Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ২ ঘন্টা আগে
ফটো কার্ড

বাল্যবিবাহ মুক্ত ঘোষণা করা হলো গাইবান্ধার কুপতলা ইউনিয়নকে

বাল্যবিবাহ মুক্ত ঘোষণা করা হলো গাইবান্ধার কুপতলা ইউনিয়নকে

সঞ্জয় সাহা ►
বাল্যবিবাহ সমাজের একটি মারাত্মক ব্যাধি। গাইবান্ধার বিভিন্ন স্থানে বাল্যবিবাহ প্রবণতা বেড়েই চলছে। বাল্যবিবাহ ফলে প্রসবকালীন সময়ে মায়ের মৃত্যু হচ্ছে। সন্তান অপুষ্টিতে ভুগে প্রতিবন্ধীর  মত অসুখে আক্রান্ত হচ্ছে। এতে করে পরিবারে বাবা মায়ের কষ্ট বেড়েই চলেছে।  বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কাজ করে চলছে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ গাইবান্ধা এরিয়া অফিস। এরই ধারাবাহিকতায় গাইবান্ধা সদর উপজেলার ৩নং কুপতলা ইউনিয়ন পরিষদকে বাল্যবিবাহ মুক্ত ইউনিয়ন পরিষদ ঘোষনা হয়েছে ।

৩নং কুপতলা ইউনিয়ন পরিষদ আয়োজনে ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ পরিবর্তন চেঞ্জ প্রজেক্ট গাইবান্ধা এডিপি সহযোগীতায় ১৩ আগষ্ট বৃহস্পতিবার সকালে ৩নং কুপতলা ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে বাল্যবিবাহ নিরোধের লক্ষ্যে উক্ত কুপতলা ইউনিয়ন পরিষদকে বাল্যবিবাহ মুক্ত ইউনিয়ন পরিষদ ঘোষনা উপলক্ষে আলোচনা সভা ও ফলক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গাইবান্ধা সদর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার নাসিরুদ্দিন শাহ। সভাপতিত্ব করেন গাইবান্ধা সদর উপজেলা  ৩নং কুপতলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সরকার। চেয়ারম্যান তার বক্তব্যে- কুপতলা ইউনিয়নকে বাল্যবিবাহ মুক্ত ঘোষনা করেন ও আগামীতেও  বাল্যবিবাহ মুক্ত করতে সবার প্রতি আহবান জানিয়ে জিরো টলারেন্স ঘোষনা করেন।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ  গাইবান্ধা এরিয়া প্রগ্রাম  ম্যানেজার নরেশ মারান্ডি। তিনি বলেন- বাল্যবিবাহ ও শিশু সুরক্ষার বিষয় কাজ করতে ১৯৬৯ সালে বাংলাদেশে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ আর্বিভাব হয়। এরপর ২০২২ সালে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ গাইবান্ধার পৌরসভা ও ১৭ টি ইউনিয়নকে যুক্ত করে। ওয়ার্ল্ড ভিশন একটি শিশু কেন্দ্রিক সংস্থা। শিশুদের ভাল রাখার জন্য বা তাদের পরিপূর্ণতা আনার জন্য যা যা করা দরকার সংস্থা হিসেবে প্রত্যেকটি জায়গায় নক করছি। বাল্যবিবাহ, শিশু শ্রম, শিশু নির্যাতন,পাচার, অবহেলা, অবজ্ঞা নিয়ে কাজ করছি। বাল্যবিবাহ থেকে মুক্তি পাবার জন্য প্রথমত অবদান রাখতে পারে শিশু নিজেই। তার আচার-আচরণ ঠিক রাখার মাধ্যমে।

দ্বিতীয়ত বাবা-মা, তৃতীয়ত সমাজ, চতুর্থ বাল্যবিবাহ রক্ষা করা রাষ্ট্রের গুরু দায়িত্ব। তারা আইন প্রণয়ন করে বালবির প্রতিরোধে। বাবা মাকে একেকজনকে দৃষ্টান্ত হতে হবে। যাতে করে সন্তানরা এই ফ্যামিলির মত হয়। বাল্যবিবাহ মুক্ত করুন আপনার পরিবার থেকে।  এতে করে বাল্যবিবাহ মুক্ত হবে। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। জেলায় প্রতিবন্ধী সেই ব্যক্তির সংখ্যা ১৩ হাজারের উপরে। প্রতিবন্ধী শিশু যে পরিবারে আছে পরিবারের বাবা মার দুঃখ কষ্ট অনেক। গর্ভকালীন সময়ে স্বাস্থ্যগত বিষয়ে সচেতন না হওয়ার কারণে ও যে শিশু পৃথিবীতে আসছে তা যত্নে কিভাবে নিতে হবে এই সম্পর্কে পরিবার জানেনা। অপরিপক্ক মা কিভাবে একজন ভালো শিশু জন্ম দিবে।  সেখানেই সন্তান প্রতিবন্ধী হচ্ছে।  

অভিভাবকদের প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে অল্প বয়সে ছেলে মেয়েদের বিয়ে না দেয়া।

অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ফকিরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বদিয়াজ্জামান ডিপটি। কুপতলা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসাদুল  ইসলাম, পশ্চিম কুপতলা উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক শাহিদুল ইসলাম, পশ্চিম কুপতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হোসেন আলী, সমাজসেবা অধিদপ্তর গাইবান্ধার শিশু সুরক্ষা বিষয়ক সমাজকর্মী ফরহাদ আলম, সাবেক কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক,৩নং কুপতলা ইউনিয়ন পরিষদ ইউপি সদস্য কামরুল হাসান,

ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ পরিবর্তন প্রজেক্ট প্রকল্প কর্মকর্তা রেখা খাতুন, শিক্ষার্থী আপন হোসেন বিজয়, ফাতেমা তুজ জান্নাত। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন -পশ্চিম কুপতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জয়নুল আবেদীন। এ সময় ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ গাইবান্ধা এরিয়া অফিসের বিভিন্ন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে ৩নং কুপতলা ইউনিয়ন পরিষদকে বাল্যবিবাহ মুক্ত করনের জন্য ফলক উন্মোচন মাধ্যমে শুভ উদ্বোধন করেন।

বক্তারা আরও বলেন বাল্যবিবাহকে লাল কার্ড দেখাতে হবে। সামাজিকভাবে প্রতিরোধ করতে হবে। সামাজিক উন্নয়নে বাধাগ্রস্ত করে বাল্যবিবাহ। বাল্যবিবাহের কারণে শিক্ষার ড্রপ হচ্ছে প্রতিদিন  শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থী  ঝরে পড়ছে। বাল্য বিবাহের কারণেই অপরিপক্ষ মায়েরা শ্বশুরবাড়িতে তালাকপ্রাপ্ত  হওয়া, প্রসবকালীন সময় মৃত্যু সহ বিভিন্ন রকম সমস্যায় পতিত হচ্ছে। দারিদ্রতার কারণে বাল্যবিবাহ হচ্ছে।  আমরা যারা সচেতন মানুষ আছি। তারা বাল্যবিবাহ হতে দেবো না।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad