• মাধুকর প্রতিনিধি
  • তারিখঃ ৪-১১-২০২২, সময়ঃ দুপুর ০২:৫৬
  • ৪৮ বার দেখা হয়েছে

ফুলবাড়ী হিমাগারের আলুতে পচন আর্থিক লোকসানে আলুচাষি ও ব্যবসায়িরা

ফুলবাড়ী হিমাগারের আলুতে পচন আর্থিক লোকসানে আলুচাষি ও ব্যবসায়িরা

ধীমান চন্দ্র সাহা, ফুলবাড়ী ► 

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী হিমাগারে সংরক্ষণ করা আলুতে পচন ধরায় আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন আলু সংরক্ষণকারি আলুচাষি ও ব্যবসায়িরা। ৫৫ কেজি ওজনের প্রতি বস্তা থেকে ১২ থেকে ১৫ কেজি পচা আলু বের হচ্ছে বলে আলুচাষি ও ব্যবসায়িদের দাবি। 

আলুচাষি ও ব্যবসায়িদের ভাষ্য, লোডশেডিংয়ের সময় মতো জেনারেটর না চালানোসহ হিমাগারের আলুর বস্তা ওলট-পালট না করায় আলু পচছে। এ ঘটনায় ক্ষতিপূরণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। উল্টো হিমাগারের ভাড়ার পুরোটাই দিতে হচ্ছে। তবে হিমাগার কর্তৃপক্ষের দাবি, শিলাবৃষ্টিতে খেতে পানি জমে থাকায় ও মোটা পাটের বস্তায় সংরক্ষণ করায় বস্তার আলু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এ বছর ফুলবাড়ী কোল্ড স্টোরেজে ৯০০ বস্তা আলু সংরক্ষণ করেন বিরামপুরের আলু ব্যবসায়ি ইমদাদুল হক। এরমধ্যে ৪০০ বস্তা আলু পচে গেছে। ফুলবাড়ী উপজেলার আখিঘটনা গ্রামের আলুচাষি আতিয়ার রহমান বীজের জন্য তিন বস্তা আলু হিমাগারে সংরক্ষণ করেছিলেন। কিন্তু তিন বস্তা আলুই তার পচে গেছে। 

হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করে ক্ষতির শিকার আলুচাষি রমজান আলী ও  রওশন আলী বলেন, সংরক্ষণ করা আলু পচে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা। আলু পচে গেলেও কর্তৃপক্ষ হিমাগারের ভাড়া ছাড় দিচ্ছেন না। এতে আলুচাষি ও ব্যবসায়ি উভয়ই আর্থিকভাবে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন। পচে যাওয়া আলু হিসাব করে ভাড়া মওকুফ করলেও সানত্বনা পেতেন তারা। 
গত বৃহস্পতিবার (৩ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১ টায় ফুলবাড়ী কোল্ড স্টোরেজে গিয়ে দেখা যায়, একদল শ্রমিক হিমাগার থেকে আলুর বস্তা বের করে আনছেন। পামে একদাল শ্রমিক মাটিতে ফেলে সেসব থেকে পচা আলু খুঁজে বের করে আলাদা করে রাখছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শ্রমিক বলেন, আগে এক বস্তায় দুই থেকে তিন কেজি পচা আলু বের হতো। এখন কম করে হলেও ৮ থেকে ১০ কেজি পচা আলু বের হচ্ছে। 

ফুলবাড়ী কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপক আবুল হাসনাত স্টোরেজের ভেতরে আলু পচে যাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, গত মৌসুমে আলু তোলার সময় শিলা বৃষ্টি ও খেতে পানি জমে থাকায় আলু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরে গরমে পড়ে থাকায় হিট ইঞ্জুরি হয়েছে- এটাকে পচন বলা ঠিক হবে না। আর মোটা পাটের বস্তায় আলু সংরক্ষণের জন্যও এমনটি হয়েছে। তিনি বলেন, কোল্ড স্টোরেজের ১ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন ধারণ মতার সবটাই আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে এবছর। তবে কিছু কিছু আলু সংরক্ষণকারীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। 

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়