• মাধুকর প্রতিনিধি
  • তারিখঃ ২০-১০-২০২২, সময়ঃ রাত ০৭:৩৩
  • ৪৩ বার দেখা হয়েছে

গাইবান্ধা-৫ উপনির্বাচনে অনিয়ম মাঠ পর্যায়ে টানা তিনদিনের শুনানি শেষ সোমবার রিপোর্ট দাখিল করবে তদন্ত কমিটি

গাইবান্ধা-৫ উপনির্বাচনে অনিয়ম মাঠ পর্যায়ে টানা তিনদিনের শুনানি শেষ সোমবার রিপোর্ট দাখিল করবে তদন্ত কমিটি

ভবতোষ রায় মনা/আমিনুল হক ►

গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি-সাঘাটা) আসনের উপনির্বাচন বন্ধের ঘটনার তদন্ত শেষ করেছেন তদন্ত কমিটি। ইসির অতিরিক্ত সচিব ও গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান অশোক কুমার দেবনাথের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি তিনদিন ধরে তাদের তদন্তের কার্যক্রম চালান। গত মঙ্গলবার থেকে টানা তিনদিনের শুনানিতে সংশ্লিষ্ট ৬৮৫ জনকে ডাকা হলেও মোট ৬২২ জন উপস্থিত হয়ে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। আগামী সোমবার নির্বাচন কমিশনে রিপোর্ট দাখিল করবে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কমিটির প্রধান। 
শুনানির শেষ দিনে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত গাইবান্ধা সার্কিট হাউজে ২৭ জনের শুনানি গ্রহণ করে তদন্ত কমিটি। শেষ দিনে উপনির্বাচনের পাঁচজন প্রার্থী, ১৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, বিজিবি ও র‌্যাবের কমান্ডিং কর্মকর্তা দুই কর্মকর্তা, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এবং গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার তাদের নিজ নিজ বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তিনদিনে কেন্দ্র সংশ্লিষ্টদের শুনানি গ্রহণ করেন ইসির গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ এবং দুই সদস্য যুগ্মসচিব মো. কামাল উদ্দিন বিশ্বাস ও মো. শাহেদুন্নবী চৌধুরী। 

শুনানিতে অংশ নিয়ে উপনির্বাচনের পাঁচ প্রার্থী তাদের লিখিত বক্তব্য তদন্ত কমিটির কাছে জমা দিয়েছেন বলে জানান। শুনানিতে অংশ নিয়ে ফিরে যাবার সময় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মাহমুদ হাসান রিপন গাইবান্ধা-৫ আসনের নির্বাচন সুষ্ঠ হয়েছে এমন দাবী করে বলেন, যে ৫১ কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ বন্ধ করা হয়েছিল সেগুলো বাদে বাকী ৯৪ কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণার দাবী করেছি। আশা করছি যৌতিক এ দাবী নির্বাচন কমিশন মেনে নিবে। 

জাতীয় পার্টির প্রার্থী গোলাম শহীদ রঞ্জু বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন বন্ধ ও তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই। তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত দিবেন এমনটা আশা করি। কমিশনের প্রতি আমাদের আস্থা আছে। 

বিকল্পধারার প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম তদন্ত কমিটির কাছে অনিয়মের অভিযোগে ভোট বন্ধ করা ৫১ কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও অনিয়ম বিশৃঙ্খলার সাথে জড়িতদের শাস্তির দাবী জানিয়েছেন বলে জানান। এছাড়া স্বতন্ত্র দুই প্রার্থী নাহিদুজ্জামান নিশাদ (আপেল) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ মাহবুবুর রহমান (ট্রাক) বলেন, নির্বাচনে যা ঘটেছে তা গণমাধ্যমকর্মীসহ সবাই দেখেছে। তদন্ত কমিটি আমাদের কাছে যা জানতে চেয়েছে আমরা তা জানিয়েছি। আমরা এই এলাকার উন্নয়নের জন্য দ্রæত এই আসনে নির্বাচন দাবী করি।

গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ভোটগ্রহণের দিন আমাদের সার্বিক পরিস্থিতি জানতে চেয়েছিল তদন্ত কমিটি। আমরা আমাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেছি। 

গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মো. অলিউর রহমান বলেন, গত ১২ অক্টোবর গাইবান্ধা-৫ আসনের উপনির্বাচন বন্ধের প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি কাজ করছে। এই কমিটি পর্যায়ক্রমে সকলকে ডেকেছেন। তারই অংশ হিসেবে আমাকে ও পুলিশ সুপারকে এখানে ডেকেছে। আমাদের কাছে তারা আইনশৃঙ্খলাসহ অনেকগুলো বিষয় জানতে চেয়েছিলো। আমরা আমাদের মৌখিক ও লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেছি। আমরা যেসব ভোট কেন্দ্র দেখেছি সেখানে শান্তিপূর্ণ অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চলছিলো। সিসি ক্যামেরা মাধ্যমে ভোট কক্ষের বিষয়টি নির্বাচন কমিশন চিহ্নিত করেছে। সে বিষয়ে তারাই বলতে পারবেন। আমরা মাঠ প্রশাসনের লোকজন সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করেছি।

তদন্ত কমিটির প্রধান ও বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ বলেন, আজ (বৃহস্পতিবার) তদন্ত শেষ করলাম। আমরা ৬৮৫ জনকে ডেকেছিলাম কিছু এজেন্ট না আসায় ৬২২ জনের বক্তব্য গ্রহণ করেছি। যারা উপস্থিত হননি তারা সবাই বিভিন্ন প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট। তদন্তে কি পেলেন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কি পেলাম তা নির্বাচন কমিশনের বাহিরে বলা যাবে না। তদন্তে যেসব পর্যবেক্ষণ ও রিপোর্ট পেয়েছি তা আগামী সোমবার নির্বাচন কমিশনে দাখিল করবো। তিনি আরও বলেন, তদন্তকালে আমাদের কোন সমস্যা সৃষ্টি হয়নি।

এরআগে গত ১৩ অক্টোবর গাইবান্ধা-৫ আসনের উপ-নির্বাচনে অনিয়মের তদন্তে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে নির্বাচন কমিশন। কমিটির কর্মকর্তারা হচ্ছেন, আহবায়ক বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ, সদস্য সচিব মো. শাহেদুন্নবী চৌধুরী এবং সদস্য যুগ্ম সচিব কামাল উদ্দিন বিশ্বাস। প্রধান নির্বাচন কশিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল এ কমিটি গঠন করেন। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। 

গত ১২ অক্টোবর সকাল আটটায় গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনের উপ-নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ওইদিন দুপুরে  মোট পাঁচজন প্রার্থীর মধ্যে চারজন প্রার্থী ভোটবর্জন করেন। এরপর ঢাকা থেকে সিসিটিভি ক্যামেরায় গোপন বুথে ঢুকে ভোট নেওয়াসহ নানা অনিয়ম দেখে নির্বাচন কমিশন প্রথমে ৪৪টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করে। এরপর দুপুর দুইটার দিকে উপ-নির্বাচন বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

তদন্ত কমিটি এর আগে গত মঙ্গলবার ফুলছড়ির ১৩৬ জন, বুধবার সাঘাটা উপজেলার ৫২২ জন এবং আজ বৃহস্পতিবার গাইবান্ধা সার্কিট হাউজে ২৭ জনের শুনানি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গাইবান্ধা-৫ আসনটি ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলা নিয়ে গঠিত। উপ-নির্বাচনে সাঘাটা উপজেলায় ৮৮টি এবং ফুলছড়ি উপজেলায় ৫৭টিসহ ১৪৫টি কেন্দ্রে ৯৫২টি ভোটকক্ষ স্থাপন করা হয়েছিল।

সাঘাটা উপজেলার ১০টি ও ফুলছড়ি উপজেলার সাতটিসহ ১৭টি ইউনিয়নে ভোটার রয়েছে তিন লাখ ৩৯ হাজার ৭৪৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৬৯ হাজার ৫৮৩ এবং নারী ভোটার এক লাখ ৭০ হাজার ১৬০।

গত জুলাইয়ে জাতীয় সংসদের সাবেক ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়ার মৃত্যুতে গাইবান্ধা-৫ আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। আগামী ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে এই উপ-নির্বাচনের শেষ করা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
 

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়