• মাধুকর প্রতিনিধি
  • তারিখঃ ১৭-১২-২০২২, সময়ঃ দুপুর ০১:৪৮
  • ১৯৭ বার দেখা হয়েছে

পলাশবাড়ীতে একটি হিমালিয়ান প্রজাতির শকুন উদ্ধার

পলাশবাড়ীতে একটি হিমালিয়ান প্রজাতির শকুন উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক ►

গতকাল সকাল আনুমানিক ৭ ঘটিকায় গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার মাঠের হাট হাশনেরপাড়া গ্রামে একটি শকুন দেখতে পায় এলাকাবাসী। এর মধ্যে একটি শকুন কান্ত হয়ে খাবারের খোঁজে ও বিশ্রামের জন্য গাছের মগ ডাল থেকে মাটিতে নেমে আসে। 

শকুনের ১২ ফিটের ডানায় ভর করে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে বিশাল আকৃতির  ÒHimalayan griffon vulture” বা ‘হিমালীয়ান গৃধিনী’  শকুন জাতের পাখি গুলো মানুষের রোষানলে পরে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ও বিশ্বস্ত সূত্রের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পরিবেশবাদী সংগঠন ‘টিম ফর এনার্জি এন্ড এনভায়রণমেন্টাল রিসার্চ-তীর’ গাইবান্ধা সরকারি কলেজ শাখার নজরে আসে বিষয়টি। অতপর ‘তীর গাইবান্ধা সরকারি কলেজ শাখা’র সভাপতি জাহিদ রায়হান ‘তীর-কেন্দ্রীয় কমিটির পরামর্শ ও সহযোগীতায় ‘আইইউসিএন- বাংলাদেশ’ ও ‘সামাজিক বনবিভাগ রংপুর’ এর বন সংরক্ষক মহোদয়কে বিষয়টি অবহিত করে তাৎনিক গাইবান্ধা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম এর নির্দেশনায় গাইবান্ধা বন বিভাগের আয়নাল ও ‘তীর-গাইবান্ধা শাখার’ স্বেচ্ছাসেবীদের ঘটনাস্থলে যান।

তীর গাইবান্ধা সরকারি কলেজ শাখা’র সভাপতি মোঃ জাহিদ রায়হান, কার্যকরী সদস্য মোঃ জাকারিয়া ইসলাম, সদস্য মোঃ রাশেদুল ইসলাম রাশেদ সহ চার সদস্য বিশিষ্ট একটি টিম ঘটনাস্থলে যায়। তাদের আন্তরিক হিমালিয়ান প্রজাতির শকুনটি উদ্ধার হয়। তীর-কেন্দ্রীয় সভাপতি রিফাত হাসানের পরামর্শে শকুন গুলো উদ্ধারের পাশাপশি উক্ত এলাকায় সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরন করা হয়। আইইউসিএন ও বন বিভাগের পরামর্শে শকুনটিকে দিনাজপুরের শকুন পরিচর্যা কেন্দ্রে পাঠানো হবে আজকে।

শকুনের বিষয় নিয়ে গাইবান্ধা সরকারি কলেজের অধ্য ও তীর এর উপদেষ্টা প্রফেসর মো: খলিলুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শকুন হচ্ছে প্রকৃতির ঝাড়–দার। শকুন বড় ডানার বৃহদাকার পাখি, এটি তীক্ষè দৃষ্টির অধিকারী মৃত ভক্ষণকারী পাখি। শকুনই একমাত্র প্রাণী যারা রোগাক্রান্ত মৃত প্রাণী খেয়ে হজম করতে পারে এবং অ্যানথ্রাক্স, যক্ষা, খুরারোগের সংক্রমণ থেকে জীবকূলকে রা করে।

বাংলাদেশের শকুন নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘আই.ইউ.সি.এন- বাংলাদেশ’ এর শকুন সংরক্ষন প্রকল্পের মুখ্য গবেষক সীমান্ত দীপু এর তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে সর্বশেষ ২০১৪ সালের শকুন নিয়ে শুমারি বলছে, দেশে মোটে ২৬০টি শকুন রয়েছে তবে বন বিভাগের সাথে ‘আই.ইউ.সি.এন-বাংলাদেশ’ এর যৌথ প্রচেষ্টায় প্রকৃতির এই ঝাড়–দারকে স্বরূপে সরব উপস্থিতিতে ফিরিয়ে আনার বিজ্ঞান সম্মত কার্যক্রম চলমান। বাংলাদেশে এক সময় সাত প্রজাতির শকুন ছিল। কিন্তু এর মধ্যে রাজ শকুন পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে গেছে বাংলাদেশ থেকে।

শিক্ষার্থীদের পরিবেশবাদী সংগঠন ‘টিম ফর এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ’ (তীর) শকুনসহ সকল বন্যপ্রাণী সংরণে ২০১১ সাল থেকে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। ‘তীর’ গাইবান্ধা সরকারি কলেজ শাখার সেচ্ছাসেবী পরিবেশ প্রেমীরা গত কয়েক বছর ধরে গাইবান্ধা তথা উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন স্থান থেকে শকুন উদ্ধারে ‘বন বিভাগ’ ও ‘আইইউসিএন-বাংলাদেশ’ কে সহযোগিতা করে আসছে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে ভূমিকার জন্য সংগঠনটি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিষয়ে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ জাতীয় পদক ‘বঙ্গবন্ধু এওয়ার্ড ফর ওয়াইল্ড লাইফ এন্ড কনজারভেশন ২০২১’ এ ভূষিত হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়