে পড়েন, তাহলে তার বিধান ইচ্ছাকৃতভাবে জুমা ত্যাগকারীর মতো নয়। তবে ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার পর দ্রুত নামাজ আদায় জরুরি।

জুমা ছুটে গেলে কি শুধু জোহর পড়লেই হবে

যোহর আদায় করলে ওই সময়ের ফরজ নামাজের দায়িত্ব আদায়ের ব্যবস্থা হবে; কিন্তু যদি জুমা ইচ্ছাকৃতভাবে ও বিনা ওজরে ত্যাগ করা হয়ে থাকে, তাহলে শুধু যোহর পড়ে বিষয়টি শেষ করে দেওয়া যথেষ্ট নয়—আল্লাহর কাছে আন্তরিক তওবাও জরুরি। আর তওবার অর্থ হলো—

১. গুনাহের জন্য আন্তরিকভাবে অনুতপ্ত হওয়া
২. সঙ্গে সঙ্গে গুনাহ ত্যাগ করা
৩. ভবিষ্যতে আর জুমা ইচ্ছাকৃতভাবে না ছাড়ার দৃঢ় সংকল্প করা
৪. আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা
৫. নেক আমল বাড়িয়ে দেওয়া।

জুমার দিন আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া উচিত

জুমা যাতে ছুটে না যায়, সেজন্য আগেই প্রস্তুতি নেওয়া মুমিনের দায়িত্ব। গোসল করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক পরা, সুগন্ধি ব্যবহার করা, দ্রুত মসজিদের দিকে যাওয়া এবং খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা—এসব জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ আমল।

যদি অতীতে অনেক জুমা ছুটে গিয়ে থাকে

অতীতে কারো অবহেলার কারণে জুমা ছুটে গিয়ে থাকলে হতাশ হওয়া না হয়ে আজ থেকেই তাকে ফিরে আসতে হবে। কারণ আল্লাহর রহমতের দরজা বন্ধ হয় না। তাই আন্তরিক তওবা করে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও জুমার নামাজ আদায়ে যত্নবান হতে হবে। নিজের অতীতের ভুলের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে এবং ভবিষ্যতে আর অবহেলা না করার সংকল্প করতে হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ সব গুনাহ ক্ষমা করে দেন।’ (সুরা : জুমার, আয়াত : ৫৩)

অতএব, জুমার আজান যখন ধ্বনিত হয়, তখন একজন মুমিনের মনে হওয়া উচিত—আমার রব আমাকে ডাকছেন। এই ডাক ব্যবসার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, চাকরির চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, বন্ধুদের আড্ডার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং দুনিয়ার যেকোনো ব্যস্ততার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad