Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ৩ ঘন্টা আগে
ফটো কার্ড

ইচ্ছে পূরণের মেলায় হাজারো পুণ্যার্থীদের ঢল

ইচ্ছে পূরণের মেলায় হাজারো পুণ্যার্থীদের ঢল

ভবতোষ রায় মনা ►

গাইবান্ধার সদর উপজেলার দারিয়াপুরে শুরু হয়েছে দুই শতাব্দীর প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী ইচ্ছে পূরণের মেলা। মনের আশা পূরণ হবে-এমন দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে বৈশাখের প্রথম দিন থেকেই মীরের বাগানে পুণ্যার্থীদের ঢল নেমেছে। মাসব্যাপী এই মেলা চলবে আগামী ৩০ বৈশাখ পর্যন্ত।

জানা যায়, সদর উপজেলার দারিয়াপুরে অবস্থিত তিন ওলির মাজার (পীর শাহ সুলতান গাজী, মীর মোশাররফ হোসেন ও ইবনে শরফুদ্দিন শাহ) প্রাঙ্গণে প্রতি বছর এই মেলার আয়োজন করা হয়। ভক্তদের বিশ্বাস, এখানে এসে মানত করলে কঠিন অসুখ-বিসুখ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় এবং নিঃসন্তান দম্পতিরা সন্তান লাভ করেন। এই বিশ্বাস থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হিন্দু-মুসলিমসহ সব ধর্মের মানুষ এখানে ভিড় জমান।

সরেজমিনে মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, এক উৎসবমুখর পরিবেশ। হাজার হাজার মানুষ বাড়ি থেকে চাল, ডাল, মুরগি ও খড়ি নিয়ে এসেছেন মানত পূরণের রান্নার জন্য। কেউ চুলা জ্বালাচ্ছেন, কেউ খিচুড়ি রান্না করছেন, আবার কেউ মাজার জিয়ারতে ব্যস্ত। রান্না করা এই খাবার বা তবারক নিজেরা খাওয়ার পাশাপাশি দরিদ্রদের মাঝেও বিলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। 

মেলায় আসা রোখসানা বেগম নামের এক নারী জানান, দীর্ঘ দিন সন্তান না হওয়ায় তিনি এখানে মানত করেছিলেন। এখন সন্তান লাভের পর মানত পূরণ করতে এসেছেন। একই রকম অভিজ্ঞতার কথা জানান রংপুরের পীরগঞ্জ থেকে আসা সোনালী বেগম। তিনি দুই মেয়ের পর একটি ছেলে সন্তানের আশায় মানত করেছিলেন এবং সেই আশা পূরণ হওয়ায় ছেলেকে নিয়েই মেলায় এসেছেন। 

শুধু ধর্মীয় উদ্দেশ্যেই নয়, অনেকে মেলায় আসেন পরিবার নিয়ে আনন্দ করতে। সাঘাটার নজরুল ইসলাম জানান, এটি অনেকটা বনভোজনের মতো। খিচুড়ি রান্না করে পরিবারের সবাই মিলে আনন্দ করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য। পুণ্যার্থীদের এই সমাগমকে কেন্দ্র করে মাজারের আশপাশের প্রায় চার একর জমিতে বসেছে বিশাল গ্রামীণ মেলা। মাটির খেলনা, চারুকারু পণ্য, কসমেটিকস, হরেক রকমের মিষ্টি ও জিলাপির দোকানে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। 

এসব ব্যাপারে মাজারের প্রধান খাদেম কারী মো. আলী আশরাফী জানান, প্রায় ২০০ বছরের বেশি সময় ধরে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এখানে শায়িত পীরদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মানুষ তাদের মনোবাসনা পূরণের জন্য দোয়া করেন। শত শত বছর ধরে এটি স্থানীয় সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে আগামী ৩০ বৈশাখ পর্যন্ত এই মিলনমেলা চলবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad