Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ৩ ঘন্টা আগে
ফটো কার্ড

কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে গরুর গাড়ি

কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে গরুর গাড়ি

রতি কান্ত রায়, কুড়িগ্রাম ►
এক সময় মানুষের জনপ্রিয় বাহন ছিল গরুর গাড়ি। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের জনপদে কৃষি ফসল বহন, ব্যবসার বিভিন্ন পন্য ,বিয়ে বাড়ীর বরযাত্রী ও নাইওড়ী বহনের প্রিয় বাহন ছিল দুইচাকার গরুর গাড়ি। কালের পরিবর্তনে এই বাহন এখন বিলুপ্ত হতে চলেছে। বিখ্যাত গায়ক আব্বাছ উদ্দিনের সারা জাগানো গান

ওকি গাড়িয়াল ভাই কত রব আমি পন্থের দিকে চাইয়ারে এক সময়ের উত্তর বঙ্গের বিখ্যাত নদী বন্দর কুড়িগ্রামের চিলমারীতে একটি অনুষ্ঠানে আসার সময় ,মালামাল পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত  সারি বদ্ধ গরুর গাড়ি দেখে তিনি গানটি লিখে সুর করে মঞ্চে গেয়েছিলেন। সেইসময় সারা বাংলার ,মাঠে -ঘাটে, পথে- প্রান্তরে মানুষের মুখে মুখে এই গানের সুর বাজলে ও বর্তমানে এই গান আর শোনা যায়না, গরুর গাড়ীও আজ বিলুপ্তির পথে।

বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই আজ গরূর গাড়ী  দেখেনি। উত্তরাঞ্চলের রংপুর - রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার গ্রামবাংলার জনপ্রিয় গরুর গাড়ি ছিলো যাতায়াত ও পরিবহনের প্রধান যানবাহন। এখন এসব গল্পমাত্র । বিশ পঁচিশ বছর আগেও গরুর গাড়িতে চড়ে বর ও কনে বাপের বাড়ি থেকে শশুর বাড়ি যাওয়া আসা করতো‌।  গরুর গাড়ি ছাড়া বিয়ে বাড়ী কল্পনা করা যেত না । বিয়ে বাড়ির বরযাত্রী, ও বিভিন্ন মালামাল পরিবহনে গরুর গাড়ি ছিল একমাত্র পরিবহন। কিন্তু এখন এমন দৃশ্য আর চোখে পড়ে না। কিন্তু সেই সময়  একটি গরুর গাড়ির মালিক হওয়া সহজ কথা ছিল না। গরুর ও গাড়ি মিলে অনেক টাকার দরকার হত।

তাই যে সব পরিবারে গরুরগাড়ি ছিল, তাদের ও গাড়িয়ালদের যে সন্মান ছিল আলাদা। অনুমান করা হয়, খ্রিস্টজন্মের  ১৬০০ থেকে ১৫০০ বছর আগেই সিন্ধু অববাহিকা ও ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে গরুর গাড়ির প্রচলন ছিল। শরৎ চন্দ্রের  দেবদাশ উপন্যাসে অসুস্থ দেবদাশ- পার্বতীর বাড়িতে গরুর গাড়িতেই শেষ যাত্রা করেছিলেন। এখন সময় পাল্টেছে। গ্রামীণ কাঁচা রাস্তা পাকা হয়েছে। এখন পাকা রাস্তায়  মানুষের  প্রয়োজনীয় মালামাল দ্রূত বহনের জন্য  ব্যবহার করছে  ট্রাক,  লরি,পিক আকাপ,অটো,সহ বিভিন্ন ধরনের মালগাড়ি মানুষের যাতায়াতের জন্য রয়েছে রেলগাড়ি ,মোটরগাড়ি, বেবিট্যাক্সি, অটোরিকশা ইত্যাদি।

ফলে গ্রামাঞ্চল থেকে প্রায় বিলুপ্ত হচ্ছে গরুর গাড়ি। অথচ গরুর গাড়ির  সুবিধা ছিলো অনেক। এতে কোনো জ্বালানি লাগতো না। ফলে ধোঁয়াও হতো না। পরিবেশের কোনো ক্ষতিও করতো না। এটি পরিবেশ-বান্ধব একটি যানবাহন ছিলো । এছাড়াও ধীর গতির কারণে এতে তেমন কোনো দুর্ঘটনা প্রাণহানির আশঙ্কা থাকতো না। কিন্তু যুগের  পরিবর্তনে কারণে আমাদের গ্রাম অঞ্চলের প্রিয় এই গরুরগাড়ি প্রচলন আজ হারিয়ে যাচ্ছে কালের অতল গর্ভে । প্রযুক্তির সুবিধা আমাদের সময় বাঁচালেও জীবনকে করে তুলেছে জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad