Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ২ ঘন্টা আগে
ফটো কার্ড

পীরগঞ্জে উজাড় হয়ে যাচ্ছে তালগাছ

পীরগঞ্জে উজাড় হয়ে যাচ্ছে তালগাছ

আব্দুল্লাহীল বাকী বাবলু,পীরগঞ্জ ►
তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে সব গাছ ছাড়িয়ে এক সময়ের ছড়ার এই বাক্যটি বর্তমান প্রজন্মের কাছে এখন সম্পুর্ন অচেনা। সময়ের বিবর্তনে এখন বিভিন্ন এলাকায় তালগাছ উজাড় হয়ে গেছে। দেশে বজ্রপাতের হাত থেকে মানুষসহ প্রানীকুলকে রক্ষায় সরকারি ঘোষনায় আকৃষ্ট হয়ে এক দশক পুর্বে পীরগঞ্জে সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে বিভিন্ন রাস্তার দুধারে লক্ষাধিক তালবীজ রোপন করা হয়েছিল। দুঃভাগ্য জনক হলেও সত্য যে, এসব রোপিত তালবীজ কোন রাস্তায় গঁজায়নি।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় পরিবেশ বান্ধব, বজ্রপাত নিরোধক তালগাছ এক সময় গ্রামীন সড়কের শোভা বর্ধন করতো। সে সময় প্রায় বাড়িতে তাল গাছ দেখা যেতো। বিশেষ করে বন-জঙ্গল আর বাঁশ বাগানসহ পরিত্যাক্ত জায়গায় তালগাছ বড় হ’তো অনেকটা অযত্নে, অবহেলার মধ্য দিয়ে। গ্রামের অবস্থাপন্ন গৃহস্থদের বাড়ির ভিটেয় তালগাছ থাকতো। তালগাছে বাসা করে বাচ্ছা ফুটাতো কানাবগী। বাচ্ছাগুলো সেখানেইে নিরাপদে বেড়ে উঠতো। পাশাপাশি গ্রামের নিশানা ঠিক করা হতো অনেকটা তালগাছে দেখেই। তাইতো কবি লিখেছেন- ঐ দেখা যায় তালগাছ, ঐ আমাদের গাঁ ঐ খানেতে বাস করে কাঁনা বগীর ছা।

সময়ের প্রয়োজনে গ্রামীণ বন-জঙ্গল আর বাঁশবাগান গুলো কেটে কৃষি জমিতে পরিনত করার পাশাপাশি জনবসতি গড়ে ওঠায় পল্লীগ্রাম গুলোতে এখন আর আগের মতো তালগাছ চোখেই পড়েনা। রাস্তার পাশে তালগাছের স্থান দখল করেছে পরিবেশের ক্ষতিকারক ইউক্যালিপ্টাসসহ অন্যান্য গাছ। অধিকাংশ গ্রামীণ সড়কে এখনও খন্ড খন্ড সারি-সারি ওই গাছ দেখা যায়। যা গ্রামের বেকার যুবকরা সমিতি গঠনের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদের সাথে শর্তসাপেক্ষ বিভিন্ন মেয়াদী চুক্তির করে গাছগুলো রোপন করেন। তালগাছের মতো নিরাপদ আশ্রয় না থাকায় কানা বগীরাও হারিয়ে যেতে বসেছে। তালগাছে ফল আসতে সময় লাগে বেশ ক’বছর। গাছটির কোন কিছুই অপ্রয়োজনীয় নয়। মানুষের উপকারে সব অংশ থেকে কোন না কোন প্রয়োজন হয়।

গাছটির কান্ড দিয়ে নৌকা, বাড়ীর কাঁচা ও আধাপাকা ঘরের ছাদ,বর্গা ইত্যাদি তৈরী করা যায়। পাতা দিয়ে ঘরের ছাউনি,গরমের সময়ে হাতপাখা, চাটাই, মাদুরসহ নানান ধরনের সামগ্রী তৈরী হয়। তালের পিঠা, আঁটি, রস, শাস এসবই মানুষের নিকট খুব মজাদার পুষ্টিকর খাবার। তালের রস দিয়ে তাল ফুলুরি,কান্ড থেকে খেজুর গাছের মতো রস নিয়ে পাটালি গুড়,মিছরি ইত্যাদি মিষ্টান্ন জাতীয় খাদ্য তৈরী করা যায়। চিকিৎসক ও পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে-এ্যান্টি অক্সিজেন ও এ্যান্টি ইনফ্লামেটরি উপাদান ছাড়াও তালে ভিটামিন এ,বি ও সি, জিংক,পটাসিয়াম, আয়রন,ক্যালসিয়ামসহ অন্যান্য খনিজ উপাদান পাওয়া যায়। তালের ঘন রসের রয়েছে বহুবিদ ওষুধী উপকারিতা।

পেটের পীড়া নিরাময়ে,এসিডিটি,সব বয়সের মানুষের অপুষ্টি প্রতিরোধে এবং ক্রিমিনাশকে তালের রস কাজ করে। এলাকার প্রবীন ব্যক্তিরা জানান,এক সময় আত্মীয়রা পরস্পরের মধ্যে তালের পিঠা বিনিময়ের মাধ্যমে আত্নীয়তা বন্ধন সুদৃঢ় করার রেওয়াজ ছিলো। কিন্তু ক্রমেই তালগাছের সাথে সাথে ওই রেওয়াজটিও উঠে যাচ্ছে। এখনও প্রত্যন্ত এলাকার তালগাছ গুলো উজাড় করে ইটভাটার খোরাক হিসেবে সরবরাহ দিচ্ছে এক শ্রেণীর কাঠ ব্যবসায়ী।

এদিকে তালগাছের অতীত ঐতিহ্য ফিরে আনতে বিগত ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে পীরগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়নে লক্ষাধিক তালবীজ রোপন করা হয়। সে সময় সরকারি ঘোষনায় আকৃষ্ট হয়ে অনেকেই ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার দু’ধারে অর্ধলক্ষাধিক তালবীজ রোপন করেছিলেন। সেগুলোর আংশিক এখনও বেঁচে আছে। যেসব তালবীজ হতে চারা গজিয়েছে,সেগুলো রক্ষায় এবং পরিচর্যায় স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন সমাজ সচেতন ব্যক্তিরা। আব্দুল্লাহীল বাকী বাবলু

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad