
অনলাইন ডেস্ক ►
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন সম্পন্ন হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে সিরিজ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বুশেহর প্রদেশের বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকাসহ বেশ কয়েকটি সামরিক সদর দফতরে এই হামলা চালানো হয়।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, বুশেহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত একটি সামরিক সদর দফতরে মার্কিন-ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। বুশেহর প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর এহসান জাহানিয়ান হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আশপাশ, চোগাদক শহরের একটি সামরিক ঘাঁটি এবং একটি মাছ ধরার ঘাটে এই হামলা চালানো হয়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো নিহতের খবর পাওয়া যায়নি। এর পাশাপাশি কোনারাক নামের আরেকটি দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরেও তিনটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে চরম উত্তেজনা দেখা দিলেও যুক্তরাষ্ট্র এই হামলায় তাদের জড়িত থাকার কথা সরাসরি অস্বীকার করেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই সর্বশেষ হামলার পেছনে ওয়াশিংটনের কোনো হাত নেই। অন্যদিকে ইরানও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নির্দিষ্ট দেশকে এই হামলার জন্য দায়ী করেনি। তবে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এক সামরিক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে ইরানে আবারও পূর্ণ শক্তিতে সামরিক অভিযান শুরু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, আকাশে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে এবং হুমকি দূর করতে ইসরায়েলি বাহিনী ইরানে তৃতীয়বারের মতো আঘাত হানতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
এর আগে হরমুজ প্রণালীতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার জবাবে গত মঙ্গলবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। ওই হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তি বা সমঝোতা স্মারকটি বাতিল ঘোষণা করেন। ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দেন যে ইরানের সাথে এই চুক্তি বজায় রাখা সময়ের অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়।