• মাধুকর প্রতিনিধি
  • তারিখঃ ১৬-১১-২০২২, সময়ঃ সকাল ১০:০৫
  • ৭৬ বার দেখা হয়েছে

দিনাজপুরে আলুর ক্ষেত নষ্ট করে নদী খনন জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে খনন কাজ বন্ধ

দিনাজপুরে আলুর ক্ষেত নষ্ট করে নদী খনন জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে খনন কাজ বন্ধ

সুলতান মাহমুদ, দিনাজপুর  ►

দিনাজপুর সদরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত পূনর্ভবা নদী পূর্ণভবা নদী খননের কাজ শুরু করার পূর্বেই উঠতি আলুর ফসল  নষ্ট করে বাধ নির্মান করায় চাষীদের ক্ষোভ। আলুর ক্ষেত নষ্ট করার প্রতিবাদে অভিযোগ করায় সাময়িক ভাবে নদী খনরের কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ জেলা প্রশাসকের। 
 
মঙ্গলবার দুপুরে দিনাজপুর সদরের উঠতি আলুর ক্ষেত নষ্ট আলু চাষিরা দিনাজপুর জেলা প্রশাসক নিকট পূণর্ভবা নদীর খনন কাজ সাময়িক বন্ধ রাখার জন্য আবেদন করেন। 

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সদর উপজেলার উলিপুর, মহব্বতপুর ও খাড়িপাড়ার পার্শ্ব দিয়ে পূণর্ভবা নদী প্রবাহিত হয়েছে। সোমবার প্রায় এক বিঘা জমির আলুর ক্ষেত নষ্ট করে নদীর বাধ নির্মানের কাজ শুরু করে বিআই ডাব্লিউআইটিএ কর্তৃপক্ষ। এত করে গ্রামের ৫ শতাধিক আলু চাষীরা একত্রিত হয়ে প্রতিবাদ ও জেলা প্রশাসকের নিকট অভিযোগ দায়ের করেন। নদীর তীর কয়েক শত বিঘা আলুর ক্ষেতের জমিতে আলুর গাছ বাতাসে দোল খাচ্ছে। আলুর লাগানোর বয়স প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ দিন বয়স হয়েছে। আর ৩০ থেকে ৩৫ দিনপরই এই আলুর জমি থেকে আলু মাড়াই করা যাবে। বিস্তৃত নদীর তীর ঘেষা শত শত বিঘা আলুর জমি নষ্ট করে নদীর বাধ নির্মানের কাজ শুরু করায় আলু আবাদকারী চাষীরা উঠতি আলুর ফসল রক্ষার্থে সাময়িক ভাবে নদী খনন কাজ বন্ধ রাখার জন্য অনুরোধ জানিয়ে জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদন করেন। ফলে সাথে সাথে জেলা প্রশাসক নদী খননের কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদান করেন । 

উলিপুর গ্রামের ক্ষতিগ্রস্থ আলু চাষী মকছেদুল ইসলাম বলেন, বেসরকারী সংস্থা (এনজিও) থেকে ঋন গ্রহণ করে আমি এক বিঘা জমিতে আগাম জাতের আলুর আবাদ করেছি। আর ৩০ দিন আমি আলু উঠাতে পারব। এতে আমার প্রায় ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। গত সোমবার আমার সেই আলুর ক্ষেত নষ্ট করে নদীর বাধ নির্মাণ করেছে। আর ৩০ দিন পর এই নদীর বাধ নির্মান করলে আমি আমার ফসল ঘরে তুলতে পারতাম। এখন আমি কিভাবে নিজে চলব আর ঋণের টাকা পরিশোধ করব। 

এই গ্রামের আলু চাষী শহীদুল ইমলাম বলেন, আমি আগাম জাতের ২ বিঘা জমিতে আলুর চাষ করেছি। আলুর গাছও বড় হয়েছে। আলু আসতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে যতি পূণর্ভবা নদীর খননের কাজ চালিয়ে যায় তাহলে আমিও ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে যাব। আমার পরিবার পরিজন নিয়ে পথে বসতে হবে। 

একই ভবে কথা বলেন উলিপুর গ্রামের আলু চাষী শরিফুল ইসলাম, আমজাদ আলী, রুহুল আমিন, কৃষানী বুলবুলি আক্তার। তারা বলেন, আলু ৩০ দিন পর বাজারজাত করা হবে। এই আলু হবে দেশের সম্পদ। প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ১২০ মন থেকে ১৫০ মন পর্যন্ত আলু উতপাদন হয়ে থাকে। এই নদীর তীর ঘেষা প্রায় ৫শত বিঘা জমিতে আলু আবাদ হয়েছে। মাত্র ৩০ দিন অপেক্ষা করলে দেশের প্রায় কয়েক শত হেক্টর আলু উতপাদন হবে। আমরা যেমন লাভবান হব পাশাপাশি দেশের মানুষও এই আলু ক্রয় করে খেতে পারবে। 

দিনাজপুর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আনিছুল ইসলাম বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ আলু চাষীরা জেলা প্রশাসক বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। আভিযোগ পাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে বিআইডাব্লিউআইটিএ নদী খননের কাজটি সাময়িক ভাবে বন্ধ রাথার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। 

দিনাজপুর বিরল বিআইডাব্লিউআইটিএ সাবএসটেন প্রকৌশলী সামিউল করিম বলেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে নির্দেশনা এসেছে আলুর ক্ষেত নষ্ট করে নদীর খননের কাজ বন্ধ রাখার জন্য। আমরাও চাই না আলুর জমি নষ্ট করে বালু ফেলার জন্য। তাই আলু উঠা না পর্যন্ত আমরা নদী খনন কাজ বিকল্প উপায়ে করার চেষ্টা করব। 

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়