Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ৩ ঘন্টা আগে
ফটো কার্ড

কালের গর্ভে বিলীন ঐতিহ্যবাহী কাঠের চাকা শিল্প: নিভে গেছে শতবছরের কর্মচাঞ্চল্য​

কালের গর্ভে বিলীন ঐতিহ্যবাহী কাঠের চাকা শিল্প: নিভে গেছে শতবছরের কর্মচাঞ্চল্য​

মোঃ আইয়ুব আলী
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের আড়মবাড়িয়া ও পালিদেহা গ্রামে একসময় ভোর থেকে রাত পর্যন্ত কানে বাজত কাঠ কাটার মুখরিত ‘খট খট’ শব্দ। মোড় ঘুরে মিস্ত্রিপাড়ায় গেলেই চোখে পড়ত কারিগর ও ক্রেতা-বিক্রেতার ব্যস্ততা। তবে আজ সেই প্রাণচাঞ্চল্য উধাও, গ্রাম জুড়ে এখন শুধুই নিস্তব্ধতা। আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া এবং যান্ত্রিক যানবাহনের দাপটে বিলুপ্তির পথে এ অঞ্চলের শতবছরের ঐতিহ্যবাহী কাঠের চাকা শিল্প।​একসময় গ্রামীণ জনপদে পণ্য ও মানুষ পরিবহনের একমাত্র ভরসা ছিল গরু, মহিষ ও ঘোড়ার গাড়ি। আর এসব গাড়ির মজবুত চাকা তৈরির মূল কেন্দ্র ছিল পালিদেহা ও আড়মবাড়িয়া। ঈশ্বরদীতে তৈরি বাবলার কাঠের চাকার সুনাম ছিল সারা দেশে।

ঈশ্বরদী জংশন ও আজিমনগর রেল স্টেশন থেকে প্রতিদিন ট্রেনে করে এসব চাকা ঢাকা, ভৈরব, গাজীপুর ও সিলেটসহ বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হতো।​স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পালিদেহা এলাকার বিখ্যাত ‘মিস্ত্রিপাড়া’ ইতোমধ্যেই পদ্মা নদীর করাল গ্রাসে বিলীন হয়ে গেছে। এর ওপর যোগ হয়েছে আধুনিক যানবাহনের প্রতিযোগিতা। ৪০ বছর ধরে মহিষের গাড়ি চালানো প্রবীণ চালক সিদ্দিক (৬০) জানান, এখন সময় বাঁচাতে মানুষ পিকআপ, নসিমন, করিমন, সিএনজি ও অটোরিকশা ব্যবহার করছে।

ফলে গরু-মহিষের গাড়ির চাকার কদর আর নেই।​  বাবলার কাঠসহ চাকা তৈরির বিভিন্ন উপকরণের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে।​ ৩০-৪০ বছর আগে যেখানে প্রায় ৭০০টি কারখানা ছিল এবং প্রতিদিন ৬০০ জোড়া চাকা তৈরি হতো, সেখানে এখন পুরো এলাকায় গড়ে মাত্র ২০ থেকে ২৫টি কারখানা টিকে আছে। আগে সহস্রাধিক মানুষ এ শিল্পের ওপর নির্ভরশীল থাকলেও বর্তমানে মাত্র ৪০ থেকে ৫০ জন কারিগর কোনোমতে পৈতৃক পেশা ধরে রেখেছেন।​পেশাটি লাভজনক না হওয়ায় তরুণ যুবকেরা আর এতে যুক্ত হতে চাচ্ছেন না।​অভিমানের সুর কারিগরদের কণ্ঠে:আড়মবাড়িয়া গ্রামের ৬৫ বছর বয়সী কারখানার মালিক হাশেম মালিথা বলেন, "আমাদের পরিবার চার পুরুষ ধরে চাকা তৈরির কাজে নিয়োজিত।

কিন্তু এখন আর আগের মতো চাহিদা নেই, খরচও অনেক বেশি। পেটের দায়ে ও ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আমার ছেলেরা এই কাজ ছেড়ে গার্মেন্টসে চাকরি নিয়েছে। শত কষ্টে শুধু বাপ-দাদার স্মৃতি রক্ষা করতে ব্যবসাটি আঁকড়ে ধরে আছি।"​উপকরণের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, যান্ত্রিক গাড়ির বিস্তার এবং সরকারি সহায়তার অভাবে ঈশ্বরদীর এই লোকশিল্পটি আজ চূড়ান্ত বিলুপ্তির মুখোমুখি। দ্রুত সংরক্ষণ ও পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে শীঘ্রই রূপকথার গল্পে পরিণত হবে এই কাঠের চাকা শিল্প।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad