Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ১৭ ঘন্টা আগে

টেপ টেনিসের অনবদ্য পারফরমেন্সে দেশ সেরাদের অন্যতম গাইবান্ধার কিং সুক্কুর

টেপ টেনিসের অনবদ্য পারফরমেন্সে দেশ সেরাদের অন্যতম গাইবান্ধার কিং সুক্কুর

উজ্জল চক্রবর্ত্তী ►

চাকরি করতেন ইমারত নির্মাণ শিল্প, গার্মেন্টেসে। মায়ের ক্যান্সার ধরা পড়লে তিনি বিচলিত হয়ে পড়েন। খেলেই মায়ের চিকিৎসা সহযোগিতাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেন তিনি। ঘটনাটি গাইবান্ধা সদর উপজেলার কুপতলা ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামে জন্ম নেওয়া রাসেল আহম্মেদ সুক্কুর এর। যিনি বর্তমানে কিং সুক্কুর নামে দেশ-বিদেশে অত্যন্ত পরিচিত। অসংখ্য ভক্তগুণগ্রাহীদের স্বপ্নের ব্যক্তিতে পরিণত কিং সুক্কুরের পুরো নাম মো. রাসেল আহম্মেদ সুক্কুর। কিং সুক্কুর মূলত টেপ টেনিস টুর্নামেন্টের প্রথিতযশা একজন খেলোয়াড়। ২০১৭-১৮ সাল থেকে তার ক্রিকেটে মনোনীবেশ। 

গাইবান্ধা ক্রিকেট কোচিং সেন্টারের হেড কোচ বাবলু খান তার ওস্তাদ। তার হাত ধরে এবং পরামর্শে কিং সুক্কুরের এগিয়ে চলা। ২০১৯ সালে দেশিয় টেপ টেনিস টিমে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে তার উচ্চ পর্যায়ের খেলা শুরু। স্বনামধন্য ব্যাটসম্যান কিং সুক্কুর বর্তমানে প্রতিটি সিজনে (বছরে) ১৫০-২০০টি ক্রিকেট ম্যাচ খেলেই গড়ে ৩০-৪০ লাখ টাকা আয় করেন। টেপ টেনিসে বিপিএল খেলাও তার অভূতপূর্ব অর্জন। দেশে আবাহনী, ওরিয়েন ক্লাবের হয়ে খেলেছেন। এছাড়া বিদেশে দুবাই, সৌদি আরব, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে খেলেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। 

২ ভাই ১ বোনের মধ্যে ছোট কিং সুক্কুর খেলার ক্ষেত্রে তার জীবনের এ পর্যন্ত অর্জন ১০০ এর অধিক সেঞ্চুরি। তাকে স্পন্সর করেছেন এমকেএস, এফ প্লাস পাকিস্তান, সেঞ্চুরী পাকিস্তান। তিনি ভক্ত ও ম্যাচ আয়োজকদের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে পেয়েছেন ৩টি বাইক, আই ফোন এবং একাধিকবার লক্ষাধিক টাকা। তিনি ব্যক্তি জীবনে ২ ছেলের পিতা। ৩০ বছর বয়সের মধ্যেই তিনি হজ্ব করেছেন। কয়েকটি দরিদ্র পরিবারের ভরণপোষণও তিনি নির্বাহ করেন। এছাড়া গাইবান্ধার কুপতলা ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের পৈতৃক জমিতে একটি বাড়ি এবং নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায় নিজস্ব বাড়ি তৈরি করেছেন। কিং সুক্কুর চান গাইবান্ধার জন্য কিছু একটা করতে। তার আকাঙ্খা গাইবান্ধার ক্রিকেট কোচিং সেন্টারকে আরও গতিশীল করে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। 

কিং সুক্কুর বলেন, আমার আশা ছিলো ভালো খেলবো। খেলেছি এবং খেলছি। আমার মায়ের চিকিৎসার জন্য অর্থ উপার্জনের লক্ষ্যেই হার্ডওয়ার্ক করে কুমিল্লার এক বন্ধুর সহযোগিতায় টেপটেনিস ক্রিকেট ম্যাচে অংশ নেওয়া এবং প্রথমবারেই বাজিমাত। সেরা একটি ম্যাচ উপহার দেওয়ার পর আর ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। তিনি বলেন, মা-বাবা, ওস্তাদ এবং বন্ধুবান্ধবদের অনুপ্রেরণায় তার এগিয়ে চলা। তিনি বিশে^ টেপ টেনিসের জগতে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করে চলেছেন। 

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad