• মাধুকর প্রতিনিধি
  • তারিখঃ ২৫-১১-২০২২, সময়ঃ বিকাল ০৩:৪৮
  • ১৭২ বার দেখা হয়েছে

বাঙালী নদীচরের মিষ্টি আলুর ক্ষেতে অজানা ভাইরাস 

বাঙালী নদীচরের মিষ্টি আলুর ক্ষেতে অজানা ভাইরাস 

মহিমাগঞ্জ প্রতিনিধি  ►

উপজেলার বাঙালী নদীর পরিত্যক্ত চর এলাকার ভাগ্যবদল করা কন্দল জাতীয় ফসল মিষ্টি আলুর ক্ষেতে অজানা রোগের ভাইরাসের আক্রমণ দেখা দিয়েছে। ওই আলু চাষের কল্যাণে ‘সুখেরচর’-এ পরিণত হওয়া এক সময়ের ‘দুঃখেরচর’ নামের বিস্তীর্ণ জমিতে চাষ করা আলুর ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কায় পড়েছেন চাষীরা।

পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটাতে অল্প পরিমাণে আক্রান্ত জমিতে রোগাক্রান্ত গাছ উঠিয়ে ফেলে নতুন করে চারা প্রতিস্থাপন করছেন চাষীরা। কিন্তু অধিক সংখ্যক গাছে আক্রান্ত জমির মালিকরা উঠতি ক্ষেতের আলুর গাছ উপড়ে ফেলে বিকল্প রবিশস্য আবাদে বাধ্য হচ্ছেন। শুক্রবার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া বাঙালী নদীতীরবর্তী রাখালবুরুজ, মহিমাগঞ্জ ও সাঘাটা উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে এমন চিত্র। 

উপজেলার মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের চরবালুয়া গ্রামের কৃষক ফেরদৌস আলম জানান, মাত্র তিন মাসে আবাদযোগ্য কন্দল জাতীয় এই মিষ্টি আলু গত এক যুগে এই এলাকার কৃষি অর্থনীতিতে ব্যপক উন্নয়ণ ঘটিয়েছে। তেমন কোন উৎপাদন খরচ ছাড়াই উৎপাদিত আলু দেশের বিভিন্ন স্থানে রপ্তানী হওয়ায় চাষীরা সুখের মুখ দেখেছিলেন। এ কারণে চলতি বছর আরও অধিক পরিমাণ জমি এই মিষ্টি আলুচাষের আওতায় আনা হয়। কিন্তু আক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে আলু রোপণ করার পর থেকেই বারি-৮ জাতের আলুর পাতায় অজানা এক ভাইরাসের আক্রমণ দেখা দেয়। এতে পাতা কুকরে গিয়ে বিবর্ণ হয়ে যায়। এর ফলে ওই গাছগুলো বেঁচে থাকলেও তাতে আর আলু ফলবেনা বলে মনে করছেন তারা। ধীরে ধীরে অন্যান্য জাতের আলুগাছেও একই ভাইরাস সংক্রমিত হওয়ায় চলতি মৌসুমে মারাত্মক ফলন বিপর্যয় হবে বলে আশঙ্কা করছেন আলুচাষীরা।

একই গ্রামের চাষী হায়দার আলী বলেন, তিন বিঘা জমিতে এবার তিনি মিষ্টি আলু চাষ করেছিলেন। ভাইরাসের কারণে দেড় বিঘার রোগাক্রান্ত আলুর গাছ তুলে ফেলে দিয়ে তাতে নতুন করে সরিষা চাষ করতে বাধ্য হয়েছেন। চাষী গোলাম মোস্তফাকেও তার এক বিঘা জমির আলুর গাছ তুলে ফেলতে হয়েছে বলে জানালেন তিনি। চরবালুয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের ধার ঘেঁষে দেড় বিঘা জমিতে চাষ করা আলুর ক্ষেতের অনেকটাই রোগাক্রান্ত হয়েছে কৃষানী গোলেনুর বেগমের (৫০)। তিনি জানালেন, কামলা খরচ জোটাতে না পেরে প্রতিদিন পুত্রবধু শ্যামলী বেগমকে (২০) সাথে নিয়ে রোগাক্রান্ত চারা তুলে ফেলে সুস্থ চারা প্রতিস্থাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন তিনি। ওই চরের পুরো এলাকা ঘুরে একই চিত্র দেখা গেছে।  

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা কৃষি বিভাগের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম মুরাদ জানান, এটি একটি বীজবাহিত ভাইরাস। বর্তমান পরিস্তিতিতে আক্রান্ত গাছগুলো অপসারন করে এই সমস্যার সমাধান করতে চাষীদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।    

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়