
অনলাইন ডেস্ক ►
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসান এবং নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ এগিয়ে নিতে নিজের পরিকল্পিত সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারকে সই হওয়ার পর ইরানের সঙ্গে নতুন দফার আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়ার জন্যই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কিছু কর্মকর্তার সমালোচনার মুখে চুক্তিটির পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কমাতে এবং সংঘাতের স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে কূটনৈতিক আলোচনার বিকল্প নেই। একই সঙ্গে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ৬০ দিনের একটি আলোচনা পর্ব শুরু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে দুই পক্ষ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতপার্থক্য কমানোর চেষ্টা করবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপ করা অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপকে চলমান সমঝোতা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে ইরানও কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। দেশটি ঘোষণা করেছে, বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার দায়িত্ব পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও পণ্য পরিবহন করা হয়। ফলে এর নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে কূটনৈতিক অগ্রগতির মধ্যেও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা পুরোপুরি থামেনি। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই বলেছে, সাম্প্রতিক চুক্তিটি যুদ্ধের সব ফ্রন্টে কার্যকর হওয়ার কথা।
একই দিনে গাজা সিটির রেমাল এলাকায় ইসরায়েলের একটি ড্রোন হামলায় অন্তত তিনজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। ফলে নতুন সমঝোতা এবং আলোচনা শুরু হলেও মাঠ পর্যায়ে সংঘাত পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্ন হামলা অব্যাহত থাকায় যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রচেষ্টার ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েই গেছে।