• মাধুকর প্রতিনিধি
  • তারিখঃ ১৪-১১-২০২২, সময়ঃ বিকাল ০৩:৩৫
  • ১১০ বার দেখা হয়েছে

কৃষিতে গরুর হালের কদর বেড়েছে 

কৃষিতে গরুর হালের কদর বেড়েছে 

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি ►

কৃষিতে হাল চাষের প্রধান উপকরণ হল গরুর হাল। আধুনিকতার ছোঁয়ায় এবং যান্ত্রিক এই যুগে বিলুপ্ত প্রায় সেই গরুর হাল। অল্প জমিতে হাল চাষের জন্য গরুর হাল একান্ত প্রয়োজন। যান্ত্রিক হাল দিয়ে অল্প জমি চাষাবাদ করা অত্যন্ত কষ্টকর এবং ঝুকিপূর্ণ। সে কারণে মৌসুমের শুরুতেই বীজতলা তৈরি এবং সবজি চাষাবাদে গরুর হালের কদর দারুনভাবে বেড়ে গেছে। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গরুর হাল এখন সোনার হরিনে পরিনত হয়েছে। 

আজ থেকে ১৫ হতে ২০ বছর আগে গরুর হাল ছাড়া চাষাবাদ সম্ভব হত না। দিন দিন গরুর হালের বদলে যান্ত্রিক উপায়ে চাষাবাদ শুরু হয়। পাশাপাশি হালের বদলের দাম বেড়ে যায়, অনেকে গরুর হালের ব্যবহার কমিয়ে দেয়। বর্তমান কৃষি অধিদপ্তর হতে হাল চাষের যন্ত্র, ধান কাটামাড়াই যন্ত্র, ধানোর চারা রোপন যন্ত্র, সেচ যন্ত্র ভূতুকি মুলে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করে আসেছে। কিন্তু তারপরও গরুর হালের চাহিদা কমেনি। চাষাবাদের যে কোন কাজে গরুর হাল লাগছে। অনেকে আবার গরুর হালের প্রতি ঝুকে পড়ছে। 

উপজেলার শান্তিরাম গ্রামের কৃষক তারা মিয়া জানান, গরুর হাল ছাড়া কৃষিতে চাষাবাদের কাজ অচল। বিভিন্ন মৌসুমের ফসল চাষাবাদের জন্য বীজতলা তৈরির কাজে গরুর হাল একান্ত প্রয়োজন। বিশেষ করে রবি মৌসুমের ফসল আলু, বেগুন, সিম, আদা, রসুন, মরিচ পিয়াছ, লাউ, কুমড়া, সরিষা, তিল, তিশিসহ নানা জাতের  তালতরকারির জমি তৈরি করতে গরুর হাল ছাড়া সম্ভব নয়। কারন অল্প জমিতে বার বার হাল দিয়ে জমি তৈরি করতে হয়। সেক্ষেত্রে যন্ত্র চালিত হাল পাওয়া যায় না। তাছাড়া হালচাষ করা অত্যন্ত কষ্টকর। প্রতিটি মৌসুমে জমি সমান করার জন্য মই টানার ক্ষেত্রে গরুর হাল একান্ত প্রয়োজন। বর্তমানে বাজারে প্রতিদিনের জন্য একটি গরুর হালের দাম ৫০০ হতে ৭০০ টাকা। তার পরও পাওয়া যায় না।

গরুর হালের মালিক আব্দুল কাদের জানান, গরুর হাল ছাড়া জমি চাষাবাদ অচল। তিনি ৩০ বছর ধরে গরুর হাল দিয়ে জমি চাষাবাদ করে আসছে। নিজের জমি চাষাবাদের পর অন্যের জমি চাষাবাদ করে। মৌসুমেরর শুরুতেই ব্যাপক চাহিদা দেখা দেয়। বিশেষ করে বীজতলা তৈরির জন্য গরুর হাল অবশ্যই দরকার। কারন অল্প জমি চাষাবাদের জন্য যন্ত্র চালিত হাল পাওয়া যায় না। বর্তমানে দেশি হালের বলদের দাম অনেক বেশি। এক জোড়া হালের বলদ কিনতে প্রায় দেড় লাখ টাকা লাগে। তবে অল্প সময়ের মধ্যে হাল বিক্রি করে টাকা তোলা যায়। গোটা বছর হালের চাহিদা থাকে। 

উপজেলা কৃষি অফিসার রাশিদুল কবির জানান, কৃষি কাজের জন্য গরুর হাল অত্যন্ত প্রয়োজন। আধুনিকতার এই যুগে অল্প সময়ে অধিক জমি চাষাবাদের জন্য প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়ে চলছে। তারপরও গরুর হালের চাহিদা রয়েছে। গরুর গোবর জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। অল্প জমি চাষাবাদের জন্য গরুর হাল খুবেই দরকার।  

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়