• মাধুকর প্রতিনিধি
  • তারিখঃ ১৩-১২-২০২২, সময়ঃ বিকাল ০৫:০৫
  • ৭০ বার দেখা হয়েছে

পায়ে হেঁটে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফে

পায়ে হেঁটে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফে

নিজস্ব প্রতিবেদক ►

‘আলোকিত বাংলার স্বপ্নযাত্রা, আমরা করব জয়’ এই শ্লোগানে তেঁতুলিয়া থেকে পায়ে হেঁটে টেকনাফের জিরো পয়েন্টে পৌঁছাছেন গাইবান্ধার সেই বাবা ও ছেলে। 

টানা ২০ দিন হেঁটে আজ মঙ্গলবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুরের দিকে টেকনাফের এই যাত্রা জয় করলেন তারা। এ পথে ১ হাজার ২১ কিলোমিটারসহ এ পর্যন্ত ২ হাজার ৬৪৫ কিলোমিটার সড়ক পথ হাঁটলেন এই ভ্রমণকারীরা। দীর্ঘতম এই হাঁটার পথে শত শত মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন বাবা ও ছেলে।  

এই পদযাত্রাকারী ব্যক্তিরা হচ্ছেন গাইবান্ধা পৌর শহরের ৫নং ওয়ার্ডের মধ্য গোবিন্দপুর (সাদেক চত্বর) এলাকার সাদেক আলী সরদার (৬৭) ও  তার ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান (৩৭)। ইতোপুর্বেও ৪৯ তম মিশন পর্যন্ত ১ হাজার ৬২৪ কিলোমিটার পথ হেঁটে দেশ ভ্রমণে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন তারা। যা দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমেও প্রচার অব্যাহত রয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত রোববার (২০ নভেম্বর) সকালে ৫০তম মিশন হিসেবে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট থেকে কক্সবাজারের টেকনাফ পর্যন্ত হেঁটে যাত্রা শুরু করেন এই বাবা ও ছেলে। এ পথের দূরত্ব হবে প্রায় ১ হাজার ২১ কিলোমিটার। দীর্ঘ পথের এই ভ্রমণটি সফল হওয়ায় তাদের হাঁটার অংক দাঁড়াল ২ হাজার ৬৪৫ কিলোমিটার।

শুধু হেঁটে চলায় তাদের মূল উদ্দেশ্য নয়, দেশ ও জনস্বার্থে পথপান্তে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাট-বাজারে গিয়ে সামাজের মূল্যবোধ বৃদ্ধিমূলক অবহিতকরণ আলোচনা করেছেন। বাল্যবিয়ে, মাদক, ধুমপান ও কিশোরগ্যাং প্রতিরোধ করাসহ সামাজিক মূল্যবোধ যেন অবক্ষয় না হয়, এসব বিষয়ে মানুষদের সঙ্গে জোড়ালোভাবে কথা বলেছেন তারা। একই সঙ্গে বাবা-ছেলের সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ হওয়ার বিষয়ে স্থানীয় লোকজনকে সচেতন করেছেন। অতীতের মিশনের ন্যায় এ মিশনেও তারা সাধারণ মানুষ ও তরুণ প্রজন্মকে পায়ে হাঁটার উপকারিতা, বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালিয়েছেন। 

জানা যায়, গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর গাইবান্ধা সাদেক চত্বর থেকে স্থানীয় ফুলছড়ি থানা চত্বর পর্যন্ত প্রথম পথ হাঁটাচলা শুরু করেন। এখানে প্রাথমিকভাবে ২৮ কিলোমিটার হাঁটছেন তারা। এরপর পর্যায়ক্রমে গাইবান্ধা থেকে বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর-ঘোড়াঘাট-হিলি ও পঞ্চগড়-বাংলান্ধাসহ আরও বেশ কিছু স্থানে পদার্পণ করে। ওইসব স্থানগুলোতে তারা দেখছেন দেশের নানা ইতিহাস-ঐতিহ্য ও দর্শনীয় স্থানসমূহ। এভাবে ৪৯তম মিশন পর্যন্ত পদযাত্রা করেছেন ১ হাজার ৬২৪ কিলোমিটার। বর্তমানে ৫০তম মিশনে তেতুঁলিয়া থেকে টেকনাফ পর্যন্ত টানা ২০ দিনে হাঁটলেন ১ হাজার ২১ কিলোমিটার।  

আরও জানা যায়, সাদেক আলী সরদার কর্মময় জীবনে চাকরি করছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে। ইতিমধ্যে ২০০৬ সালে অবসর গ্রহণ করেছেন। এখানে চাকরি করার সুবাদে হেঁটে শরীর চর্চার অভ্যাসটুকু রয়েছে তার। সেই জায়গায় থেকে পদযাত্রায় সফর সঙ্গী হিসেবে যোগ দিয়েছেন তার ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান। পথ হাঁটার পাশাপশি সামাজিক কর্মকান্ডমূল আলোচনাও করেছেন তারা। 

ভ্রমণসঙ্গী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, তাদের চলমান দীর্ঘপথ পায়ে হেঁটে যাওয়ার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে সকল পেশা-শ্রেণির মানুষদের উদ্বুদ্ধ করেছেন। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন জায়গা ভ্রমণ করে নানা ধরণের অভিজ্ঞতা অর্জনও হচ্ছে। সেটি দেশ ও দশের কল্যাণে কাজে লাগানোর চেষ্টা করবেন।

তিনি আরও বলেন, বাবা-ছেলের সম্পর্ক মধুর ও বন্ধুত্বপূর্ণ থাকলে শুধু দেশ নয়, বিশ্বজয় করাও সম্ভব। এতে বিশেষ করে ছেলেরা সামাজিক অপরাধ এবং মা বাবার সেবা করা থেকে বঞ্চিত হবেন না।

হেঁটে দেশ ভ্রমণের অন্যতম ব্যক্তি সাদেক আলী সরদার জানান, এক সময় চাকুরি থেকে অবসর নিয়ে শরীরে নানা রোগে বাঁসা বেঁধেছিল। এরই মধ্যে কয়েক দফায় দীর্ঘপথ হাঁটাচলা করে অনেকটাই সুস্থ আছেন। যেন শরীরের শক্তি বেড়েছে কয়েকগুণ। এমন চর্চা সবার দরকার বলে মনে করেন।

তিনি আরও বলেন, তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট থেকে টেকনাফের পদযাত্রাকালে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সাংবাদিক ও বেশ কিছু যুবক আমাদের সহযোগিতা করছেন। সেই সঙ্গে পথে পথে বিভিন্ন মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছি। এজন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।  

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়