Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • তারিখঃ ১৭-৮-২০২৬, সময়ঃ বিকাল ০৩:১৮
ফটো কার্ড

আমার মরদেহ নিয়ে মায়াকান্নার সুযোগ দেব না: শবনম

আমার মরদেহ নিয়ে মায়াকান্নার সুযোগ দেব না: শবনম

অনলাইন ডেস্ক ►
বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী শবনম। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে ঢাকার চলচ্চিত্রের পাশাপাশি তৎকালীন পাকিস্তানের সিনেমাতেও নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিলেন তিনি। অভিনয়গুণে হয়ে উঠেছিলেন দুই বাংলার পাশাপাশি পাকিস্তানেরও জনপ্রিয় তারকা। আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) এই নন্দিত অভিনেত্রীর জন্মদিন। ১৯৪৬ সালে জন্ম নেওয়া শবনম পা রাখলেন জীবনের ৮১তম বছরে।

ষাটের দশক থেকে নব্বইয়ের দশকের শেষভাগ পর্যন্ত নিয়মিত অভিনয় করেছেন শবনম। তাঁর অভিনীত সর্বশেষ সিনেমা কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘আম্মাজান’। সিনেমাটি মুক্তির পর দর্শকের কাছে তিনি ‘আম্মাজান’ নামেই আরও বেশি পরিচিতি পান। তবে ‘আম্মাজান’-এর পর আর কোনো সিনেমার শুটিংয়ে দেখা যায়নি তাঁকে। এরপর কেন আর কোনো শুটিং ফ্লোরে যাননি—এমন প্রশ্নের জবাবে এক সাক্ষাৎকারে নিজের অভিমান ও ক্ষোভের কথা স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন শবনম।

তিনি বলেন, ‘আম্মাজান’ সিনেমার শুটিংয়ের পর কোনো স্টুডিওতে যাইনি, হাতে গোনা কয়েকটি অনুষ্ঠানে গিয়েছি। অনেক ব্যাপার আছে, প্রাণ খুলে সেসব বলতে পারছি না। পারব না। আর বলে লাভও হবে না। আমার মুখ পুরোপুরি বন্ধ। মাঝে অনেক দিন দেশের বাইরে ছিলাম। দেশে আসার পর যা কিছু পেয়েছি, যা দেখেছি, তা নিয়ে মুখ খুলতে চাই না। এর মধ্যে কোনো একদিন শুনবেন, আমি মরে গেছি। তখন এফডিসির লোকজন অস্থির হয়ে উঠবে, সেখানে নিয়ে যাওয়ার জন্য। আমি তো আমার ছেলেকে স্পষ্ট বলে দিয়েছি, আমার মরদেহ যেন কোনোভাবেই এফডিসিতে না যায়। রবিন (রবিন ঘোষ, প্রখ্যাত সুরকার ও সংগীত পরিচালক, শবনমের স্বামী) সাহেবও বলে গিয়েছিলেন, তাঁর মরদেহও সেখানে নেওয়া হয়নি।’

যে এফডিসিতে জীবনের দীর্ঘ সময় কাজ করেছেন, দিনের বড় একটি অংশ কাটিয়েছেন, সেই প্রতিষ্ঠান নিয়ে এমন অভিমানের কারণ কী—এমন প্রশ্নেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন শবনম। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই কারণ আছে। আমি তো বলেছি, বলব না। এফডিসি থেকে কত সম্মান পাচ্ছি, তা তো বলে শেষ করতে পারব না! হ্যাঁ, এটা ঠিক, মরে গেলে ফুলের মালা দেব, হয়ে গেল, তাই না। এই সুযোগ আমি কাউকে দিতে চাই না। এফডিসিতে কাউকে আমার মরদেহ নিয়ে মায়াকান্না কাঁদার সুযোগ দেব না। আমি যেভাবে নিজের বাসায় চুপচাপ আছি, সেভাবেই ভালো আছি। শান্তিতে আছি। আমি শিল্পী। আমি আমার মতো আছি। খুব ভালো আছি।’

শবনমের এই বক্তব্যে স্পষ্ট, চলচ্চিত্রের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্ক থাকলেও এফডিসির সঙ্গে তাঁর মনে জমে আছে গভীর অভিমান। জীবনের শেষ সময়ে তাই কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, নিজের মতো করে শান্তিতে থাকতেই চান এই কিংবদন্তি অভিনেত্রী।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad