• মাধুকর প্রতিনিধি
  • তারিখঃ ২৪-১০-২০২২, সময়ঃ সকাল ০৯:১৮
  • ৪৯ বার দেখা হয়েছে

দিনাজপুরে আগাম জাতের আলুর চাষ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন আলু চাষীরা

দিনাজপুরে আগাম জাতের আলুর চাষ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন আলু চাষীরা

দিনাজপুর প্রতিনিধি ►

দিনাজপুরে আগাম জাতের আলুর চাষ নিয়ে অনেকটাই ব্যস্ত সময় পার করছেন আলু চাষীরা । যদি এ বছর আগাম জাতের আলুর বীজের দাম বেশি। রাসায়নিক সার, ডিজেল, শ্রমিকের মজুরী, হালচাষসহ কৃষি পণ্যের দাম বেশি হওয়ায় আলু চাষে তেমন লাভ না, অনেকটাই হতাশ আলু চাষীরা। নতুন ভাবে এবছর কিছু লাভের আবারও এক বুক স্বপ্ন নিয়ে আগাম জাতের আলু চাষ করছে চাষীরা।

দিনাজপুর সদরের ঘুঘুডাঙ্গা, মাঝাডাঙ্গা, চকচকাসহ পূণর্ভবা নদীর তীর ঘেষা কালীতলা গ্রামের উচু জমিতে চলতে আগাম জাতের আলু চাষে ব্যস্ত চাষীরা। দিনাজপুর সদর উপজেলার উলিপুর ও মাঝাডাঙ্গা এলাকা ঘুরে দেখা যায়, আলুর জমি প্রস্তুত করার পর সকাল থেকে জমিতে লাইন তৈরি করে তাতে আলুবীজ বপন করছেন কৃষকরা। কেউ আবার আলুর জমিতে গোবর সার জমিতে দিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ আলু জমি হালচাষ করছেন। 

চকচকা গ্রামের আলু চাষী হরিপদ রায় জানান, স¤প্রতি অতিবৃষ্টির কারণে জমিতে পানি জমে ছিল। ফলে নতুন করে আবার জমি তৈরি করতে হয়েছে। এ বছর ১ বিঘা ৫ কাঠা জমিতে আগাম জাতের আলু আবাদ করেছেন। প্রতি বিঘায় আলু চাষ করতে তার খরচ হয়েছে ৩০-৩২ হাজার টাকা। প্রতি কেজি ২০ টাকা দরে বিক্রি করতে পারলে বিঘাপ্রতি ৫০-৬০ হাজার টাকার আলু বিক্রি করতে পারবেন তিনি।

একই গ্রামের আলু চাষী ময়নুল ইসলাম বলেন, কাজের লোক তেমন পাওয়া যায় না। তাই নিজের ছেলে মেয়ে ও স্ত্রীসহ আলুর বোপন করতে এসেছি। প্রতি বিঘা জমিতে আলুর বীজ লাগতেছে ৬ বস্তা  আলু। অর্থাত প্রায় প্রতি বস্তায় আলুর দাম ১ হাজার ৫ শত টাকা। ইউনিয়া সার জৈব সার হাল চাষ খরচ বেশি হওয়ায় এ বছর খরচ একটু বেশি হচ্ছে।  

উলিপুর গ্রামে আলু চাষী আব্দুর রশিদ জানান, বাজারে নতুন আলুর ভালো দাম পাওয়া যায়। বীজ বোপনের পর ৬০-৬৫ দিনের মধ্যে ফসল তোলা যায়। স্বল্পসময়ে বেশি লাভের আশায় কৃষকেরা আউশ ধান ওঠার পর পরই আলু আবাদে মাঠে নেমেছেন। নতুন আলু ওঠার সময় বাজারে চাহিদা বেশি থাকায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা আসেন আগাম আলু কিনতে। প্রতি বছর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় আগাম আলু বিক্রি করেন তারা।

জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার আলোকঝাড়ি ইউনিয়নের কৃষক গোলাম মোস্তফা তার ২০ কাঠা জমিতে আগাম জাতের বারি আলু ৭ চাষ করেছেন। তার আলুেেত গিয়ে দেখা যায়, কয়েকজন শ্রমিক নিয়ে লাইন করা আলুগাছের গোড়ায় মাটি দিচ্ছেন। কেউ পানি সেচের জন্য কোদাল দিয়ে তৈরি করছেন নালা। তিনি জানান, আগাম আলুতে খরচ বেশি হলেও বৈরী আবহাওয়া ও রোগবালাইয়ের কবলে না পড়লে ভালো লাভ হয়।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দিনাজপুরের আলুচাষীরা প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ জমিতে আগাম আলু চাষ করেন। বিগত বছরগুলোতে ভালো লাভ হওয়ায় আগাম আলু আবাদে আরো বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছেন এ জেলার চাষীরা। সাধারণত অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে নভেম্বরের প্রথম ১০ দিন পর্যন্ত জেলায় আগাম আলুবীজ বপন করা হয়। চলতি মৌসুমে দিনাজপুর জেলায় ৫০ হাজার ৫৭৮ হেক্টর আলু আবাদ ও ১১ লাখ ৯৫ হাজার ১৭৯ টন ফলনের ল্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নুরুজ্জামান জানান, আগাম আলু আবাদের জন্য প্রয়োজন অপোকৃত উঁচু জমি। যাতে আলুেেত বৃষ্টির পানি সহজে জমতে না পারে। দিনাজপুর জেলায় অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে গম ও ভুট্টার আবাদ হয়। কৃষকরা আলুর পর ওই জমিতে ভুট্টাসহ অন্য ফসলের আবাদ করেন। এরই মধ্যে ১০ হাজার ৪০০ হেক্টর আগাম জাতের আলু চাষ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে আগাম আলুর আবাদ কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। কিছুদিন আগের অতিবৃষ্টির কারণে অনেক কৃষকের আলুতে নষ্ট হয়েছে। সেসব কৃষক পুনরায় জমি তৈরি করে আলুবীজ বপন করছেন।

তিনি আরো জানান, আগাম আলুর জমিতে এমনিতেই প্রচুর পরিমাণে সার থাকে, পাশাপাশি আলু তোলার পর আলুগাছও সারে পরিণত হয়। ফলে ওই জমিতে পরবর্তী আবাদের জন্য খুব একটা সারের প্রয়োজন হয় না। ফলে আগাম আলু চাষে কৃষক দুই দিক থেকে লাভবান হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়