Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ৪ ঘন্টা আগে
ফটো কার্ড

জুমার দিন কোরআন তিলাওয়াতে আলোকিত হোক মুমিনের হৃদয়

জুমার দিন কোরআন তিলাওয়াতে আলোকিত হোক মুমিনের হৃদয়

অনলাইন ডেস্ক ►
জুমার দিন মুমিনের জন্য সাপ্তাহিক ঈদের দিন। এ দিনের প্রতিটি মুহূর্তে রয়েছে আল্লাহর রহমত ও বরকতের বিশেষ সুযোগ। তাই এই সাপ্তাহের এই বিশেষ দিনে কোরআন তিলাওয়াত হতে পারে মুমিনের শ্রেষ্ঠ অবলম্বন। কেননা মানুষের হৃদয় যেমন অবহেলা, গুনাহ ও দুনিয়ামুখী ব্যস্ততায় ধীরে ধীরে কঠিন হয়ে যায়, তেমনি কোরআনের তিলাওয়াত সেই হৃদয়ে আবার ঈমানের আলো জ্বালিয়ে দেয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, জেনে রেখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয়।’ (সুরা : রাদ, আয়াত : ২৮) 

কোরআন তিলাওয়াত হৃদয়ের মরিচা দূর করে

মানুষের অন্তরেও মরিচা ধরে। গুনাহ, অহংকার, দুনিয়ার মোহ ও আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেলতা সেই মরিচাকে আরও ঘন করে তোলে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই এসব অন্তরে মরিচা ধরে, যেমন পানির সংস্পর্শে লোহায় মরিচা ধরে।” সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! তা দূর করার উপায় কী?’ তিনি বলেন, “মৃত্যুকে বেশি বেশি স্মরণ করা এবং কোরআন তিলাওয়াত করা।’ (বায়হাকি, মিশকাতুল মাসাবিহ)
জুমার দিনে সুরা কাহফ

জুমার দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো সুরা কাহফ তিলাওয়াত করা।

হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহফ পাঠ করবে, তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তী সময় পর্যন্ত একটি নূর আলোকিত থাকবে।’ (মুস্তাদরাকে হাকেম)
অর্থাৎ জুমার দিন সুরা কাহফ তিলাওয়াতের মাধ্যমে মুমিন আল্লাহর পক্ষ থেকে নূরের বিশেষ ফজিলত লাভের আশা করতে পারে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ইসলামি ফিকহের আলোচনায় জুমার দিন বলতে বৃহস্পতিবার সূর্যাস্তের পর থেকে শুক্রবার সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়কেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেই সুরা কাহফ তিলাওয়াত করা যায়।

দাজ্জালের ফিতনা থেকে সুরক্ষার আমল

সুরা কাহফের প্রথম দশ আয়াতের সঙ্গে দাজ্জালের ফিতনা থেকে সুরক্ষার বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। হজরত আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সূরা আল-কাহফের প্রথম দশ আয়াত মুখস্থ করবে, সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে সুরক্ষিত থাকবে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৮০৯) অন্য একটি বর্ণনায় সূরা কাহফের শেষ দশ আয়াতের কথাও এসেছে। তাই একজন মুসলমানের জন্য সম্ভব হলে সূরা কাহফের প্রথম ও শেষ দশ আয়াত মুখস্থ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। তবে এ ফজিলতকে শুধু মুখস্থ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আয়াতগুলোর অর্থ বোঝা ও শিক্ষা অনুযায়ী জীবন গড়ার চেষ্টা করাও জরুরি।

দেখে দেখে কোরআন পড়া নাকি মুখস্থ পড়া?

কোরআন মুখস্থ পড়া নিঃসন্দেহে মহৎ আমল। তবে কোরআন দেখে দেখে পড়ারও বিশেষ মর্যাদা রয়েছে—এমন কিছু বর্ণনা পাওয়া যায়। তবে এ বিষয়ে প্রচলিত ‘দেখে পড়লে মুখস্থ পড়ার দ্বিগুণ থেকে দুই হাজার গুণ পর্যন্ত’—এ বক্তব্যকে নিশ্চিত ও সহিহ হাদিস হিসেবে প্রচার করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা উচিত। মূল বিষয় হলো, কোরআন শুদ্ধভাবে, আদবের সঙ্গে, মনোযোগ দিয়ে এবং তাদাব্বুরের চেষ্টা করে পড়া। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করে, সালাত কায়েম করে এবং আমি তাদের যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে, তারা এমন ব্যবসার আশা করে যা কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।’ (সুরা : ফাতির, আয়াত : ২৯)

কোরআন অনুযায়ী জীবন গড়ার চেষ্টা করা


কোরআন নাজিল হয়েছে মানুষের জীবন পরিচালনার জন্য। তাই শুধু কণ্ঠে কোরআনের শব্দ উচ্চারণ করাই যথেষ্ট নয়; এর অর্থ বোঝা, শিক্ষা গ্রহণ করা এবং জীবনে বাস্তবায়ন করাই হলো কোরআনের প্রকৃত হক। আল্লাহ বলেন, ‘এটি একটি বরকতময় কিতাব, যা আমি তোমার প্রতি নাজিল করেছি, যাতে মানুষ এর আয়াতগুলো নিয়ে চিন্তা করে এবং বোধসম্পন্ন ব্যক্তিরা উপদেশ গ্রহণ করে।’ (সুরা : সোয়াদ, আয়াত : ২৯)

তাই জুমার দিনে সূরা কাহফ পড়ার পাশাপাশি এর অনুবাদ ও তাফসির পড়ার অভ্যাস করা যেতে পারে। এতে তিলাওয়াতের সঙ্গে সঙ্গে কোরআনের শিক্ষা হৃদয়ে গেঁথে যাবে।

জুমার দিন কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার সহজ রুটিন

১. বৃহস্পতিবার সূর্যাস্তের পর সুরা কাহফ তিলাওয়াত করা।
২. সুরা কাহফের প্রথম ও শেষ দশ আয়াত মুখস্থ করার চেষ্টা করা।
৩. শুক্রবার ফজরের পর কিছু সময় কোরআন তিলাওয়াত করা।
৪. সম্ভব হলে আয়াতগুলোর বাংলা অর্থ ও সংক্ষিপ্ত তাফসির পড়া।
৫. জুমার আগে বেশি বেশি দরুদ, জিকির ও দোয়া করা।
৬. কোরআন তিলাওয়াতের সময় তাড়াহুড়া না করে শুদ্ধ উচ্চারণ ও তাদাব্বুরের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া।
৭. সারা সপ্তাহে কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখার সংকল্প করা।

জুমার দিন শুধু নতুন পোশাক পরা, গোসল করা কিংবা মসজিদে গিয়ে জুমার নামাজ আদায়ের দিন নয়; এটি ঈমানকে নবায়ন করার দিন, অন্তরকে পরিশুদ্ধ করার দিন এবং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার দিন। এই দিনটিকে কোরআনের তিলাওয়াতে সাজিয়ে তোলা একজন মুমিনের জন্য অত্যন্ত সৌভাগ্যের বিষয়।

তাই আসুন, প্রতি বৃহস্পতিবার সূর্যাস্তের পর থেকে শুক্রবার সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়টুকুকে কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক নবায়নের সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করি। মোবাইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অপ্রয়োজনীয় ব্যস্ততা থেকে কিছুটা সময় সরিয়ে নিই আল্লাহর কালামের জন্য। কারণ দুনিয়ার ব্যস্ততা শেষ হয়ে যাবে, জীবনও একদিন শেষ হবে; কিন্তু কোরআনের সঙ্গে গড়ে তোলা সম্পর্কই আখিরাতের পথে আমাদের জন্য আলো হয়ে থাকবে। ইনশাআল্লাহ।

আল্লাহ তাআলা আমাদের কোরআন তিলাওয়াত, কোরআন বোঝা, কোরআন অনুযায়ী জীবন গড়া এবং জুমার দিনের বরকতময় আমলগুলো যথাযথভাবে পালন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad