• মাধুকর প্রতিনিধি
  • তারিখঃ ১৪-১১-২০২২, সময়ঃ সন্ধ্যা ০৬:২৩
  • ১০৭ বার দেখা হয়েছে

ফুলছড়িতে রহমত উল্লাহর অত্যাচারে চরের মানুষ অতিষ্ঠ 

ফুলছড়িতে রহমত উল্লাহর অত্যাচারে চরের মানুষ অতিষ্ঠ 

ফুলছড়ি (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি ►

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের একাধিক মাদক মামলার আসামী রহমত উল্লাহর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। তার নানা অপকর্মের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন স্থানীয়রা। এবিষয়ে অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করার আশ্বাস দিয়েছে থানা পুলিশ।

জানা যায়, ফুলছড়ি উপজেলার এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের সন্যাসীর চরের বাসিন্দা আব্দুল মান্নান মিয়া গত ৩ নভেম্বর দুপুরে গাইবান্ধা জেলার জজ আদালতে একটি মামলার সাক্ষ্য দিতে আসেন। সেদিন সাক্ষ্য গ্রহণ না হওয়ায় পরিবারসহ বাসায় ফিরছিলেন। এসময় আব্দুল মান্নানের ভাতিজা একাধিক মাদক মামলার আসামী রহমত উল্লাহ ও তার সঙ্গীয় কয়েকজন আদালত চত্বর থেকে আব্দুল মান্নান মিয়াকে অপহরণ করে একটি স্থানে আটক রেখে মারধর এবং মুক্তিপণ দাবি করে। পরে গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে অপহরণকারী দলের তিনজনকে আটক করলেও রহমত উল্লাহ ও তার ভাই হেদায়েত উল্লাহ পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে আব্দুল মান্নান মিয়া বাড়িতে ফিরে গেলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন রহমত উল্লাহ। 

আব্দুল মান্নান মিয়া বলেন, এলাকায় মাদকের ব্যবসা করে রহমত উল্লাহ এর আগেও অনেক বার আটক হয়েছেন। সে মাদক মামলায় আটক হওয়ার পরও জামিনে ফিরে এসে একই কাজে লিপ্ত হয়। এমন জঘন্যতম কাজে বাধা দেয়ায় রহমত উল্লাহ এবং তার দলবল নিয়ে আমাকে ধরে নিয়ে আটক রেখে মারধর ও মুক্তিপণ দাবি করে। পরে গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশের সহযোগিতায় আমি বেঁচে যাই। তিনি আরো বলেন, রহমত উল্লাহর নামে ইতিমধ্যে কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদক ও চুরির মামলা হয়েছে। তিনি এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারী হিসেবে পরিচিত। 

সরেজমিন এলাকাবাসীর সাথে কথা হলে তারা জানায়, মাদক ব্যবসায়ী রহমত উল্লাহ এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নে মাদক ব্যবসা ও চুরি-ছিনতাই করে। তার এ কাজে কেউ বাধা দিলে তাদেরকে হত্যার হুমকী দেওয়া হয়। মাদক ব্যবসায় তার পরিবারের লোকজন সহযোগিতা করে। কিছুদিন পূর্বে মাদকের চালানসহ পলাশবাড়ী থানা পুলিশ রহমত উল্লাহকে আটক করেছিল। কিন্তু কয়েকদিন পরেই জামিনে বেড়িয়ে এসে আবারও পূর্বে ন্যায় অপরাধ সংঘটিত করে চলছে।

রহমত উল্লাহর বড় চাচা আমির হোসেন বলেন, ‘আমি এদের পরিবারে অত্যাচারে অনেক কষ্টে বেঁচে আছি। আমার কোন সন্তান নাই। আমি এলাকার গরিব মানুষের এতিম মেয়েদের বাড়িতে এনে অনেকের বিয়ে দিয়েছি। রহমত উল্লাহ ও তার পরিবারের লোকজন আমার কাজে বাঁধা দেয়। আমাকে হত্যার হুমকিও দিচ্ছে। তারা আমার এক একর জমি বেদখল করে নিয়েছে। এবিষয়ে আমি থানায় অভিযোগ দিয়েছি।’ 

প্রায় একই অভিযোগ করেন ওই এলাকার পল্লী চিকিৎসক আবুল কালাম। তিনি বলেন, ‘রহমত উল্লাহ ও তার পরিবারের লোকজন আমার ক্রয়কৃত ৯৫ শতাংশ আবাদি জমি জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছে।’

এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আলহাজ্ব আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘রহমত উল্লাহ ও তার পরিবারের লোকজন এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তার মা মাদকের চালান বহন করে। গ্রাম্য সালিশে আমরা অনেকবার তাদের বিচার করেছি।’

থানার মামলা সূত্রে জানা যায়, রহমত উল্লাহর নামে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানায় ২০৫ পিচ ইয়াবা, কুড়িগ্রামের রাজিবপুর থানায় ৮৩০ পিচ ইয়াবা ও রৌমারী থানায় ১৯৭ পিচ ইয়াবা বহনের দায়ে মামলা রয়েছে। এছাড়া জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ থানায় নারী শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলাসহ তার নামে বিভিন্ন থানায় ১০টি মামলা চলমান রয়েছে। এসব মামলায় তিনি একাধিকবার গ্রেফতার হয়েছিলেন। 

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ‘রহমত উল্লাহর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাওছার আলী বলেন, ‘রহমত উল্লাহর নামে ফুলছড়ি থানাসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। গত ১১ নভেম্বর রহমত উল্লাহর চাচা আমির হোসেন প্রাণনাশের হুমকি ও জমি দখলের অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 
 

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়