Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ৪ ঘন্টা আগে
ফটো কার্ড

গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নাশকতার ছক: দেশজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও নিরাপত্তা জোরদার

গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নাশকতার ছক: দেশজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও নিরাপত্তা জোরদার

অনলাইন ডেস্ক ►

দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত উগ্রবাদী সংগঠনের ভয়াবহ নাশকতার ছক গোয়েন্দাদের নজরে এসেছে। এই চাঞ্চল্যকর তথ্যের পর নড়েচড়ে বসেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সম্ভাব্য বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোসহ সারা দেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য ইশতিয়াক আহম্মেদ সামী (সাংগঠনিক নাম আবু বক্কর ওরফে আবু মোহাম্মদ)-এর সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চাকরিচ্যুত দুই সদস্যের নিয়মিত যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাদের এই গোপন যোগাযোগ এবং তৎপরতা বিশ্লেষণ করে গোয়েন্দারা নিশ্চিত হয়েছেন যে, তারা দেশের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, উগ্রবাদী চক্রটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন সংবেদনশীল এলাকায় হামলার ছক কষছে। তাদের টার্গেট তালিকায় রয়েছে: জাতীয় সংসদ ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর স্থাপনা ও সদস্য ও অস্ত্রাগার, শাহবাগসহ জনবহুল এলাকা, বিনোদনকেন্দ্র এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ে নাশকতার ভয়।

গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, এই চক্রটি কেবল সাধারণ নাশকতা নয়, বরং শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণ, দেশীয় ধারালো অস্ত্র এবং অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের মতো ভয়ঙ্কর পদক্ষেপ নিতে পারে। এ ধরনের হামলার মাধ্যমে তারা দেশের আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটিয়ে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে চায় বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় পুলিশ সদর দপ্তর থেকে একটি জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। দেশের সব মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি এবং জেলা পুলিশ সুপারদের (এসপি) কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে:
১. জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সব স্থাপনায় নিরাপত্তা চৌকি ও নজরদারি বাড়ানো।
২. সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গতিবিধির ওপর নজর রাখা।
৩. গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় চেকপোস্ট জোরদার করা।
৪. যেকোনো প্রকার নাশকতা ঠেকাতে বাহিনীর সব ইউনিটকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা।

নিরাপত্তা বাহিনীর একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে গোয়েন্দা নজরদারি কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট উগ্রবাদী চক্রের সদস্যদের চিহ্নিত করে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। সাধারণ জনগণের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত। দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জনগণের জানমালের সুরক্ষা দিতে প্রশাসন যে কঠোর অবস্থানে রয়েছে, এই নির্দেশনাই তার প্রমাণ বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad