• মাধুকর প্রতিনিধি
  • তারিখঃ ৮-১-২০২৩, সময়ঃ বিকাল ০৩:৩৭
  • ১৬৬ বার দেখা হয়েছে

গাইবান্ধার তুলসীঘাট ডিগ্রী কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের ৪ মাস ধরে বেতন বন্ধ

গাইবান্ধার তুলসীঘাট ডিগ্রী কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের ৪ মাস ধরে বেতন বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক ►

সভাপতি বেতন বিলে স্বাক্ষর না করার কারণে গাইবান্ধা সদর উপজেলার তুলসীঘাট শামসুল হক ডিগ্রী (অনার্স) কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা গত ৪ মাস ধরে বেতন ভাতা উত্তোলন করতে পারছেন না। ফলে শিক্ষক শিক্ষক-কর্মচারীরা চরম দুর্দশার মধ্যে জীবন যাপন করছেন। 

আজ রোববার গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক-কর্মচারীদের পক্ষে কলেজের সহকারী অধ্যাপক রোকেয়া খাতুন লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, কলেজের অধ্যক্ষ একরামুল হক খান ২০২২ সালের ৩১ আগস্ট অবসরে যান। কিন্তু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী কলেজের উপাধ্যক্ষ অথবা সিনিয়র ৫ জন শিক্ষকের মধ্যে যে কোন একজন শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার কথা। সে মোতাবেক সাবেক অধ্যক্ষ একরামুল হক সিনিয়র শিক্ষকদের মধ্য থেকে মোছা: শামশাদ বেগমকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব প্রদান করেন।

এরপর থেকে শামশাদ বেগম ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কিন্তু কলেজের উপাধ্যক্ষ নুরে আলম মোস্তফা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শামশাদ বেগমকে মেনে না নিয়ে তিনি জোরপূর্বক অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার জন্য নানা অপকৌশল চালাচ্ছেন। এরপর থেকে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা দু’ভাগে বিভক্ত হয়। তখন থেকে কলেজের অভ্যান্তরীন পরিবেশের বিঘœ ঘটছে এবং উত্তেজনা বিরাজ করছে।    

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ছাড়, স্বল্প সময়ে কলেজে পূর্ণাঙ্গ প্রিন্সিপাল নিয়োগ দিয়ে কলেজের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনা, বর্তমান উপাধ্যক্ষ নুরে আলম মোস্তফা কর্তৃক সকল সিসি ক্যামেরা বন্ধ রেখে শিক্ষক-কর্মচারীদেরকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বিভিন্ন বিষয়ে চাপ সৃষ্টি করা এবং জোর পূর্বক আলাদা বেতন বিলে স্বাক্ষর নেয়ার অপচেষ্টা প্রতিহত করা দরকার। কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা গত ৪ মাস ধরে বেতন ভাতা উত্তোলন করতে না পারায় কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শাহ জামাল মিয়া বিনাচিকিৎসায় মৃত্যু বরণ করেন। 

শুধু তাই নয়, বেতন বিলে স্বাক্ষর করার জন্য একাধিকবার কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোছা. শামশাদ বেগম, কলেজ পরিচালনা কমিটির সকল সদস্য ও কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের স্বাক্ষরসহ বেশ কয়েকবার আবেদন সভাপতি ও জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু বেতন বিলের কোন সুরাহা হয়নি। 

এব্যাপারে কলেজের সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. অলিউর রহমান জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী কলেজ অধ্যক্ষ অবসরে যাওয়াকালিন উপাধ্যক্ষ অথবা ৫ জন সিনিয়র শিক্ষকের মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা শিক্ষকদের যে কোন একজন অধ্যক্ষ হতে পারবেন। কিন্তু ওই কলেজের অধ্যক্ষ একরামুল হক খান অবসরে যাওয়ার সময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিপত্র উপেক্ষা করে তৃতীয় অবস্থানে থাকা সিনিয়র শিক্ষকে ভারপ্রাপ্তের অধ্যক্ষের দায়িত্ব দিয়ে যান।

এরফলে উপাধ্যক্ষ ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের মধ্যে দ্বন্দের সৃষ্টি হয়। তিনি শিক্ষকদের একত্রিত হয়ে কলেজের উন্নয়নে কাজ করার পরামর্শ দেন। কিন্তু শিক্ষকরা দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে কেউ কারও কথা শুনছেন না। এই অনৈক্যের কারণে বেতন বিলে স্বাক্ষর দেয়া যাচ্ছে না। 
সংবাদ সম্মেলনে সহকারী অধ্যাপক রেজাউল করিম, নজরুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম মন্ডল, ফেরদৌসি জাহান সিদ্দিক, বিমান কান্তি অধিকারী, তৌহিদুল ইসলাম নুরে আয়েশা সিদ্দিকাসহ ২৫ জন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।  
 

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়