Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ৪ ঘন্টা আগে
ফটো কার্ড

বন্যা-পাহাড়ধসে কক্সবাজারে ২৬ প্রাণহানি, উত্তরাঞ্চলের ৫ জেলায় আবারও বন্যার আশঙ্কা

বন্যা-পাহাড়ধসে কক্সবাজারে ২৬ প্রাণহানি, উত্তরাঞ্চলের ৫ জেলায় আবারও বন্যার আশঙ্কা

মাধুকর ডেস্ক ►

উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টির কারণে দেশের উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলায় আবারও স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ সময় ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার ও তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাবে। ফলে নদীতীরবর্তী অঞ্চলেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। আজ শনিবার দুপুরে পাউবো বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এ পূর্বাভাস প্রকাশ করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাউবো কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান। 

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসামে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে উত্তরাঞ্চলের নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে এবং পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। 

পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, উজানের ঢল ও বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানির সমতল বাড়ছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদের পানি কিছু কিছু স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এর প্রভাবে কুড়িগ্রাম, রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও গাইবান্ধা জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। 

শনিবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের তথ্য অনুযায়ী, কুড়িগ্রাম জেলার সব নদ-নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও গত ২৪ ঘণ্টায় ধরলা নদীর পানি তালুক শিমুলবাড়ী ও সেতু পয়েন্টে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে পরামর্শ দিয়েছে পাউবো। পাশাপাশি জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা, শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী মজুতসহ সার্বিক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। 

পাউবো কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ‘জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার পূর্বাভাস রয়েছে। আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের যেসব স্থান দুর্বল রয়েছে, সেগুলো মেরামতের কাজও চলমান রয়েছে।’ এদিকে, আবহাওয়া অধিদফতর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়ায় উত্তরাঞ্চলের পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকা, নিচু অঞ্চল এবং নদীতীরবর্তী জনগণকেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতির অবনতি হলে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 

এদিকে, টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা ও পাহাড়ধসের কারণে গত ৭ দিন ধরে দুর্বিষহ জীবন পার করছে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলা কক্সবাজারের প্রায় তিন লক্ষাধিক মানুষ। গত রোববার (৫ জুলাই) থেকে শুক্রবার (১০ জুলাই) পর্যন্ত এ জেলায় পানিতে ডুবে এবং পাহাড়ধসে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ শুক্রবার দুপুরে, চকরিয়ার বরইতলী ইউনিয়নে বসতবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে রসুলাবাদ এলাকার আবদুল মালেকের মেয়ে হাসনাতুল জান্নাত ঝর্ণার (১২) মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ঝর্ণার দুই বোনকে জীবিত উদ্ধার করা হয় যারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন। আগের দিন বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার কাকারা ইউনিয়নে মাইজ কাকারা এলাকায় পানিতে ডুবে প্রাণ হারায় স্থানীয় সোলতান আহমদের ২ বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ ওয়াকিম। 

একই দিন সকালে বন্যার পানিতে ভেসে গিয়ে চকরিয়া থেকে বিভক্ত হয় নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের চরপাড়া এলাকার আরিফুল ইসলামের ছেলে পুষ্পর (৩) এর মৃত্যু হয়। এছাড়া একইদিন ভোরে চকরিয়া উপজেলার মছনিয়া কাটা এলাকায় বসতঘরের ওপর পাহাড়ের মাটি চাপা পড়ে মারা যায় একটি পরিবারের দুই শিশু। কক্সবাজার সদর উপজেলা, পেকুয়া ও উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১৫ জন রোহিঙ্গাসহ আরও ২১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। 

জেলা প্রশাসনের তথ্যানুযায়ী, বন্যায় ১০টি উপজেলার ৩৫টি ইউনিয়নের অন্তত ১৫০টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা বন্যার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি সদর উপজেলা, রামু, উখিয়া, টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও ঈদগাঁও উপজেলার বিভিন্ন বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। 

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নূরুল ইসলাম বলেন, বান্দরবান শহর থেকে পানি নামতে শুরু করায় মাতামুহুরি নদীর পানিও বেড়েছে। তাই চকরিয়া ও পেকুয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার (মাতামুহুরীর অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) বলেন, চকরিয়া ও মাতামুহুরীতে এক লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। ৯৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া দুর্গতদের শুকনো খাবারসহ জরুরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত এবং পানি দ্রুত নামাতে স্লুইস গেটগুলো সচল রাখতে প্রশাসন সার্বক্ষণিক কাজ করছে বলে জানান তিনি। 

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad