
গোবিন্দগঞ্জ প্রতিনিধি ►
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে স্কুলে যাওয়ার পথে ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে দিনভর ধর্ষণ করে অজ্ঞান অবস্থায় সড়কের পাশে ঝোপঝাড়ের ভিতর ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার রাতে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ওই শিশুটিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয়রা ও ওই শিশুর বাবা-মা ও স্বজনরা জানান, সোমবার সকালে ওই শিশু (শিক্ষার্থী) বিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে রওনা হয়।
এরপর বিকাল ৩টার দিকে স্কুল ছুটির পরও বাড়িতে ফিরে না আসায় স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। তার সহপাঠীদের জিজ্ঞেস করলে সে স্কুলে যায নাই বলে তারা জানান। সুত্রটি আরও জানান, সোমবার বিকাল ৫টার দিকে পথচারীরা উপজেলার তালতলা ইক্ষু কেন্দ্র সংলগ্ন সড়ক ও ঝোপঝাড়ের পাশে শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখতে পায়। খবর পেয়ে তার বাবা-মা তাকে উদ্ধার করে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত মেডিকেল অফিসার ডাঃ ফাহাদ আল আসাদ জানান, সন্ধ্যা ৬টার দিকে মেয়েটিকে এখানে নিয়ে আসা হয়। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। শিশুটির মা জানান, প্রাথমিক চিকিৎসার পর তার মেয়ের জ্ঞান ফিরলে সে জানায়, স্কুল যাওয়ার পথে সোমবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নের সামসপাড়া এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক থেকে দুই যুবক তাকে জোরপূর্বক একটি অটোরিকশায় তুলে নেয়। এরপর দূর্র্বৃত্তরা তাকে উপজেলার ফুলবাড়ী ইউনিয়নের ফুটানীবাজার এলাকার অজ্ঞাত কোন এক স্থানে নিয়ে যায়।
সেখানে তাকে জোর করে চেতনানাশক ওষুধ খাওয়ায়ে পাশবিক নির্যাতন চালায়। এরপর সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে আর কিছু বলতে পারেনা। গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, বিষয়টি জানার পর গুরুত্বসহ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও আটক করতে পুলিশ অভিযান অব্যাহত আছে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ কোন লিখিত অভিযোগ করেন নাই।