Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ৩ ঘন্টা আগে
ফটো কার্ড

কচুরিপানার নিচে ৯ ঘণ্টা লুকিয়েও শেষ রক্ষা হলো না দুই গরু ডাকাতের

কচুরিপানার নিচে ৯ ঘণ্টা লুকিয়েও শেষ রক্ষা হলো না দুই গরু ডাকাতের

আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ ►
গত কয়েক সপ্তাহ যাবত নওগাঁর রাণীনগর, আত্রাই বদলগাছি, মহাদেবপুর উপজেলার কয়েকটি স্থানে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। সবগুলি ডাকাতের ঘটনা পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে পর্যালোচনা করে কয়েকটি চৌকস দল গঠন করা হয়। গোয়েন্দা তথ্য, ডাটা প্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে প্রথমত একজন কুখ্যাত গরুর ডাকাতকে শনাক্ত করা হয়।

এরপর পুলিশ সুপারের নির্দেশে গত ১৪ই জুলাই সন্ধ্যায় জেলা গোয়েন্দা শাখা এবং রাণীনগর থানা পুলিশ অভিযান শুরু করে। রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জাকারিয়া মন্ডলের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল নাটোর জেলার নলডাঙ্গা থানা এলাকা থেকে কুখ্যাত গরু চোর নওগাঁ জেলার আসলামকে রেপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের সহযোগিতায় গ্রেফতার করেন। এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

পুলিশ সুপার জানান গ্রেফতারকৃত গরুর ডাকাত আসলামকে নলডাঙ্গা থানায় নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায় তার চার /পাঁচ জনের একটি গ্রুপ আছে। এই গ্রুপের  চারজনের  বাড়ি ময়মনসিংহ, জয়পুরহাট, নওগাঁ এবং বগুড়া। আরো কয়েকজন আছে যারা তাদের কাছ থেকে গরু কিনে থাকে। জিজ্ঞাসাবাদে আসলাম আরও জানায় গত ১৫ জুলাই  ভোররাতে নাটোরের সিংড়া থেকে তারা গরু চোর কয়জন একসাথে একটি পিকআপ যোগে আবার গরুর ডাকাতি করতে বের হবে।

প্রাপ্ত তথ্য মোতাবেক ওসি রাণীনগর থানার নেতৃত্বে পুলিশের বিশেষ দল সিংড়া এলাকায় গরুর ডাকাতদের গ্রেফতার করতে স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালায়। রাত আনুমানিক তিনটা থেকে রাণীনগর থানা পুলিশ সিংড়া থানা এলাকার বড় চৌগ্রাম বাজারে ওৎ পেতে থাকে। ভোর আনুমানিক সাড়ে পাঁচটা থেকে ছয়টার মধ্যে গরুর ডাকাত দল একটি পিকআপসহ ওই এলাকায় আসলে রাণীনগর থানার পুলিশ পিকআপটিকে ধাওয়া করতে থাকে। চোর/ ডাকাত বহনকারী পিকআপটি বেপরোয়া গতিতে চালাতে থাকে এবং কয়েকবার পুলিশের পিকআপকে মহাসড়কে ধাক্কা মারার চেষ্টা করে।

অতঃপর রাণীনগর থানা পুলিশ ছোট চৌগ্রাম এলাকায় আঞ্চলিক সড়কে বেরিকেট দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু গরুচোর চক্র তাদের পিকআপটি বেপরোয়া গতিতে পুলিশের উপর উঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে সেই সাথে রাস্তার পাশে জনগণের বেশ কয়েকটি দোকান ভেঙে চলে যায়। এ সময় পুলিশের সাথে স্থানীয় জনগণ গরু চোরের পিকআপকে ধাওয়া করে। ওই পিকআপে আনুমানিক চারজন ছিল বলে জানা যায়। এক পর্যায়ে পিকআপ থেকে নেমে দুইজন গরুর ডাকাত ছোট চৌগ্রাম এলাকায় একটি বড় কচুরিপানা ভর্তি জলাশয়ে পালিয়ে যাওয়ার জন্য ঝাঁপ দেয়। অপর দুই ডাকাত পিকআপ নিয়ে পালিয়ে যায়।

পরে রাণীনগর থানা পুলিশ, স্থানীয় সিংড়া থানা পুলিশ  এবং বিপুল সংখ্যক স্থানীয় জনসাধারণ ওই পুকুরটি ঘিরে রাখে। সকাল সাতটা থেকে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ এবং স্থানীয় জনসাধারণ জলাশয়ে ডাকাতদের খুঁজতে থাকে। ১৫ জুলাই  আনুমানিক দুপুর দেড়টা থেকে ২ টার মধ্যে দুইজন ডাকাতকে আটক করতে সক্ষম হয়। আটকৃতরা হলো ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার আতারামপুর গ্রামের কুদরত আলীর ছেলে হাবিবুর রহমান (৪২) ও জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার মইপুর গোপালপুর গ্রামের মোস্তাকের ছেলে ফেরদৌস (২৬)। দুইজনকে জীবিত অবস্থায় জলাশয় থেকে উদ্ধার করা হয়। এমন অভিযানে রাণীনগর থানার অন্তত তিনজন পুলিশ সদস্য আহত হয়। আহতরা সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লে• থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করে। এই সংক্রান্ত সিংড়া থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। সেই সাথে রাণীনগর থানাতেও একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এই বিষয়ে রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাকারিয়া মন্ডল জানান আটকৃতদের বুধবার রাতে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার আদালতে আসামীদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির জন্য আবেদন করা হয়েছে। যদি আদালতের মাধ্যমে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি পাওয়া যায় তাহলে জেলার অন্যান্য স্থানে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ডাকাতির বিষয়েও আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়ার আশা ব্যক্ত করেন ওসি। এরপর তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হবে। দেশের স্বার্থে এমন কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে যারা পুলিশকে সার্বিক সহায়তা প্রদান করেছেন সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন ওসি জাকারিয়া মন্ডল।  

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad