• মাধুকর প্রতিনিধি
  • তারিখঃ ৭-১২-২০২২, সময়ঃ বিকাল ০৪:২৪
  • ৬০ বার দেখা হয়েছে

কষ্ট নিয়ে পেশা ছাড়ছেন চুন তৈরির কারিগররা

কষ্ট নিয়ে পেশা ছাড়ছেন চুন তৈরির কারিগররা

এ মান্নান আকন্দ, সুন্দরগঞ্জ ► 

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলাসহ উত্তরাঞ্চলের অত্যন্ত প্রিয় একটি নেশা পান চিবানো। গ্রাম-গঞ্জের সাধারণত অতিথি আপ্যায়নে বা কোনো বৈঠক আলোচনার শুরুতে পানের ব্যবহার লক্ষ্যণীয়। আর পান বলতে শুধু পান পাতাই বোঝায় না। সঙ্গে থাকে ঠোঁট লাল করার চুন ও সুপারি। ভারতবর্ষ ও বাংলার রসনা বিলাসী মানুষের কাছে পান চিবানো একটি প্রিয় নেশা।

পানে স্বাদ জোগাতে চুন আর সুপারি। সুপারি চাষাবাদ করলেও কিন্তু চুন তৈরি করতে হয়। শামুক ও ঝিনুকের তৈরি চুন এখন বিলুপ্তির পথে। বাজারে দুই ধরনের চুন পেলেও পাথুরে চুনের ব্যবহার অনেক বেশি। তবে চুন তৈরির কাঁচামাল ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় চুন তৈরি করে বাজারে লোকসানের মুখে পেশা ছাড়ছেন অনেকে।

উপজেলা পরিষদ মার্কেটের পান ব্যবসায়ী মশিউর রহমান জানান, পানের স্বাদ বাড়াতে বিভিন্ন উপকরণ মেশানো হয়। সুপারি, চুন, জর্দাসহ হরেক রকমের মশলা। চুন ছাড়া পান খাওয়ার কোনো মজাই নেই। তবে দেশি চুন আজ বিলুপ্তির পথে। দোকে বেশি ভাগ সময়ে পাথুরে চুন ব্যবহার করা হচ্ছে।

উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের জুগিপাড়া গ্রামের ফরমান আলী জানান, এই গ্রামের অর্ধশত পরিবারের আয়ের এক মাত্র উৎসহ ছিল চুন তৈরি করে তা বিক্রি করা। কালের বির্বতণে দিন দিন তা  হারিয়ে যাচ্ছে। এক সময় গ্রামে গেলেই চোখে পড়বে সাদা ধোঁয়ায় হলুদ কিরণ। চোঁখে পরত ঝিনুক বা শামুক বাড়ীর সামনে এখন আর চোঁখে পড়ে না গ্রামের সেইসব চিত্র। ইতোমধ্যে অনেকে এই পেশা ছেড়ে ভিন্ন পেশায় জড়িয়ে পড়েছে। 

চুন তৈরির কারিগর  সিরাজুল ইসলাম বলেন, যারা চুন তৈরি করে আঞ্চলিক ভাষায় তাদেরকে জুগি বলা হয়। চুন তৈরি করতে শামুক ও ঝিনুক সংগ্রহ করতে হয তিস্তা নদী থেকে। তবে এখন আর তিস্তা নদীতে শামুক ও ঝিনুক পাওয়া যায় না। পাশ্ববর্তী  উপজেলা বৈরেতী হাঁট থেকে কিনতে হয়। তারপর শামুক-ঝিনুক গুলো আগুনে পুড়িয়ে বড় একটি পাত্রে উঠিয়ে পরিমান মতো পানি দিয়ে তা ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা ফুটানো হয়।

এরপর শামুক ও ঝিনুক গুলোকে একটি বেম্বু দিয়ে চূর্ণ বিচূর্ণ করে ধবধবে সাদা চুন। তবে চুন তৈরি করে রাজারজাত করা হয়। এক বস্তা শামুক ও ঝিনুকের দাম ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকায় কিনতে হয়। তা থেকে প্রায় ৫০ কেজি চুন উৎপাদন হয়। এক কেজি চুনের দাম ২০ থেকে ২৫ টাকা। ৫০ কেজি চুন বিক্রি করতে সময় লাগে তিন হতে চার দিন। খরচ বাদ দিলে লাভের পরিমাণ খুবই কম।  চুন তৈরির কারিগরদের এ পেশা ধরে রাখতে হতে প্রশিক্ষণ ও স্বল্প সুদে বিনিয়োগ দরকার। 

উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাজাফর আহমেদ লস্কর বলেন, চুন তৈরির কারিগরা প্রশিক।সণ করতে চাইলে তাদেরকে প্রশিক্ষিত করা হবে। পাশাপাশি তাদেরকে বিনিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে। 

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার বিশ্বেশ্বর চন্দ্র বর্মন জানান, পাথুরে চুন তৈরি হয়, চুনাপাথর ও কেমিক্যাল দিয়ে যা মানুষের শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর। পাথুরে চুন মানুষের শরীরের ক্যালসিয়াম, শক্তি ক্ষয় ও দাঁতের ক্ষয়সহ পাকস্থলী নষ্ট করতে ভূমিকা রাখে।

পাথুরি চুনে অ্যাসিডের পরিমাণ বেশি থাকায় পাথুরে চুন খাওয়া কখনই উচিত নয়। আর শামুক ও ঝিনুকের চুন মানুষের শরীরের জন্য উপকারী। এই চুন শ্লেষ্মা, অম্ল-পিত্ত-শূল, ব্রণ পাকস্থলী সংক্রান্ত রোগ, মেদোরোগ, ক্রিমি রোগ নষ্ট করে। ঝিনুক চুনের মধ্যে মুক্তার গুণ পাওয়া যায়। মানুষের শরীরের চামড়ার উপরের অংশ টিস্যু গঠনে যে উজ্জ্বলতা, তা সোনা ও মুক্তার কারণে হয়ে তাকে। 


 

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়