• মাধুকর প্রতিনিধি
  • তারিখঃ ২৫-১২-২০২২, সময়ঃ বিকাল ০৩:৫৫
  • ১৫৬ বার দেখা হয়েছে

ফ্রি এ্যাম্বুলেন্সে ৪০ হাজার রোগীর সেবা প্রদান

ফ্রি এ্যাম্বুলেন্সে ৪০ হাজার রোগীর সেবা প্রদান

এ মান্নান আকন্দ, সুন্দরগঞ্জ ►

বেলকা গ্রামের বাসিন্দা, নাম স্বপ্না বেগম, বয়স ২২ বছর। সন্তান প্রসবের ব্যাথায় ছটফট করছিল। কোন দিশা খুঁজে পাচ্ছিলনা পরিবারের সদস্যরা। সন্তান প্রসব করতে আসা স্থানীয় দাই কহিনুর বেগম জানান, এখনেই হাসপাতালে নিতে হবে তা না হলে মাকে বাঁচানো যাবে না। ব্যাটারি চালিত অটোবাইক বা ভ্যানে উঠানোর মত পরিবেশ ছিল স্বপ্না বেগমকে। সরকারি এ্যাম্বুলেন্স গ্রাম-গঞ্জের সেই কাঁচা রাস্তায় ঢুকবে না বলে জানিয়ে দেয়। 

স্থানীয় এক স্কুল শিক্ষকের সংবাদে ১৫ মিনিটের মধ্যে ছুটে আসে মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপনকারি সাংসদ ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীর ফ্রি এ্যাম্বুলেন্সটি। রোগীকে নেয়া হয় হাসপাতালে, জন্ম নেয় ফুটফুটে ছেলে সন্তান । সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন মা ও সন্তান। গত পাঁচ বছরে প্রসূতি মাসহ ৪০ হাজার রোগীকে  সেবা প্রদান করে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় সারা জাগিয়েছে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ড. এম আই পাটোয়ারী ফাউন্ডেশনের পরিচালিত দুটি ফ্রি এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস । যেটি পরিচালনা করছেন সাংসদ শামীম। 

২০১৮ সালের মার্চ মাস থেকে উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার সাধারন ও অসহায় মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী দুটি ফ্রি এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস সেবা চালু করে। শুরুতেই রোগীর সংখ্যা কম হলেও ২ হতে ৩ মাসের ব্যবধানে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। দিন-রাত ২৪ ঘন্টা সেবা প্রদানে নিরন্তর এ্যাম্বুলেন্স দুটি। এ্যাম্বুলেন্স সেবার প্রয়োজনে নির্ধারিত মোবাইল নম্বরে যে কেউ ফোন দিলেই ছুটে এসে সেবা নিশ্চিত করছে এ্যাম্বুলেন্স দুটি। উপজেলার প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত কন্ট্রোলরুম হতে এ্যাম্বুলেন্স দুটি পরিচালনা করেন সাংসদ শামীমের বিশেষ সহকারি নুর মোহাম্মদ রাফি। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে রোগী পৌচ্ছে দেয়ায় তাদের একমাত্র সেবা। অক্সিজেনবাহি এই এ্যাম্বুলেন্স দুটি মানুষর মৌলিক অধিকারের একটি চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে বদ্ধ পরিকর।

সুবিধাভোগি শান্তিরাম ইউনিয়নের দিনমজুর বাদশা মিয়া জানান, তার অসুস্থ মেয়েকে তিন বার রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌচ্ছে দিয়েছে এই ফ্রি এ্যাম্বুলেন্স। তিনি অন্য কাউরে সহায়তা না নিয়ে নিজে নির্ধারিত কন্ট্রোল রুমের মোবাইলে ফোন দিয়ে ডেকে নেয় এ্যাম্বুলেন্স। এখানে তাকে একটি টাকাও দিতে হয়নি। তিনি বলেন একটি মাইক্রো রংপুরে যাওয়া আসা করলে তিন হাজার টাকা লাগে। অথচ এমপি শামীম তাঁর এ্যাম্বুলেন্সে ফ্রি প্রতিদিন রোগী নিয়ে যাচ্ছে। আল্লাহ তার ভাল করুক। 

এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস কন্ট্রোল রুমের সমন্বয়কারি নুর মোহাম্মদ রাফি জানান, গাড়ি মেরামত ছাড়া কোনদিন বন্ধ থাকে না। দুটি এ্যাম্বুলেন্সে চারজন ড্রাইভার নিয়োগ দেয়া রয়েছে। উপজেলা শহরের সব’কটি পেট্রোল পাম্পের সাথে চুক্তি রয়েছে, যে কোন সময়ে জ্বালানি লাগলে তারা সরবরাহ করবেন। মাস শেষে তাদের জ্বালানির দাম পরিশোধ করা হয়। প্রতিমাসে ড্রাইভারের বেতন-বোনাসসহ আনুমানিক তিন হতে চার লাখ টাকা লাগে। রাফি আরও জানান, তাঁর এই পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতার অনেক অসহায় রোগীর যন্ত্রনার কাহিনী জানা হয়েছে। এই সব অসহায় রোগীর সেবা প্রদানে সহায়তা করতে পেয়ে তিনি নিজকে ধণ্য মনে করছে। তার ধারনা গত পাঁচ বছরে কমপক্ষে ৪০ হাজার রোগীকে সেবা প্রদান করা হয়েছে। বাংলাদেশে এমন নজির আছে বলে তার মনে হয় না।   

সাংসদ শামীম বলেন, রাজনীতির শুরু থেকে তাঁর প্রতিজ্ঞা ছিল। তিনি যদি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পারেন, তাহলে মানুষের মৌলিক অধিকারগুলার মধ্যে একটি মানবিক অধিকার বেঁচে নিয়ে মানবসেবার কাজ করবেন। সেই ধারাবাহিকতায় চিকিৎসা সেবাকে বেঁেচ নিয়ে ২০১৮ সালের ১৩ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য উপ-নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার এক সপ্তাহ পরেই দুটি ফ্রি এ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করেন। প্রতিদিন তাঁর নির্বাচনী এলাকার অসহায় মানুষের সেবা করতে পেয়ে নিজকে ধণ্য মনে করছেন। প্রতিকুলতার মধ্যে কোন তাঁর এই ফ্রি এ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ থাকেন। তাঁর পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, সহপাঠি, রাজনৈতিক সহযোদ্ধাগণ তাঁর এই কাজকে সাধুবাদ জানিয়েছে। পাশাপাশি সহায়তা করেছে। তিনি এটিকে অব্যাহত রাখতে চান।

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়