• মাধুকর প্রতিনিধি
  • তারিখঃ ১৭-১০-২০২২, সময়ঃ সকাল ০৮:৩৮
  • ৭১ বার দেখা হয়েছে

ইউপি চেয়ারম্যানের প্রশ্রয়ে জমি জবর দখল ও সন্ত্রাসী হামলা, প্রাণভয়ে বাড়ি ছাড়া দুটি পরিবার 

ইউপি চেয়ারম্যানের প্রশ্রয়ে জমি জবর দখল ও সন্ত্রাসী হামলা, প্রাণভয়ে বাড়ি ছাড়া দুটি পরিবার 

শাহজাহান আলী মনন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি: ►

আদালতের আদেশ অমান্য করে জমি জবর দখল এবং দলবদ্ধভাবে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা চালিয়ে হাত পা ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। মামলা তুলে না নেয়ায় প্রাণে মেরে ফেলতে লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষ প্রকাশ্যে মোহড়া দিয়ে হুমকি প্রদর্শন করছে। ফলে জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় বাড়ি ঘর ছেড়ে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে পালিয়ে বেড়াচেছ দুইটি পরিবার। 

ইউপি চেয়ারম্যানের প্রত্যক্ষ প্রশ্রয় ও মদদে এই অন্যায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। ১৬ অক্টোবর বিকাল ৫ টায় পলাতক অবস্থায়ই নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের কয়ানিজপাড়ার একটি বাসায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এমন ঘটনা তুলে ধরেন উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের কিসামত কাদিখোল গ্রামের মৃত খাতিবুল্লাহ প্রামাণিকের ছেলে হাজী মো. আশরাফ আলী (৬২)। 

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বাড়ির পাশেই আমার ভাতিজা মো. তছলিম উদ্দিনের ১২ শতক জমি আছে। যা প্রায় ৬০/৭০ বছর ধরে আমরা ভোগদখল করে আসছি। হঠাৎ করে সেই জমি নিজেদের দাবী করে ৫ শতক জবর দখল করে প্রতিবেশী মৃত ফয়মুদ্দিন মামুদের ছেলে মো. বাবুল হোসেন (৫২), মো. আব্দুস সামাদ (৬০), মো. আজিজুল হক (৫৫)। এতে তাঁদের সহ ১৬ জনকে আসামী করে আদালতে পিটিশন মামলা ২৯/২০২২ দায়ের করে ভাতিজা।   

অন্য আসামীরা হলো বাবুল হোসেনের স্ত্রী মোছা. জাহানারা বেগম (৪২), ছেলে মো. ওমর ফারুক জাকির (২৪), মো. মাসুম (২৯), আজিজুলের ছেলে মো. রাশেদুল (৩৫) ও তার স্ত্রী মোছা. হালিমা (২৫), মৃত আ: আজিজের স্ত্রী মোছা. জাহানারা খাতুন (৫৫), ছেলে মো. জাহাঙ্গীর আলম (৩৫) ও আলমগীর হোসেন (৩৩), মো. মিজানুর রহমান (বিজি)'র স্ত্রী মোছা. আরজিনা বেগম (৪০) ছেলে আজিম (২৫) ও তাজিম (২৩), আব্দুস সামাদের স্ত্রী মোছা. আমিনা বেগম (৫০) ও ছেলে শাকিল (২৫)।

এরফলে আসামীরা প্রতিহিংসা বশতঃ গত ১৩ ফেব্রুয়ারি অহেতুক ঝগড়া বাধিয়ে আমাকেসহ আমার ছেলে, ভাতিজা, ভাতিজি বৌ ও নাতি, নাতনী বৌকে মারপিট করে। এতে আমি সৈয়দপুর থানায় আমি নিজে জি আর -৫১/২০২২ নং মামলা করি। যা চলমান আছে। ইতোমধ্যে গত ২৯/০৬/২০২২ পিটিশন মামলায় আদালত আসামীপক্ষকে বিরোধপূর্ণ জমিতে প্রবেশ নিষেধ করে আদেশ দেয় আদালত। তারা সেই আদেশ অমান্য করে পুনরায় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে সংঘবদ্ধ হয়ে লাঠিসোটা, দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র এবং ঘর তোলার যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম নিয়ে গত ১৪ আগস্ট সকাল ১১ টার দিকে ওই জমি জবর দখলের চেষ্টা করে।

এতে নিষেধ করতে গেলে তর্কবিতর্কের এক পর্যায়ে তারা অতর্কিত হামলা চালায়। আমার আর্তচিৎকারে আমার ছেলেসহ তছলিম উদ্দিনের ছেলে আব্দুল ওয়াহাব, তার স্ত্রী সুমি আক্তার, বোন মোছা. তাসমিনা (বাক প্রতিবন্ধি) ও রহমত আলীর স্ত্রী মোছা. সুরভী এগিয়ে আসেলে প্রতিপক্ষরা সবার উপর লাঠি, ছুড়ি ও লোহার রড দিয়ে আঘাত করে। ফলে হাত পা ও মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্হানে কাটা, হাড় ভাঙ্গা ও ফোলা জখম হয়ে সকলেই গুরুত্বর আহত হই। 

এসময় তিনি নিজের প্লাস্টার বাধা বাম হাত দেখিয়ে বলেন, প্রায় ২০ মিনিট ধরে তারা আমার উপর অত্যাচার করে। এতে হাতটিতে কনুইসহ সব হাড় ১২ টুকরা হয়েছে। এই ঘটনায় আহত ৭ জন নীলফামারী সদর হাসপাতাল ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেই। পরে নীলফামারী সদর থানায় ১৯/০৮/২০২২ তারিখে এজাহার দায়ের করি। 

এর প্রেক্ষিতে আসামীরা গ্রেফতার হয়ে হাজতবাস করে। জামিনে বেরিয়ে আসার পর গত ৪ অক্টোবর আানুমানিক সকাল১০ টায় পূর্বের মতই লাঠিসোটা, ধারালো ছোড়াসহ আমার বাড়ির সামনে এসে গালিগালাজ করে। মামলা তুলে নেওয়ার হুমকিসহ যে কোন মূল্যে বিরোধীয় জমি জবর দখল করার হুমকি দেয়। প্রয়োজনে সুযোগমত যেখানেই পাবে আমার ও ভাতিজা মো. তছলিমের পরিবারের সদস্যদের মেরে কেটে লাশ গুম করবে বলেও ভয়ভীতি দেখায়। বিবাদীরা এখনও তাদের হুমকী অব্যাহত রেখেছে এবং আমাদের বাড়ির আশেপাশে উদ্দেশ্যমুলকভাবে ঘুরাঘুরি করায় আমরা আতঙ্কগ্রস্ত। সৈয়দপুর থানায় এব্যাপারে সাধারণ ডায়েরী করেছি। জিডি নং ২৩৩। তারিখ ০৪/১০/২০২২ ই। 

মূলতঃ ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান সরকার জুনের প্রশ্রয়েই প্রতিপক্ষরা এসব করছে। তাঁর সহযোগীতা পেয়েই তারা এতটা বেপরোয়া ও মারমুখী। তাঁর ইশারাতেই বিবাদীগণ জমি জবর দখল ও সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিবাদীদের পক্ষ অবলম্বন করেছেন। ইতোপূর্বে তিনি আরেক প্রতিপক্ষ ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী মোন্নাফ সরকারের সাথেও প্রতিহিংসা মূলক আচরণ করেছেন। এখন আমার উপর চড়াও হয়েছেন। 

কারণ কিছুদিন পূর্বে ত্রাণের চাল চুরি তথা কম দেয়া ও সুবিধাভোগী কার্ডধারী দরিদ্র অসহায় লোকজনের কাছে ভিজিডি'র চাল বিতরণে টাকা নেওয়ায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার কর্তৃক শোকজ হয়েছেন তিনি। এই ঘটনার নেপথ্যে আমার হাত ছিল বলে তিনি সন্দেহ প্রবণ হয়ে এমন অন্যায় করছেন। এমতাবস্থায় আমরা সঠিক বিচারের দাবীতে ও উদ্ভুত পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ এবং অন্যায়ের প্রতিকারের জন্য প্রশাসনের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। এসময় উপস্থিত ছিলেন তাসলিম উদ্দিনসহ দুই পরিবারের নারী শিশুসহ ১০ জন সদস্য। 

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়