Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ২ ঘন্টা আগে
ফটো কার্ড

দেশের অভ্যন্তরীণ তিন বিমানবন্দরের রানওয়েতে ৭ ঝুঁকি

দেশের অভ্যন্তরীণ তিন বিমানবন্দরের রানওয়েতে ৭ ঝুঁকি

অনলাইন ডেস্ক►
সাত ধরনের ঝুঁকিতে রয়েছে দেশের অভ্যন্তরীণ যশোর, সৈয়দপুর, শাহমখদুম তিন বিমানবন্দরের রানওয়ে। এগুলো হলো রানওয়ের স্ট্রিপ প্রস্থ ও রানওয়ে ইন্ড সেফটি এরিয়ার ঘাটতি, আংশিক ওভারলে জনিত সমস্যা, পানি জমা, রানওয়ে এজ ও থ্রেসহোল্ড লাইটিং স্থাপন না হওয়া, দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্বে অনিশ্চয়তা, রানওয়ের সারফেসের অসমতা এবং সঠিক কম্প্যাকশন না হওয়া।

যশোর, সৈয়দপুর ও শাহমখদুম বিমানবন্দরের রানওয়ে সারফেসে কংক্রিট ওভারলে করণ’ প্রকল্পের মূল্যায়ন করতে গিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে এসব ঝুঁকি। এর পাশাপাশি প্রকল্পটি চলছে ধীরগতিতে।

আইএমইডির সাবেক সচিব আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন মতে, বিমানবন্দরের মতো স্পর্শকাতর স্থানে এসব ঝুঁকি থাকা উচিত নয়। তাহলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশংকা থাকে।

তিনি বলছিলেন, এক্ষেত্রে প্রকল্পের শুরুতেই বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকেই এসব ঝুঁকি চিহ্নিত করে সমাধান করা উচিত ছিল। কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদ শেষে এসে আইএমইডি (পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ) সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেছে। প্রশ্ন হলো তাহলে সমাধান কখন হবে।

তিনি যোগ করেন, তদন্ত করে কারও গাফিলতি পেলে অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। সেইসঙ্গে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ধীর গতি হওয়ায় ব্যয় ও মেয়াদ বৃদ্ধির আশংকা রয়েছে। এখানে সময়মতো তদারকি করা যাদের দায়িত্ব ছিল তারা সেটি করেননি। এটি অনেক বড় গাফিলতি।

আইএমইডির নিবিড় পরিবীক্ষণ সমীক্ষার খসড়া থেকে জানা গেছে, তিন বিমানবন্দরের রানওয়ে উন্নয়নে নেওয়া প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয় ৫৬৬ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। কিন্তু গত এপ্রিল মাস পর্যন্ত খরচ হয়েছে ৫৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ অর্থাৎ অর্ধেকের একটু বেশি। প্রকল্পের মূল মেয়াদ ছিল ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত আড়াই বছর। পরে ব্যয় না বাড়িয়ে শুধু মেয়াদ বাড়িয়ে করা হয় ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত। সেই সময়ও শেষ হচ্ছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৭৩ দশমিক ০৯ শতাংশ। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।

প্রতিবেদনের দ্বিতীয় খসড়ায় বলা হয়েছে, রানওয়ের স্ট্রিপ প্রস্থ (রানওয়ের চারপাশে একটি নিদিষ্ট আয়তাকার এলাকা) এবং রেসা (রানওয়ে এন্ড সেফটি এরিয়া) এর ঘাটতি অন্যতম নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তাই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী রানওয়ের উভয় প্রান্তে ২৪০ মিটার পর্যন্ত সম্প্রসারণ এবং স্ট্রিপ প্রস্ত ১৫০ মিটার পর্যন্ত বাড়ানো প্রয়োজন। এছাড়া যশোর বিমানবন্দরে আংশিক ওভারলে (পুরনো রানওয়েতে অ্যাসফল্ট বা কংক্রিটের নতুন প্রলেপ) জনিত সমস্যা অপারেশনাল নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

এজন্য পুরো রানওয়ে জুড়ে সমন্বিত ওভারলে নিশ্চিত করতে হবে। তিন বিমান বন্দরের রানওয়েতে কিছু অংশে পানি জমে থাকে। যেটি দীর্ঘমেয়াদে পেভমেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই পানিনিস্কাশনের ব্যবস্থা নিতে হবে; বিশেষ করে ভারী বৃষ্টিপাতের সময়। রানওয়ে এজ ও থ্রেসহোল্ড লাইটিং এর কাজ এখনো শেষ হয়নি।

এছাড়া অ্যাপ্রোচ লাইটিং সিস্টেমের কাজ এখনো শুরুই হয়নি। ফলে রাতে ও প্রতিকুল আবহাওয়ায় নিরাপদ অবতরণে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এক্ষেত্রে দ্রুত এসব লাইট স্থাপনের কাজ শেষ করা প্রয়োজন। রানওয়ের দীর্ঘ মেয়াদী স্থায়িত্ব সংক্রান্ত ঝুঁকিও রয়েছে। এটি নিশ্চিত করতে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, উপযুক্ত ঢাল এবং পানি নিষ্কাশন সক্ষমতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি নিদিষ্ট সীমার বেশি পুন:ওভারলে এড়িয়ে কাঠামোগত পুন:বাসন পরিকল্পনা নিতে হবে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, রানওয়ের সারফেসে অসমতা ঝুঁকি তৈরি করছে। তাই দ্রুত এ সমস্যা চিহ্নিত ও সমাধানে লক্ষ্যভিত্তিক মেরামত, রি লেভেলিং ও গুনগতমান নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। যাতে বিমান পরিচালনায় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হয়। কম্প্যাকশন (মাটি বা সদ্য ঢালাই করা কংক্রিটে সঠিকভাবে চাপ দিয়ে বসানো) কিছু স্থানে অসমতা এবং জয়েন্ট এলাকায় কম ঘনত্ব পাওয়া গেছে। এটিও বিমান চলাচলের নিরাপত্তায় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই এ বিষয়ে বিশেষ নজর দিতে হবে।

এসব বিষয়ে আইএমইডির দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, আগামী জুন মাসের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ করা সম্ভব হবে না। এজন্য মেয়াদ বাড়ানোর বিকল্প নেই। তবে ব্যয় বাড়বে কিনা সেটি এখনো নিশ্চিত কররে বলা যাচ্ছে না। তিনি জানান, প্রকল্পটির বাস্তবায়ন দেরি হওয়ার অন্যতম কিছু কারণ খুঁজে পাওয়া গেছে। সেগুলো হলো, অর্থছাড়ে দেরি হওয়া, প্রশাসনিক জটিলতা এবং দুর্বল তদারকি।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad