• মাধুকর প্রতিনিধি
  • তারিখঃ ৭-১০-২০২২, সময়ঃ বিকাল ০৩:৩১
  • ১০৫ বার দেখা হয়েছে

গাইবান্ধা-৫ উপনির্বাচন ইভিএম নিয়ে দ্বিধায় ফুলছড়ি  সাঘাটার ভোটাররা

গাইবান্ধা-৫ উপনির্বাচন ইভিএম নিয়ে দ্বিধায় ফুলছড়ি  সাঘাটার ভোটাররা

ভবতোষ রায় মনা ►
উপনির্বাচনের উত্তাপে সরগরম হয়ে উঠেছে গাইবান্ধা-৫ আসনের সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলা। আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, বিকল্পধারা ও স্বতন্ত্র পার্থীসহ মোট ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বনিদ্বতা করছেন এ আসনে। নির্বাচনী মাঠে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী এগিয়ে থাকলেও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী প্রত্যক প্রার্থী। এই প্রথম গাইবান্ধায় ইভিএমে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাওয়ায় ভোটররা কিছুটা দ্বিধান্নিত। 

জাতীয় সংসদের সদ্য প্রয়াত ডেপুটি স্পিকার এ্যাড. ফজলে রাব্বী মিয়ার মৃত্যুতে গত ২৪শে জুলাই শুন্য হয় গাইবান্ধা-৫ আসন। আগামী ১২ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত গাইবান্ধা-৫ আসনে ইভিএমের মাধ্যমে উপ-নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সাঘাটা ও ফুলছড়ি দুই উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত গাইবান্ধা-৫ আসন। দুই উপজেলার ১৫৪টি কেন্দ্রে ইভিএম এর মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হবে। সাঘাটা উপজেলার ২ লক্ষ ২৫ হাজার ৭০ জন এবং ফুলছড়ি উপজেলার ১ লক্ষ ১৪ হাজার ৬ শত ৭৬ জনসহ মোট ৩ লক্ষ ৩৯ হাজার ৭ শত ৪৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

এ উপনির্বাচনকে ঘিরে সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার ভোটারদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যপক উৎসাহ উদ্দীপনা। পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে গেছে নির্বাচনী এলাকা। মাইক বাজিয়ে চলছে নির্বাচনী প্রচারনা। রাস্তায় রাস্তায় ও ঘরের দুয়ারে দুয়ারে প্রার্থীরা দেখা করছে ভোটাদের সাথে। প্রার্থনা করছে তাদের পক্ষে ভোট। সমান তালে চলছে নির্বাচনি সমাবেশ আর পথসভা। নির্বাচনে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বনিদ্বতা করলেও লড়াই হবে মূলত আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীর মাঝে। তবে ভোটের মাঠে রয়েছে বাকি প্রার্থীরাও। বিকল্পধারা বাংলাদেশের কুলা প্রতিকের প্রার্থী মো.জাহাঙ্গীর আলম এবং দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ মো. মাহবুবুর রহমান রহমান পেয়েছেন ট্রাক প্রতিক ও নাহিদুজ্জামান নিশাত পেয়েছেন আপেল প্রতিক। তারাও চষে বেড়াচ্ছেন ফুলছড়ি-সাঘাটা উপজেলার আনাচে-কানাচে।

এই প্রথম গাইবান্ধায় কোনো আসনে ইভিএম-এর মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হচ্ছে সংসদ নির্বাচন। তাই ভোটারদের মাঝে রয়েছে ইভিএম নিয়ে নানান শংকা। কিভাবে ইভিএম-এ ভোট দিতে হবে তা না জানায় অনেক ভোটার আছেন চিন্তায়। তাদের দাবী দ্রুতই তাদেরকে ইভিএম-এ ভোট দেবার পদ্ধতি শিখিয়ে দিতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেবে নির্বাচন কমিশন।

ফুলছড়ি ইউনিয়নের চর টেংরাকান্দি গ্রামের এমএ মান্নান বলেন, আমরা শুনতেছি এবার ইভিএমে ভোট হবে। আমরা এলাকার অর্ধশিক্ষিত জনগণ এ ব্যাপারে বুঝি না, জানিনা, টেনিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়নি। যদিও সরকারিভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, কিন্তু এলাকার জনগণ ইভিএম সর্ম্পকে কোন ধারণা নাই। একই গ্রামের প্রবীন ভোটার শামছুল আলম জানান, ইভিএম সম্পর্কে আমাদের জনসচেতনতা নেই এই এলাকায়। এবারেই প্রথম ফুলছড়ি-সাঘাটায় ইভিএমে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সেজন্য ভোটের আগে সবাইকে ইভিএম সর্ম্পকে সচেতনতা করলে ভালো হতো।

ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়নের মধ্য উড়িয়া গ্রামের ভবেশ চন্দ্র শীল বলেন, ইভিএম সর্ম্পকে আমাদের কোন অভিজ্ঞতা নাই। ইভিএমে ভোট দিতে গেলে টেনিংয়ের দরকার। এখন পর্যন্ত আমরা ভোটাররা ইভিএমের কোন টেনিং প্রাপ্ত হয়নি। একই উপজেলার মদনেরপাড়া গ্রামের তরুণ ভোটার গাজী আরমান বলেন, আমরা যারা তরুণ ভোটার রয়েছি ফুলছড়ি-সাঘাটা উপজেলায়। তাদের জন্য ইভিএমে ভোট দেওয়া কোন কঠিন কাজ নয়। কিন্তু প্রবীন ব্যক্তি যারা রয়েছে তাদের জন্য ইভিএমে ভোট দেওয়াটা কষ্টকর। সেজন্য ভোটের আগেই তাদের কিভাবে ইভিএমে ভোট দিতে হয়, সেটা যদি শেখানো যেতে তাহলে কোন সমস্যা ফেস করতে হতো না। গজারিয়া গ্রামের বাউশি গ্রামের বাসন্তী রানী দাস বলেন, কিভাবে ইভিএম-এ ভোট দিতে হবে এ নিয়ে চিন্তায় আছি। বাসন্তীর দাবী দ্রুতই তাদেরকে ইভিএম-এ ভোট দেবার পদ্ধতি শিখিয়ে দিতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

স্বতন্ত্র প্রার্থী নাহিদুজ্জামান নিশাত বলেন, দু’ উপজেলা মিলে এ সংসদীয় আসনে ইভিএমে ভোট হচ্ছে এবার। জনগণ আগ্রহী, কারণ তারা অনেক দিন পর ভোট দিতে কেন্দ্রে যাবে। নিবার্চন কমিশন, স্থানীয় প্রশাসন চেষ্টা করছে এ নির্বাচনটা কিভাবে সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করা যায়। আশা করি ইভিএমে ভোট সুষ্ঠ হবে।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী এ্যাড. গোলাম শহীদ রঞ্জু বলেন, ইভিএমে আসলে মানুষের আস্থা নেই। সেজন্য জাতীয় পার্টি ইভিএমে ভোট করার পক্ষে ছিল না। তাই আমরা আল্লার উপর ভরসা রেখে, জনগণের ভোটের উপর ভরসা রেখে আগামীতে এই জোয়ারের মধ্যে দিয়েই আমরা বিজয় নিশ্চিত করবো। সেখানো যদি ইভিএম কিংবা অন্য কিছুর মাধ্যমে ফলাফল পাল্টানোর চেষ্টা করা হয়, তাহলে পার্টির হাইকমান্ড সিদ্ধান্ত দিয়েছে প্রয়োজনে ভবিষ্যে কোন জাতীয় নির্বাচনে আর অংশ গ্রহণ করবে না।

আওয়ামী লীগ প্রার্থী মাহমুদ হাসান রিপন বলেন, হ্যাঁ যেহেতু এবারেই প্রথম ইভিএমে ভোট গ্রহণ হবে, সেক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন বলেছেন, তারা সমস্ত এজেন্টদের প্রশিক্ষণ দিবে। আমি মনে করি কোন সমস্যা হবে না।

গাইবান্ধা জেলার রিটার্নিং অফিসার সাইফুল ইসলাম জানান, ইভিএম বিষয়ে দুইটি উপজেলায় মাইকিং, পোস্টার, বিভিন্ন ধরণের লিফলেট দ্বারা জনগণের মাঝে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছি। পাশাপাশি ভোটারদের স্ব-শরীরে উপস্থিতিতে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট প্রদানের পদ্ধতি এবং ভোটার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আমরা পরিচালিত করবো ৮ ও ১০ অক্টোবর।

নির্বাচন কমিশনার রাশেদা সুলতানা বলেন, নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্য যা যা করণীয় সব প্রদক্ষেপ আমরা নিয়েছি। আশা করি ১২ অক্টোবর ফুলছড়ি-সাঘাটার নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়