Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ৩ ঘন্টা আগে
ফটো কার্ড

জুমার দিন সম্পর্কে মহানবী (সা.)-এর ভবিষ্যদ্বাণী

জুমার দিন সম্পর্কে মহানবী (সা.)-এর ভবিষ্যদ্বাণী

অনলাইন ডেস্ক ►
সপ্তাহের সাত দিনের মধ্যে জুমার দিন আল্লাহ তাআলার কাছে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও বরকতময়। এটি মুসলিম উম্মাহর সাপ্তাহিক ঈদের দিন। এই দিনেই আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে, পৃথিবীতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং কিয়ামতও সংঘটিত হবে জুমার দিনেই। তাই জুমার দিন শুধু একটি ইবাদতের দিন নয়; বরং এটি ঈমান, আত্মশুদ্ধি, ঐক্য ও আখিরাতের স্মরণে নিজেকে প্রস্তুত করার এক মহামূল্যবান সুযোগ। রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার দিনের ফজিলতের পাশাপাশি এ দিনের সঙ্গে সম্পর্কিত ভবিষ্যতের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনারও সংবাদ দিয়েছেন। এসব ভবিষ্যদ্বাণী মানুষের জন্য সতর্কবার্তা, যাতে তারা গাফিলতি ছেড়ে আল্লাহর পথে ফিরে আসে এবং কিয়ামতের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে।

১. কিয়ামত সংঘটিত হবে জুমার দিনেই
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে দিনগুলোর ওপর সূর্য উদিত হয়, তার মধ্যে সর্বোত্তম দিন হলো জুমার দিন। এ দিনেই আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এ দিনেই তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে, এ দিনেই তাঁকে জান্নাত থেকে বের করা হয়েছে এবং কিয়ামতও সংঘটিত হবে জুমার দিনেই।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৫৪)

এ হাদিস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, প্রতি জুমা কিয়ামতের একটি স্মারক। তাই প্রতিটি জুমাকে আখিরাতের প্রস্তুতির নতুন সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করা উচিত।

২. জুমার দিন এমন একটি সময় রয়েছে, যখন দোয়া কবুল হয়
নবী (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন কোনো মুসলিম বান্দা সালাতরত অবস্থায় আল্লাহর কাছে কল্যাণের জন্য দোয়া করলে আল্লাহ অবশ্যই তা কবুল করেন।’ এরপর তিনি হাতের ইশারায় বোঝালেন, সেই সময়টি খুবই অল্প।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৯৩৫; সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৮৫২)

আলেমদের অধিকাংশের মতে, এই সময়টি আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

৩. দাজ্জাল মদিনায় প্রবেশ করতে পারবে না
রাসুলুল্লাহ (সা.) ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, ‘মদিনার প্রতিটি প্রবেশপথে ফেরেশতা পাহারায় থাকবে। তাই সেখানে প্লেগ এবং দাজ্জাল প্রবেশ করতে পারবে না।

’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৮৮০)
আরো বর্ণিত হয়েছে, দাজ্জাল জুমার দিন মদিনার নিকটবর্তী এক লবণাক্ত প্রান্তরে অবস্থান করবে এবং শহরে প্রবেশ করতে ব্যর্থ হবে। এটি মহানবী (সা.)-এর একটি সুস্পষ্ট ভবিষ্যদ্বাণী, যা শেষ যুগের ঘটনাবলির অংশ।

৪. জুমার দিন বেশি বেশি দরুদ পাঠের নির্দেশ
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম দিন হলো জুমার দিন। অতএব এ দিনে আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো। কেননা তোমাদের দরুদ আমার কাছে পৌঁছানো হয়।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৭)

এ হাদিস অনুযায়ী জুমার দিনে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করা বিশেষ আমল।

৫. জুমার দিনের গুরুত্ব অবহেলা করলে অন্তর মোহরাঙ্কিত হয়ে যায়
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যারা অবহেলাবশত জুমা ত্যাগ করে, তারা যেন অবশ্যই বিরত হয়; অন্যথায় আল্লাহ তাদের অন্তরে মোহর মেরে দেবেন। অতঃপর তারা গাফিলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৮৬৫)
এটি ভবিষ্যৎ সম্পর্কে এক কঠোর সতর্কবার্তা। ধারাবাহিকভাবে জুমা পরিত্যাগ করলে মানুষের হৃদয় কঠিন হয়ে যায় এবং ঈমান দুর্বল হতে থাকে।

জুমার দিন শুধু একটি সাপ্তাহিক ছুটির দিন নয়; বরং এটি ঈমানকে নবায়ন, গুনাহ থেকে তাওবা এবং আখিরাতের প্রস্তুতির এক অনন্য সুযোগ। মহানবী (সা.) জুমার দিনকে কেন্দ্র করে যে ভবিষ্যদ্বাণীগুলো করেছেন, সেগুলো আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—একদিন কিয়ামত অবশ্যই সংঘটিত হবে, আর সেই দিনের জন্য প্রস্তুতিই একজন মুমিনের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

তাই আসুন, প্রতিটি জুমাকে জীবনের শেষ জুমা মনে করে আন্তরিক তাওবা করি, সালাতের প্রতি যত্নবান হই, বেশি বেশি দরুদ পাঠ করি, দোয়ায় মগ্ন থাকি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে সফল আখিরাতের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে জুমার মর্যাদা যথাযথভাবে উপলব্ধি করে তার হক আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad