• মাধুকর প্রতিনিধি
  • তারিখঃ ১৫-১১-২০২২, সময়ঃ বিকাল ০৫:৪৬
  • ৯৩ বার দেখা হয়েছে

পীরগঞ্জের কৃষি বাড়ছে গরুর হলের চাহিদা

 পীরগঞ্জের কৃষি বাড়ছে গরুর হলের চাহিদা

আব্দুল্লাহীল বাকী বাবলু,পীরগঞ্জ  ►

রংপুরের পীরগঞ্জে দিনের পর দিন গরুর হালের চাহিদা বাড়ছে। চাহিদা বৃদ্ধির কারনে অনেকেই গরুর হাল করছেন স্ব-স্ব বাড়িতে। এ উপজেলা এমনিতেই কৃষি অঞ্চল হিসাবে পরিচিত।

উপজেলায় ধান পাটসহ যাবতীয় কাঁচা মালের উপর নির্ভর করে প্রায় ৮০ ভাগ মানুষ। বিশ বছর আগে রংপুর অঞ্চলে কৃষি কাজে একমাত্র ভরসা ছিল গরুর হাল মই। সেই সময়  কৃষকদের চাষাবাদ কাজে ব্যবহার হতো কাঠের তৈরি লাঙ্গল আর বাঁশের মই। দিন দিন গরুর দাম বৃদ্ধি এবং শ্রমিকের মজুরি বেশি হওয়ায় কৃষি কাজে গরুর হাল প্রায় বিলুপ্তি হচ্ছিল। 

বর্তমানে তেলের দাম বেশি হওয়ার কারনে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে গরুর হালের চাহিদা বাড়ছে। নতুন ভাবে তৈরি হচ্ছে গরুর হাল মই। গরুর হাল দিয়ে চাষাবাদ করলে মাটির গভীরতা ও মাটি সমান ভাবে উল্টে পাল্টে যায়। এতে করে জমিতে ফসলও অনেক ভালো হয়। বৃহস্পতিবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গরুর হাল। কথা হয় উপজেলার চেরাগপুর গ্রামের ছদরুল আমীনের সাথে। তিনি বলেন, পুঁজি ছাড়া ব্যবসা হয় না।

তাই ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ে হাল গরু কিনেছেন ৩ মাস আগে। হাল গরু মানে তার চাকুরী, নিজের জমিতে হালচাষ ফ্রী, মানুষের জমি ঠিকাচুক্তি নিয়ে হালচাষ এবং গরুকে হাল শিখিয়ে বিক্রি করেও অনেক লাভ। তিনি আরও বলেন প্রতিদিন হালমই দিয়ে ৮/৯’শ টাকা উপার্জন রা সম্ভব হচ্ছে। হালের বলদ হাটে বাজারে এখন আর পাওয়া যায় না বললেই চলে। তাই গরু কিনে হালমই শিখিয়ে নিতে হয়। বর্তমানে বাজারে হালের বলদ হিসাবে বিক্রি করলেও তার ২০ হাজার টাকা লাভ হবে। 

এছাড়াও  এবছর তেলের দাম বেশি হওয়ায় তার গ্রামে নতুন করে ৩ টি গরুর হাল তৈরী করা হয়েছে। হাল চাষি জামালপুর গ্রামের মিন্টু  মিয়া বলেন, গরুর হাল দিয়েই তার সংসার চলে। তাদের এলাকায় সারা বছর রবি ফসলের চাষ  হয়। তারপরও তেলের দাম বেশি হওয়ায় রোজ বিকাল থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত ফসল চাষিরা জমিতে হালমই দেয়ার জন্য ধরনা দেন তার বাড়িতে। 

কাঠের লাঙ্গল বিষয়ে টুকুরিয়া এলাকার হাল চাষি আব্দুল বাতেন বলেন, আগের যুগে তাদের বাপদাদারা কাঠের লাঙ্গল দিয়ে জমি চাষ করেছে।  বর্তমানে কাঠ পাওয়া গেলেও লাঙ্গল তৈরির মিস্ত্রি পাওয়া দুস্কর। এখন প্রযুক্তির সাথে লোহার লাঙ্গলের প্রচলন বেড়েছে। তিনি বলেন, কাঠের লাঙ্গলের চাষ অনেক ভালো ছিল।

এ লাঙ্গল তৈরির কারিগর পাওয়া যাচ্ছে না এখন। যদিও বা পাওয়া যায় তার মজুরী অনেক বেশি। যে কারণে লোহার লাঙ্গল দিয়েই হালচাষ করতে হচ্ছে। নখার পাড়া গ্রামের কৃষক রাশেদুল ইসলাম বলেন, এখন পরিবারের লোকজন বেড়েছে। ভাগ বাটোয়ারার পর ছোট ছোট জমি আর বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি দিয়ে হালচাষ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। যে কারনে গরুর হাল দিয়ে জমিতে চাষাবাদ করতে হচ্ছে। এছাড়াও তেলের দাম বেশি হওয়ায় ১২ টাকা শতকের জমির চাষ ২০ টাকায় উঠেছে।

তাছাড়াও পাওয়ার টীলারের হাল দিয়ে জমি চাষ করলে বেশি একটা ভালো হয় না। টুকরো টুকরো জমির জন্য গরুর হাল অনেক উপযোগী। তিনি আরও বলেন, কৃষকের গরুর হালের চাহিদা অনুযায়ী এলাকায় এখন নতুন নতুন করে তৈরি হচ্ছে হাল। অনেক চাষিরাও এখন গরুর হাল মুখি হচ্ছেন। 
 

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়