• মাধুকর প্রতিনিধি
  • তারিখঃ ১৩-১২-২০২২, সময়ঃ বিকাল ০৫:১৮
  • ১৫৮ বার দেখা হয়েছে

অভিশপ্ত ইউক্যালিপ্টাস গাছ পীরগঞ্জে ভূগর্ভের পানি খেয়ে ফেলছে

অভিশপ্ত ইউক্যালিপ্টাস গাছ পীরগঞ্জে ভূগর্ভের পানি খেয়ে ফেলছে

পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি ►

রংপুরের কয়েকটি উপজেলার ভূগর্ভের পানি গিলে খাচ্ছে বিষবৃক্ষ ইউক্যালিপ্টাস গাছ। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় এই গাছের চারা উৎপাদন ও রোপণ নিরুৎসাহিত করে ২০০৮ সালে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। কিন্তু ১৪ বছরেও ইউক্যালিপটাস গাছের চারা উৎপাদন ও রোপণ বন্ধ হয়নি। 

জানা গেছে, ১৯৯০ সালের দিকে রংপুরসহ উত্তর জনপদের সর্বত্র ইউক্যালিপ্টাস গাছের বিস্তার ঘটে। কৃষি জমি, রাস্তাঘাটসহ সর্বত্র বেড়ে ওঠে হাজার হাজার ইউক্যালিপ্টাস গাছ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীব বিদ্যা বিভাগের একজন অধ্যাপক জানান, অস্ট্রেলিয়া থেকে আকাশমনি ও ইউক্যাকিপ্টাস গাছের চারা আমদানি করা হয়েছিল।

এই গাছের ক্ষতিকর বিষয়ে জানা না থাকায় সাধারণ মানুষ এখনো আবাদি জমিসহ বাড়ির আশেপাশে ইউক্যালিপ্টাস গাছ রোপণ করছেন। ইউক্যালিপ্টাস গাছের কাঠখুব একটা দামি কাঠ নয়। কিন্তু কম সময়ে বেড়ে ওঠে এবং দাম কম হওয়ায় গ্রামের মানুষ ঘরের কাজে এই কাঠ বেশি ব্যবহার করেন। 

পীরগঞ্জ উপজেলার চতরা এলাকার কাঠ ব্যবসায়ী রাজু মিয়া বলেন, অনেকেই ইউক্যালিপ্টাস গাছের কাঠ দিয়ে আসবাবপত্র তৈরি করে নিচ্ছেন। বন বিভাগের বিট কর্মকর্তা আবু জার গাফফারী জানান, বর্তমানে সরকারি জমিতে ইউক্যালিপ্টাস বাগান গড়ে তোলা হচ্ছে না। তবে লাভজনক হওয়ায় সাধারণ মানুষ এখনো স্ব স্ব এলাকায় ইউক্যালিপ্টাস গাছের বাগান গড়ে তুলছেন। তিনি আরও বলেন-ইউক্যালিপ্টাস গাছ রোপণ নিষিদ্ধ করা বিষয়ে কোন চিঠি পাননি। তবে শুনেছেন। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কৃষি কর্মকর্তা বলছেন,ইউক্যালিপ্টাস গাছ ভূগর্ভের ২০ থেকে ৩০ ফুট নিচের পানিও শোষণ করে। প্রতিদিন একটি ইউক্যালিপ্টাস ২০ থেকে ৪০ লিটার পানি শোষণ করে। এছাড়া এই গাছের পাতা সহজেই পচনশীল না হওয়ায় জমিতে পড়লেও ফসলের অনেক ক্ষতি হয়। বড় আলমপুর ইউনিয়নের কৃষক বলেন, তাদের এলাকায় অনেকেই আবাদি জমির আইলের পাশে ইউক্যালিপ্টাস গাছে রোপণ করেছেন। যে স্থানে এই গাছ বেড়ে উঠেছে, গাছ মালিকের ফসলের ক্ষতি হচ্ছে এবং পাশের জমিরও প্রচুর ক্ষতি করছে। এছাড়াও এসব গাছে পাখিও বাসা বাঁধে না। এমনকি এই গাছের আশেপাশের অন্যান্য গাছপালারও ক্ষতি হয়। 

বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্পের একজন কর্মকর্তা বলছেন, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে হাজার হাজার ইউক্যালিপ্টাস গাছ বেড়ে উঠছে। আবাদি জমিসহ বাড়ির আশেপাশে তাকালেই ইউক্যালিপ্টাস গাছের বাগান চোখে পড়ে। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাদেকুজ্জামন সরকার বলেন, ভূগর্ভের পানি রক্ষা এবং পরিবেশ দূষণ রোধে ইউক্যালিপ্টাস গাছের চারা রোপণে নিরুৎসাহিত করতে সরকারি উদ্যোগে প্রচারণা চালানোও হচ্ছে এবং উপজেলার এই গাছের চারা রোপণ পুর্বের তুলনায় অনেকটাই কমে গেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়