
নিজস্ব প্রতিবেদক►
নারী অধিকার ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং এ বিষয়ে কার্যকর জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়েছে গাইবান্ধায় অনুষ্ঠিত নাগরিক সমাজ সম্মেলনে। গতকাল সোমবার গাইবান্ধা আর-রহমান হোটেল এন্ড কমিউনিটি সেন্টারের হলরুমে অনুষ্ঠিত নাগরিক সমাজ সম্মেলন ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নবনির্বাচিত সরকারের নারী ক্ষমতায়ন ও অধিকারবিষয়ক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দৃশ্যমান উদ্যোগ জরুরি। নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণে অন্তর্ভুক্তি এবং স্থানীয় পর্যায়ে নিরাপদ ও সমঅধিকার ভিত্তিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার, নাগরিক সমাজ ও উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সুশীল (SUSHIL) প্রকল্প, গাইবান্ধা সিএসও হাব এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এসকেএস ফাউন্ডেশন এর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে সহযোগিতা করে একশনএইড বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
সকালে পায়রা উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন একশনএইড বাংলাদেশ সুশীল প্রকল্পের প্রোজেক্ট ম্যানেজার মৌসুমি বিশ্বাস, গাইবান্ধা জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. খাদেমুল ইসলাম, জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. ইমাম হাসিম। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন একশনএইড বাংলাদেশ ইভালুয়েশন একাউন্টিবিলিটি অ্যান্ড লার্নিং (মিল) অফিসার-মনিটরিং মো. রবিউল ইসলাম। গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন সরকারী দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক ব্যাক্তিবর্গ, নাগরিক সমাজ প্রতিনিধি, সাংবাদিক, নারী নেত্রী, যুব প্রতিনিধি ও উন্নয়নকর্মীরা।
সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন এসকেএস ফাউন্ডেশনের কো-অর্ডিনেটর, ফিল্ড অপারেশন মাইক্রো ফাইন্যান্স প্রোগ্রাম মো. বাহারাম খান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ছিন্নমূল মহিলা সমিতির নির্বাহী পরিচালক মোঃ মুরর্শিদুর রহমান খান। সম্মেলনের শুরুতে একটি বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজন করা হয়। ব্যানার, ফেস্টুন ও বাদ্যযন্ত্র নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। পরে আর-রহমান হোটেল এন্ড কমিউনিটি সেন্টারের হলরুমে মূল আয়োজন শুরু হয়। সম্মেলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা ও নাগরিক সমাজ প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে প্যানেল আলোচনা। আলোচনায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারী নিরাপত্তা, সাইবার বুলিং, আদিবাসী ও প্রান্তিক নারীদের স্বাস্থ্যসেবা, নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং স্থানীয় সরকারে নারীর নেতৃত্বের বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন প্যানেল আলোচকরা। প্যানেল আলোচনার শেষে জনপ্রতিনিধিগন নাগরিক সমাজের দাবিসমূহ জাতীয় সংসদসহ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ স্তরে তুলে ধরার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। বক্তারা বলেন, তৃণমূল পর্যায়ের বাস্তবতা নীতিনির্ধারকদের সামনে তুলে ধরতে এ ধরনের সংলাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সব শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে সম্মেলন শেষ হয়।