• মাধুকর প্রতিনিধি
  • তারিখঃ ১৩-১১-২০২২, সময়ঃ দুপুর ০১:৩১
  • ৮২ বার দেখা হয়েছে

নওগাঁয় পাওনা টাকা চাওয়ায় অংশীদারকে পিটালেন চেয়ারম্যান ॥ হাসপাতালে ভর্তি

নওগাঁয় পাওনা টাকা চাওয়ায় অংশীদারকে পিটালেন চেয়ারম্যান ॥ হাসপাতালে ভর্তি

নওগাঁ প্রতিনিধি ► 

নওগাঁর পত্নীতলায় ইটভাটার ব্যবসায়িক পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে চেয়ারম্যানের হাতে মারধররের শিকার হয়েছেন এক অংশীদার। মারধরের শিকার হাফিজুর রহমান বর্তমানে নওগাঁ সদর হাসপাতালের সার্জারী ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন। এর আগে শুক্রবার বিকেলে উপজেলার গৌরাদিঘী গ্রামের বিআরবি ইটভাটায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম স্থানীয় আমইড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।

ইটভাটার অংশীদার সূত্রে জানা যায়, ২০১৭সালের ১২এপ্রিল চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম ও কান্তা গ্রামের মৃত ইছাহাক আলীর ছেলে ইয়াসিন আলী মন্ডল ইটভাটার ব্যবসা শুরু করে। পরবর্তীতে স্থানীয় কান্তা কিসমত গ্রামের মৃত আব্দুস ছাত্তারের ছেলে জিয়াউর রহমান ও মহাদেবপুর উপজেলার কানলা গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে হাফিজুর রহমান ব্যবসায় যোগ দেয়। ইযাসিন আলী, জিয়াউর রহমান এবং হাফিজুর রহমান অর্ধেক ও চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম একাই বাঁকি অর্ধেক অংশের মালিক হিসেবে ব্যবসা করে আসছিলেন। এ পর্যন্ত উভয় পক্ষ ২কোটি ৩০লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছে। ব্যবসায় বিনিয়োগের পর দ্বন্দের কারনে এ পর্যন্ত তিনজন মিলে ৯০লাখ টাকা ফেরত পেয়েছেন। কিন্তু বাঁকি ৪০লাখ টাকাসহ লভাংশের হিসেব দিতে গড়িমশি শুরু করেন চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম।

এ নিয়ে চলতি বছরের ২২জুন অংশীদার জিয়াউর রহমান ও ২৩ সেপ্টেম্বর ইয়াসিন আলী মন্ডল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। এমনকি উপজেলা ইট ভাটা মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক আবু তাহের চৌধুরী মন্টুর কাছেও অভিযোগ গেলেও তিনি কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। এরই ধারাবহিকতায় শুক্রবার ( ১১নভেম্বর ) বিকেলে ইটভাটায় হিসেব চাইতে গেলে হাফিজুর রহমানকে চেয়ারম্যান ও তার লোকজন লোহার রড ও বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে জখম করে। খবর পেয়ে জিয়াউর রহমান ও ইয়াসিন আলী মন্ডলসহ পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

গুরুত্বর আহত হাফিজুর রহমান বলেন, লাভ ও পাওনা টাকার হিসেব চাওয়ায় আমাকে মারাত্বভাবে মারধর করেছে চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম ও তার লোকজন। আমি এর সুষ্ঠ বিচার চাই।

অংশীদার ইয়াসিন আলী মন্ডল বলেন, আমাদের তিনজনের প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা আছে। এর মধ্যে ৯০লাখ টাকা বুঝে পেয়েছি আমরা। বাঁকি ৪০লাখ টাকা ও লাভের কোন হিসাব দেয়নি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিয়েছিলাম কিন্তু পুলিশ কোন সমাধান করে দিতে পারেনি। এসআই নজরুল ইসলাম উল্টো আমাদের বলে যে ইটভাটায় গেলে আপনাদের সমস্যা হবে।

জিয়াউর রহমান নামের আরেক অংশীদার বলেন, থানায় অভিযোগ করেছিলাম এসআই জাফর আহম্মেদকে দায়িত্ব দেয়া ছিল। কিন্তু তিনি কোন ব্যবস্থা না নিয়ে আমাদের উল্টাপাল্টা কথা বলতো চেয়ারম্যানের পক্ষ নিয়ে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পতœীতলা থানার উপ-পরির্দশক (এসআই) নজরুল ইসলাম বলেন, থানায় অভিযোগ করার পর তাদের উভয় পক্ষকে নিয়ে বসেছিলাম। প্রমথবার বসে সুহারা না হওয়ায় পরবর্তীতে আবার আরেকটি দিন বসার জন্য বলা হলে তারা পরবর্তীতে থানায় আসেনি।

থানার উপ-পরির্দশক (এসআই) জাফর আহম্মেদ বলেন, জিয়াউর রহমান যখন অভিযোগ করেন, সেসময় তৎকালীন ওসি ছিলেন শামসুল আলম শাহ স্যার। উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক আবু তাহের চৌধুরী মন্টুকে নিয়ে ওসি স্যার নিজেই বসে মন্টুকে চৌধুরী দায়িত্ব দিয়েছিলেন সুরাহার জন্য। পরবর্তী কি হয়েছে তা আমার জানা নেই। আর আমি কোন পক্ষপাতিত্ব করিনি।

অভিযুক্ত চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বলেন, আমি হাফিজুর রহমানকে মারধর করেনি। একটু ধাক্কা-ধাক্কির ঘটনা ঘটেছে। তারা কোন টাকা পাবেনা। তাদের হিসাব অনেক দিন আগেই মিটিয়ে দিয়েছি। আমার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট।
উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের চৌধুরী মন্টুর সাথে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

পত্নীতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম রেজা বলেন, আমি থানায় কিছুদিন পূর্বে যোগাদান করেছি। মারধরের ঘটনা জানা নেই। যদি থানায় অভিযোগ করা হয়,তবে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়