Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ২ ঘন্টা আগে
ফটো কার্ড

ম্যাকেইতে রহস্যে ঘেরা উইকেট

 ম্যাকেইতে রহস্যে ঘেরা উইকেট

অনলাইন ডেস্ক ►

ম্যাকেই, অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে অবস্থিত সমুদ্র তীরবর্তী এক শহর। এই শহরের পাশে প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত গ্রেট ব্যারিয়ার রিফের কিছু অংশ। ম্যাকেইতে অবস্থিত ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নামও হয়েছে এই রিফকে কেন্দ্র করেই। গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারিনা। এ মাঠেই কাল সকালে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় টেস্ট লড়াই। ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র সাড়ে তিন দিনে পরাজিত করার পর দারুণ আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ। আরও একবার অস্ট্রেলিয়ার বুকে টেস্ট জয়ের গল্প লিখতে বদ্ধপরিকর টাইগাররা। বাঘের থাবায় প্যাট কামিন্সদের বুক চিরে দিতে অপেক্ষায় আছে দলটি। তবে আছে শঙ্কাও। অসিরা এখন আহত ক্যাঙ্গারু। ঘুরে দাঁড়িয়ে মরণ কামড় দিতে প্রস্তুত। আগের চেয়ে অনেক বেশি সংঘবদ্ধ আর ভয়ংকর রূপে ম্যাচে ফিরবে অস্ট্রেলিয়া। 

এ কারণেই বাংলাদেশের কোচ ফিল সিমন্স বলছেন, ‘অস্ট্রেলিয়া অনেক শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসবে। ফলে আমাদের নিজেদের লেভেল ধরে রাখতে হবে। কিছুটা উন্নতিও করতে হবে। আমরা যদি একভাগও উন্নতি করতে পারি, তাহলে  নিশ্চিত করতে হবে যেন আমরা তা মাঠে করে দেখাতে পারি। তবে আমরা জানি, অস্ট্রেলিয়া তাদের খেলার ধরন বদলে আমাদের চেপে ধরার চেষ্টা করবে।’ নিজের ক্যারিয়ারের সেরা টেস্ট জয়ের পর এখন আর পেছন ফিরে দেখতে রাজি নন সিমন্স। শিষ্যদের তৈরি করছেন আরও একটা চূড়ান্ত লড়াইয়ের জন্যই। বাংলাদেশ দল ম্যাকেইতে পৌঁছেছে দুই দিনেরও বেশি হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে স্থানীয় আবহাওয়া ও পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি কঠোর অনুশীলনও করেছেন নাজমুল হোসেন শান্তরা। গতকাল গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ স্টেডিয়ামে অনুশীলন করে মাঠের পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেছেন টাইগাররা। এখানে তাপমাত্রা বেশ কম। ১৪ থেকে ২১ ডিগ্রিতে ওঠানামা করছে। ♦ আজ শুরু দ্বিতীয় টেস্ট  ♦ ভেন্যু : গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারিনা, ম্যাকেই সময় : সকাল ৬টা বাংলাদেশের শীতকালই বলা যায়। তবে আবহাওয়াটা মানিয়ে নিয়েই টেস্ট লড়াইয়ে নামতে চায় বাংলাদেশ। গতকাল কোচ এক ভিডিও বার্তায় বলেছেন, আমরা এখানে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি।’ স্থানীয় আবহাওয়া বেশ পছন্দই হয়েছে সিমন্সের। বিশেষ করে এখানে তীব্র গরম নেই। তবে আছে অন্য চ্যালেঞ্জ।

ম্যাকেইতে অবস্থিত গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারিনায় আগে কখনই টেস্ট ম্যাচ হয়নি। পরিসংখ্যান দেখে বোঝার উপায় নেই কিছুই। রান কেমন হতে পারে? পেস আক্রমণ নাকি স্পিন আক্রমণ, কারা সুবিধা পাবে? এসব প্রশ্নের উত্তর অতীতের পরিসংখ্যান দেখে আন্দাজ করার সুযোগ নেই। এ মাঠে দুটি ওয়ানডে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৫ সালের ২২ ও ২৪ আগস্ট এই মাঠে দুটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে অস্ট্রেলিয়া-দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রথমটিতে দক্ষিণ আফ্রিকা ৮৪ রানে পরাজিত করে অস্ট্রেলিয়াকে। দ্বিতীয় ম্যাচে ২৭৬ রানে জয় পায় অস্ট্রেলিয়া। ৪৩১ রানের বিপরীতে দক্ষিণ আফ্রিকা করেছিল কেবল ১৫৫ রান। ১৯৯২ সালে ভারত-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ এখানে হওয়ার কথা ছিল। তবে বৃষ্টিতে ভেসে যায় ম্যাচটি। সেই ম্যাচে মাঠ শুকাতে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়েছিল। তাতেও কাজ হয়নি।

ম্যাকেই স্টেডিয়াম তাই রহস্যে ঘেরা এক উইকেট। এখানে মেয়েদের ওয়ানডে ক্রিকেট হয়েছে তিনবার। একবার ভারত ও দুবার অস্ট্রেলিয়ার মেয়েরা জয় পেয়েছে এই মাঠে। রান বেশ ভালোই হয়েছে মেয়েদের ক্রিকেটে। তবে ছেলেদের ক্রিকেট, বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেট পুরোপুরিই আলাদা। এখানে উইকেটও নিশ্চয়ই হবে ভিন্ন ধরনের। সম্ভবত অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণ সহায়ক। ডারউইনে যেমনটা হয়েছিল। তবে অস্ট্রেলিয়া বুঝে গেছে, বাংলাদেশেরও আছে পেস অস্ত্র। হাসান মাহমুদ, তাসকিন আহমেদ আর শরিফুলরা এখন যেকোনো ব্যাটিং লাইনের জন্যই হুমকি। কী অপেক্ষা করছে ম্যাকেইর গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারিনার টেস্ট অভিষেকে? বাংলাদেশ কি এখানে ইতিহাস লিখতে পারবে? নাকি অস্ট্রেলিয়া ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজ বাঁচানোর লড়াই জিতে নেবে? অপেক্ষা বেশি নেই। কাল সকাল থেকেই শুরু হচ্ছে টেস্ট লড়াই।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad