• মাধুকর প্রতিনিধি
  • তারিখঃ ১-১১-২০২২, সময়ঃ বিকাল ০৩:৪২
  • ৭১ বার দেখা হয়েছে

ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে সবজি চাষিরা

ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে সবজি চাষিরা

এ মান্নান আকন্দ, সুন্দরগঞ্জ ► 

নানা প্রতিকুলতার মধ্যে দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর তেমন সুবিধাজনক অবস্থায় ছিল না সবজি চাষিরা। করোনা, অসময়ে বন্যা, বৃষ্টি বাদল, নদী ভাঙন, প্রচন্ড তাপদহ, সার, বীজ ও কীটনাশকের চড়াদাম সবজি চাষিদের বাধার কারন হয়ে দাড়িয়ে ছিল। চলতি মৌসুমে ঘুড়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সবজি চাষিরা। বিশেষ করে উপজেলার তিস্তা নদীর চরাঞ্চলের কৃষকরা আগাম সবজি চাষাবাদ করে চড়াদামে বাজারজাত করতে পেয়ে অনেক খুশি।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে ফিরে দেখা গেছে, ইতিমধ্যে সবজি চাষিরা, লাউ, সিম, বেগুন, করলা, মুলা, পিয়াঁজ, মরিচ, কফি, ধনেপাতাসহ শীতকালিন শাকসবজি পুরাদমে  চাষাবাদ শুরু করেছে। অনেক কৃষক আগাম লাউ, সিম, বেগুন, মুলা শীতকালিন শাকসবজি বিক্রি শুরু করে করেছে। বাজারদর ভাল হওয়ায় অনেক খুশি কৃষকরা। বর্তমান বাজারে প্রতিকেজি বেগুন ৪০ টাকা, সিম ১০০ টাকা, মুলা ৩০ টাকা, লাউ ছোট বড় ৭০ হতে ১০০টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। 

উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৮০০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষাবাদ হয়েছে। এর বেশিভাগ চরাঞ্চলে। মাঠ পর্যায়ের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তারা প্রতিনিয়ত সবজি চাষিদের পরামর্শ প্রদান করে যাচ্ছে।
উপজেলার শান্তিরাম ইউনিয়নের পাঁচগাছি শান্তিরাম ক্ষত্রিয়পাড়া গ্রামের সবজি চাষি আলম মিয়া জানান, তিনি এক বিঘা জমিতে আগাম বেগুন চাষ করেছে। ইতিমধ্যে বেগুন বাজারজাত করতে শুরু করেছে।

এক বিঘা জমিতে সবমিলে এ পর্যন্ত তার খরচ হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা। তিনি আশা করছেন প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ না হলে প্রায় ২ হতে ৩ লাখ টাকার বেগুন বিক্রি করতে পারবেন তিনি। তিনি বলেন সার ও কীটনাশকের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেকটা হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন। তবে বাজারদর ভাল পাওয়ায় তিনি খুশি। তিনি আরও বলেন মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাগন প্রতিনিয়ত তাকে পরামর্শ প্রদান করে যাচেছ।

শান্তিরাম ব্লকের উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন জানান, আলম মিয়া একজন সফল সবজি চাষিল সে দীর্ঘদিন ধরে মৌসুমি সবজি চাষাবাদ করে থাকেন। আগাম বেগুন চাষ করে তিনি ওই এলাকায় সারা জাগিয়েছেন। তার সবজি চাষাবাদ দেখে এখন ওই গ্রামে অনেকে সবজি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। 

উপজেলা কৃষি অফিসার রাশিদুল কবির জানান, কৃষকরা এখন ধান, গম ভূট্টার পাশাপাশি বেশি বেশি সবজি চাষাবাদে আগ্রহী হয়ে উঠছে। কারন সবজি ক্ষেত প্রায় ৬ মাস আয় বধক হিসেবে কাজ করে। তাছাড়া অল্প খরচে অধিক লাভ এখন সবজি চাষে। বর্তমান বাজারদর মোতাবেক সবজি চাষাবাদে অনেক লাভবান হচ্ছে কৃষকরা। বিশেষ করে উপজেলার তিস্তার চরাঞ্চলের কৃষকদের উৎপাদিত সবজি এলাকার চাহিদা মিটিয়ে এখন এলাকার বাহিরে রপ্তানি করছে।   

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়