• মাধুকর প্রতিনিধি
  • তারিখঃ ২-১১-২০২২, সময়ঃ বিকাল ০৩:৪৩
  • ১০৬ বার দেখা হয়েছে

পীরগঞ্জে মুজিব বর্ষের ঘর উপহার ফাটল বন্ধে প্রশাসনের দৌড়ঝাঁপ

 পীরগঞ্জে মুজিব বর্ষের ঘর উপহার ফাটল বন্ধে প্রশাসনের দৌড়ঝাঁপ

পীরগঞ্জ(রংপুর) প্রতিনিধি  ►
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার আশ্রয়ণ প্রকল্পের সদ্য নির্মিত একাধিক ঘর ফাটল বন্ধে স্থানীয় প্রশাসনের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। বিভিন্ন পত্রিকায় এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর গত সোমবার ও মঙ্গলবার দু’দিনে চতরা ইউনিয়নের চন্ডিদুয়ার গ্রামে আশ্রয়ন প্রকল্পের ফাটলধরা ৮টি ঘর মেরামত করা হয়েছে। 

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ওই ইউনিয়নের বড় ভগবানপুর গ্রামের আশ্রয়ন প্রকল্পের ফাটল ধরা ১২টি ঘর তড়িঘড়ি মেরামতের নির্মেশ দেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য,নিম্ন মানের কাজ সম্পন্নের কারনেই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ঘরে ফাটল ধরায়  আতংকের মধ্যে বসবাস করছেন এসব ঘরের বাসীন্দারা।

পীরগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি আশ্রয়ণ প্রকল্প ঘুরে দেখা গেছে, চতরা ইউনিয়নের বড় ভগবানপুর গড় পাড়ায় আদিবাসীদের ২৫ টি ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১২ ঘরে ফাটল ধরেছে। একই ইউনিয়নের চন্ডিদুয়ার গ্রামের ২৫ টি ঘরের মধ্যে ৮ টিতেই ঘরে ফাটল ধরেনছে। পাকা মেঝেতে ইদুর গর্ত করে বাসা বেঁধেছে। আবার কোথাও সামান্য বাতাসেই টিনের চালা উড়ে গেছে। এছাড়া ঘরের দেয়ালে সাদা চুন ও রং করা হয়েছে দায়সারা ধরণের।

স্থানীয়রা লোকজন জানায়, ২০২০ -২০২১ অর্থ বছরের  আশ্রয়ন প্রকল্প-২,এর কাজে দায়সারা ভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। নির্মিত ঘরগুলোতে নিম্নমানের সামগ্রীর ব্যবহার ও প্রাক্কলনে অনেক ফাঁকি দেয়া হয়েছে। এছাড়াও মিস্ত্রী ও লেবারদের হাতের কাজেও নানা ধরনের ফাঁকি ছিল। একটি সূত্র দাবি করেছে, মিস্ত্রীদের একটি দল ঘর নির্মাণে কর্তৃপক্ষের কাছে সাব ঠিকা নিয়ে কাজ সম্পন্ন করে। অতিরিক্ত মুনাফার লোভে কাজে সীমাহীন দুর্নীতি অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে তারা দায়সারাভাবে নির্মানকাজ সম্পন্ন করে।

বড় ভগবানপুর গ্রামের লুকাস হেমরোম বলেন, সরকারের দেয়া উপহার ঘর পেয়ে তিনি খুশি হলেও নিম্নমানের কাজ করা হয়েছে হেতু মন খারাপ। তাদের গড় পাড়ায় ২৫ টি ঘর দেয়া হয়েছে এর মধ্যে ১২ টি ঘরের পিছনের দেয়াল ফাটল ধরেছে। কোন মুহুর্তে ভেঙ্গে পড়ে এই আশংকায় দিন কাটছে তাদের। বৃষ্টি বাদলের সময় ঘরে পানি পড়ে। এজন্য বৃষ্টির সময় ঘরে বসে থাকতে হয়। একই এলাকার পাতরাস কিসকু আক্ষেপ করে বলেন, সরকারি ঘরের খোঁজখবর কেউ নেয় না। ঘর নির্মাণের আগে রাস্তা নির্মাণ করার কথা ছিল,তাও করা হয়নি। যাতায়াতের ব্যবস্থাও ভাল নয়। যে কারনে ঘর বরাদ্দ পেয়েও অনেকে খুশি নন। তাছাড়াও উপজেলা প্রশাসন ঘর বরাদ্দ দিয়েই তাদের দায়িত্ব সেরেছেন। পরবর্তীতে আর কোন ধরনের খোঁজ খবর নিচ্ছেন না।

চন্ডিদুয়ার গ্রামের মতিয়ার রহমান বলেন, সরকারি ঘর পেয়ে তারা খুশি কিন্তু ফাটল ধরা ঘরে বাস করতে ভয় করছে। জোড়াতালি দিয়ে ফাটল বন্ধ করা হলেও এতে কোন লাভ নেই। যে কোন মুহুর্তে এগুলো ভেঙ্গে পড়তে পারে। একই এলাকার আয়নাল হক বলেন, ঘর বানানোর আগে মাপ যোগ করা হলেও এখনো যাতায়াতের রাস্তা নির্মন করে দেয়া হয়নি। আশ্রয়ণ কেন্দ্রে এসে তারা অনেক ঝুঁকিতে রয়েছে। রাস্তা মেরামতের অভাবে ২৫ পরিবারের অনেক কষ্টে দিন কাটছে। আশ্রয়ণ কেন্দ্রের বাসনীন্দারা সকলে নিম্নবিত্ত। অনেকেই ভ্যান চালায়। শ্রম বিক্রি করেও অনেকে সংসার চালায়। যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকার কারনে অনেকে তাদের রিক্সা-ভ্যান বিক্রি করে দিয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহল জানান, বঙ্গবন্ধুর শতবর্ষ উপলে ভুমিহীনদের ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, সে ঘরের ঠিকাদার উপজেলা প্রশাসন। যে কারনে এসব কাজের মধ্যে নানামুখী অনিয়মের আশ্রয় নেয়া হলেও কোন তদারকীই ছিল না। নিম্নমানের কাজে বাঁধা দিয়েও কেনো কাজ হয়নি। উপজেলার আশ্রয়ণ প্রকল্পের নির্মিত ঘরগুলো ফাটলের বিষয়ে জরুরী ভিত্তিতে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসীন্দারা !

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়