• মাধুকর প্রতিনিধি
  • তারিখঃ ৯-১১-২০২২, সময়ঃ সকাল ০৯:১০
  • ১১০ বার দেখা হয়েছে

করতোয়ায় বালু হরিলুটের কারবার আজও বন্ধ হয়নি

করতোয়ায় বালু হরিলুটের কারবার আজও বন্ধ হয়নি

পীরগঞ্জ(রংপুর)প্রতিনিধি ►

পীরগঞ্জ উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া করতোয়া নদীতে দিনরাত হরিলুট হয়ে যাচ্ছে বালু। অথচ স্থানীয় প্রশাসন নানা ব্যস্ততার অযুহাতে হাত পা গুটিয়ে বসে আছে দীর্ঘ এক বছর ধরে। উত্তোলিত এই বালু পৃথক কয়েকটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সরবরাহ দেয়া হচ্ছে নির্মানাধীন ৬ লেন এর মহাসড়কে। এই সিন্ডিকেট নিষিদ্ধ ড্রামট্রাক যোগে এসব বালু সরবরাহের মাধ্যমে প্রতি মাসে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা।

উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের সবক’টি সড়কযোগে এই বালু পরিবহন করায় ওই এলাকায় আন্তঃযোগেযোগ বিচ্ছিন্ন হবার পথে। ফেটে ভেঙ্গে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে এসব সড়ক। “পীরগঞ্জে বালু লুটের মহাযজ্ঞ” শিরোনামে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলা ভুমি অফিসের এমএলএসএস আরিফুল ইসলাম আরও একটি নতুন মেশিন কিনে নদীতে বসিয়েছেন। সেটি দিয়েও বালু উত্তোলন শুরু করছেন। অভিযোগ রয়েছে,আরিফুল প্রায় ৩ বছর ধরে পীরগঞ্জের করতোয়া নদী থেকে বালু উত্তোলন করছেন। এলাকায় সে প্রভাবশালী। তার মতো আরও অনেকেই বালু লুটছেন নদী থেকে। এ যেন মিলেমিশে বালু হরিলুটের উৎসব। কেউ প্রতিবাদ করলেই হামলা মামলার শিকার হচ্ছেন। অপরিকল্পিত ভাবে বালু উত্তোলনের ফলে রাস্তা, ঘাট, ফসলী জমি, বাড়ী ঘর ভাঙ্গলেও অসহায় সাধারণ মানুষ। 

সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা গেছে, পীরগঞ্জের পশ্চিমে টুকুরিয়া ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করতোয়া নদী। ওই নদীর চর এবং বুকে একাধিক জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা নদীটির তলদেশ থেকে প্রতিদিনই অবৈধভাবে বালু লুটে নিচ্ছেন। নদীপাড়ের বেশ কয়েকটি স্থানে কোটি টাকা মুল্যের বালু মজুদ করে রাখা হলেও স্থানীয় প্রশাসন রহস্যজনক কারনে কোন পদপে নিচ্ছে না। অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন ও ড্রাম ট্রাকে বালু পরিবহনের কারণে পাকা ও কাঁচা রাস্তা ভাঙ্গছে,ভাঙ্গছে ফসলী জমি,বাড়ি ঘর। ফলে জনদুর্ভোগ বাড়ছে। এ যেন এক মগের মুলুক। জোর যার, মুল্লুক তার ! 

জানা গেছে, রংপুর-দিনাজপুর জেলার পীরগঞ্জ, নবাবগঞ্জ, ঘোড়াঘাটের প্রায় ২৫টি গ্রামের ভিতর দিয়ে বয়ে গেছে করতোয়া নদী। নদীটির তলদেশে বিভিন্ন স্থানে বোমা এবং স্যালোমেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলনে নেতাদের মাঝে অনেকটা প্রতিযোগিতা চলছে বলা চলে। নদীপাড়েই কোটি কোটি টাকা মুল্যের হাজার হাজার ট্রাক বালুর মজুদ করা হয়েছে। প্রায় ৩ বছর ধরে মোনাইল দুর্গাপুরে করতোয়া নদী থেকে পীরগঞ্জ উপজেলা ভুমি অফিসের কর্মচারী আরিফুল ইসলাম বালু উত্তোলন করছেন। তিনি উপজেলার জাফরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। ভুমি অফিসে চাকরী করায় অনেকটাই বেপরোয়া। তার মতো ওই স্থানে বছরের পর বছর ধরে গোপীনাথপুরের নুর আলম যাদু, বিছনা গ্রামের আনোয়ার হোসেন, মাহে আলম, শাহিনুর রহমান, ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমানের চাচাতো ভাই সাইদুল ইসলাম,ভাগিনা, ভাটা ব্যবসায়ী আশরাফুল ইসলাম বালু উত্তোলন করছেন। 

আরিফুল ইসলাম বলেন, আমার একটা ড্রেজার মেশিনে বালু তুলছি। সবাই তোলে আমিও তুলছি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগীরা জানান, বালু তোলার কারণে টুকুরিয়া ইউনিয়নের মোনাইল দূর্গাপুরে প্রায় ১ কিলোমিটার পাকারাস্তা পুরোটা ভেঙ্গে গেছে। তাছাড়াও বালু উত্তোলন বন্ধ, রাস্তা ও জমি রায় একাধিকবার মানববন্ধনও করা হয়েছে। কোন কিছুতেই কাজ হচ্ছে না। 

টুকুরিয়া ইউপির চেয়ারম্যান আতাউর রহমান রহমান মন্ডল বলেন, যারা নদী রা কমিটির সদস্য তারাই তো বালু তুলছে। প্রতিবাদ করায় আমার ভাই মান্নান মন্ডলকে হামলা করেছিল। বালু লুটের এই মহাযজ্ঞে স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ কতিপয় নীতিনির্ধরক মহলও জড়িত মর্মে অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে ইউএনও বিরোদা রানী রায় বলেন, আইনকে মান্য করা একজন নাগরিকের পবিত্র দায়িত্ব। কিন্তু যারা তা অমান্য করে, তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়। অবশ্য প্রায় এক বছর ধরে ওই এলাকায় কোন প্রকার ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে না রহস্যজনক কারনে। 
 

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়