• মাধুকর প্রতিনিধি
  • তারিখঃ ১১-১-২০২৩, সময়ঃ সকাল ০৯:১৩
  • ১১০ বার দেখা হয়েছে

ঠান্ডাত হাত-পা কোকরা নাগি আসবার নচে

ঠান্ডাত হাত-পা কোকরা নাগি আসবার নচে

ভবতোষ রায় মনা  ►

ঠান্ডাত হাত-পা কোকরা নাগি আসবার নচে। শুনছি সরকার কম্বল দিচে। কিন্তু হামার ভাগ্যে সে কম্বল জোটে নাই। কাক কাক দেয় হামরা টেরও পাই নাই, এভাবে কখাগুলো বলছেন বাজে ফুলছড়ি চরের আজিজার রহমনা। চরাঞ্চলের সার্বিক অবস্থা খুবই ভয়াবহ। শুধু শীতবস্ত্রের জন্য নয়, কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় এবং কোনরূপ খাদ্য সহায়তা না পাওয়ায় তাদের এখন দুর্দশা চরমে পৌছেছে। 

কনকনে ঠান্ডা এবং শৈত্যপ্রবাহের কারণে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার সাত ইউনিয়নের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অসহায় দরিদ্র দু:স্থ মানুষেরা শীতবস্ত্রের অভাবে চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। হিমেল হাওয়া এবং ঠান্ডার কারণে দিনমজুররা কাজে যেতে পারছে না। অন্যান্য বছর যেভাবে দরিদ্র অসহায় মানুষদের শীতবস্ত্র দিয়ে সহায়তা দিতে বিভিন্ন এনজিও, সংগঠন এবং সরকারি পর্যায়ে শীতবস্ত্র এবং খাদ্য সহায়তা দেয়া হতো এবারে সেরকম কোন উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ফলে নিরন্ন দিন কাটাচ্ছে অনেকে। বিশেষ করে চর এলাকায় এই অবস্থা চলছে। 

গত কয়েক ধরে ঘন কুয়াশা আর চারিদিকে বইছে হিমেল হাওয়া। এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। সবথেকে বেশি কষ্ট হচ্ছে তৃণমূল মানুষের। সন্ধ্যার পর থেকে ছিন্নমূল অসহায় মানুষেরা ফুটপাতে খড়-কুটায় আগুন জ্বালিয়ে নিবারণ করছে শীত। এ পরিস্থিতিতে সরকারিভাবে না হলেও স্থানীয়রা ব্যক্তিগত উদ্যোগে গরিব অসহায় মানুষদের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরণ করছে।

সন্ধ্যা থেকে পরদিন আধাবেলা পর্যন্ত থাকছে প্রচ- শীতের দাপট। কুয়াশার কারণে দিনের বেলায় যানবাহনগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে। নৌপথে বিকেলের পর নৌচলাচল বন্ধ থাকছে ঘনকুয়াশার কারণে। প্রচ- শীতের কারণে সন্ধ্যার পর সাধারণ মানুষ গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছাড়া কেউ ঘর থেকে বেরোচ্ছে না। শীত নিবারণের জন্য গরম কাপড় কিনতে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষেরা ভিড় করছে ফুটপাতের দোকানগুলো। 

ফুলছড়ি উপজেলার ফুলছড়ি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আজহারুল হান্নান জানান, এ পর্যন্ত সরকারিভাবে ৫শ’ পিস কম্বল পাওয়া গেছে। তা দরিদ্রদের মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। কয়েক হাজার দরিদ্র মানুষ শীতবস্ত্রের অভাবে চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। 

একই কথা বলেছেন এরেন্ডবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: আব্দুল মান্নান। তিনি বলেন, সামান্য বরাদ্দকৃত কম্বলে ইউনিয়নের দরিদ্র মানুষের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, তার এলাকায় নদী ভাঙ্গা মানুষের সংখ্যা বেশি। তারা চরম দুদর্শার মধ্যে দিন কাটায়। তার উপর এবারের শীত তাদের আরও কাহিল করে ফেলেছে। 

অপরদিকে গাইবান্ধার মূলভুমির অবস্থাও শীতের কারণে জবুথবু অবস্থা। রাস্তাঘাট-হাট বাজার এবং শহরে লোক চলাচল কমে গেছে। ব্যবসা-বাণিজ্যে এর প্রভাব পড়েছে। তবে নি¤œ বিত্ত মানুষদের একমাত্র ভরসা গাউন মার্কেটের পুরনো শীতের কাপড়। সেখানে উপচে পড়া মানুষের ভীড়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে শিশু এবং বৃদ্ধ রোগীরা ভর্তি হচ্ছে। শ্বাস কষ্ট, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া জনিত রোগের সংখ্যা বেশি। এব্যাপারে সিভিল সার্জন ডা: আব্দুল্লাহিল মাফি জানান, গত কয়েকদিনের প্রবল শীতে হাসপাতালগুলোতে রোগীর সংখ্যা দশগুণেরও বেশি বেড়ে গেছে। ফলে এসব রোগী নিয়ে চিকিৎসক এবং নার্সরা হিমশিম খাচ্ছে। 
 

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়