
অনলাইন ডেস্ক ►
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় এক ভয়াবহ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে এক প্রবাসীর পরিবারের পাঁচ সদস্যকে নিজ বাড়িতেই গলা কেটে হত্যা করেছে অজ্ঞাত পরিচয় র্দুবৃত্তরা। আজ শনিবার (৯ মে) সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রাউতকোনা গ্রামের বাসিন্দা মনির হোসেন বর্তমানে জীবিকার তাগিদে বিদেশে অবস্থান করছেন। বাড়িতে তার স্ত্রী ও সন্তানরা বসবাস করতেন। শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতের কোনো এক সময় একদল র্দুবৃত্ত প্রাচীর টপকে অথবা অন্য কোনোভাবে বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা অত্যন্ত নৃশংসভাবে পরিবারের ৫ সদস্যকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
শনিবার সকালে দীর্ঘক্ষণ বাড়িতে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীদের মনে সন্দেহ জাগে। পরে তারা বাড়ির ভেতরে গিয়ে রক্তাত্ব মরদেহগুলো পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে কাপাসিয়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এবং এলাকাটি ঘিরে ফেলে। নিহতদের মধ্যে প্রবাসী মনির হোসেনের স্ত্রী ও তার সন্তানরা রয়েছেন বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। তবে অন্য নিহতদের পরিচয় এবং তারা ঐ বাড়িতে কেন ছিলেন, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিহতদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শাহিনুর আলম গণমাধ্যমকে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই আমরা ঘটনাস্থলে আসি। নিহতের মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। কেন এই হত্যাকাণ্ড এবং এর পেছনে কাদের হাত রয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে আমরা রহস্য উদঘাটনে কাজ শুরু করেছি।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো: শরিফ উদ্দীন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের বলেন, একই পরিবারের পাঁচজনকে এভাবে হত্যা করা অত্যন্ত মর্মান্তিক। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগসহ (সিআইডি) একাধিক বিশেষ টিম তদন্তে নেমেছে। অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের পর রাউতকোনা গ্রামসহ পুরো কাপাসিয়া উপজেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার পর থেকে স্থানীয় মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে দোষীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।