Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ২ ঘন্টা আগে
  • ১৮ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

চীনের জ্বালানি রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্তে বাড়ল তেলের দাম

চীনের জ্বালানি রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্তে বাড়ল তেলের দাম

অনলাইন ডেস্ক ►
চীন জ্বালানি রপ্তানি বন্ধ করায় এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আরও সেনা ও বিমানবাহী রণতরি পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়ার খবরে শুক্রবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম সামান্য বেড়েছে। একই সঙ্গে ইউরোপের জরুরি ডিজেল মজুত বাজারে ছাড়ার জন্য দেশগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপের খবরও বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

শুক্রবার মধ্যরাতে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২৯ সেন্ট বা শূণ্য দশমিক ২৮ শতাংশ বেড়ে ১০২ দশমিক ৬০ ডলারে দাঁড়ায়। যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ২৭ সেন্ট বা শূণ্য দশমিক ২৯ শতাংশ বেড়ে ৯৩ দশমিক ১৪ ডলারে ওঠে।

এর আগে বৃহস্পতিবার ব্রেন্টের দাম ৪ ডলারের বেশি এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ২ ডলারের বেশি বেড়েছিল। চীনের জ্বালানি রপ্তানি বন্ধের খবর এবং যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে আরও সেনা ও বিমানবাহী রণতরি পাঠাচ্ছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এমন প্রতিবেদনের পর বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কায় বাজারে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

চলতি সপ্তাহে ব্রেন্টের দাম এখন পর্যন্ত ১ দশমিক ৯৩ শতাংশ কমেছে। তবে সেপ্টেম্বরে ব্রেন্টের দাম সামগ্রিকভাবে ১৪ শতাংশ বেড়েছিল। একই সময়ে গত মাসে ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়েছে প্রায় ৪ শতাংশ।

কেসিএম ট্রেডের প্রধান বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, চলতি সপ্তাহে বাজারে বিভিন্ন ধরনের পরস্পরবিরোধী সংকেত দেখা যাচ্ছে। বৃহস্পতিবারের বড় ধরনের ওঠানামার পর বিনিয়োগকারীরা এখন কিছুটা বিরতি নিচ্ছেন।

তিনি বলেন, সৌদি আরবের তেল রপ্তানির পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তিদায়ক হলেও উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে আরও একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরি পাঠানোর খবর এবং চীনের পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানি কমানোর সিদ্ধান্ত সেই স্বস্তিকে অনেকটাই ভারসাম্যহীন করে দিচ্ছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তৃতীয় একটি বিমানবাহী রণতরি এবং আরও ১০ হাজারের মতো সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর হামলা আবার শুরু করবেন কি না, তা নিয়ে ভাবছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, এখন তাকে একটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ইরান হয় ‘ন্যায্য একটি চুক্তিতে’ সম্মত হবে, নতুবা ‘আর অস্তিত্ব থাকবে না’।

এদিকে চীন জ্বালানি রপ্তানিতে নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপ করায় বাজারে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর মার্চে চীন জ্বালানি রপ্তানি সীমিত করেছিল। জুলাইয়ে কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করা হলেও ডিজেল, পেট্রল ও উড়োজাহাজের জ্বালানি রপ্তানি মাসভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ করছে বেইজিং।

সূত্রগুলোর বরাতে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার থেকে চীনে এক সপ্তাহের সরকারি ছুটি শুরু হলেও অক্টোবর মাসে হংকং ও ম্যাকাও ছাড়া অন্য অঞ্চলে জ্বালানি রপ্তানির অনুমোদন বড় পরিশোধনাগারগুলোকে দেওয়া হয়নি। ৭ অক্টোবর ছুটি শেষ হওয়ার পর রপ্তানির অনুমতি আবার দেওয়া হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

অন্যদিকে বৈশ্বিক জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার চাপ কমাতে জার্মানি ও ফ্রান্সসহ ইউরোপের দেশগুলোকে জরুরি ডিজেল মজুত বাজারে ছাড়তে বলেছে ট্রাম্প প্রশাসন। তিনটি সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, আগামী ছয় মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে ১২ কোটি ব্যারেল ডিজেল বাজারে ছাড়ার অনুরোধ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

কেসিএম ট্রেডের প্রধান তেল বিশ্লেষক মুকেশ সাহদেভ বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলোকে মজুত তেল বাজারে ছাড়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের চাপও তেলের দাম বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি নিয়ন্ত্রণকারী উপাদান হিসেবে কাজ করছে।

ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছে বর্তমানে প্রায় ১০ কোটি ৯০ লাখ টন জরুরি অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি মজুত রয়েছে বলে জানা গেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad