Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ৩ ঘন্টা আগে
ফটো কার্ড

রংপুরের পানের গ্রাম ভাগ্যের চাকা খুলেছে কৃষকের

রংপুরের পানের গ্রাম ভাগ্যের চাকা খুলেছে কৃষকের

রংপুর প্রতিনিধি ►
ভোরের প্রথম আলো ফোটার আগেই কর্মমুখর হয়ে ওঠে রংপুরের মমিনপুর ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রাম। সবুজ পানের বরজে ব্যস্ত সময় পার করেন কৃষকেরা। একটা সময় যারা কেবল শ্রমিকের কাজ করতেন, আজ তারাই নিজের আঙিনায় পান চাষ করে হয়ে উঠেছেন স্বাবলম্বী। গ্রামটি এখন অঞ্চলজুড়ে পানের গ্রাম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
আগে যেখানে শুধু ধান ও সবজি চাষ হতো, সেখানে গত ২৫ বছরে আমূল পরিবর্তন এসেছে। স্থানীয় কৃষক রবিনাশ রায় ও এমদাদুল হকের হাত ধরে শুরু হওয়া এই যাত্রা এখন পুরো গ্রামকে বদলে দিয়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, রংপুর সদর উপজেলায় বর্তমানে প্রায় ১৩৪ হেক্টর জমিতে পানের চাষ হচ্ছে। যাদের নিজস্ব কৃষিজমি নেই, তারাও বাড়ির পাশের খালি জায়গায় পান চাষ করে সংসারের হাল ধরেছেন।

কৃষকদের মতে, ধান চাষের তুলনায় পান চাষ অনেক বেশি লাভজনক। ধান চাষে বারবার জমি প্রস্তুত ও খরচের ঝুঁকি থাকলেও, পান একবার চাষ করলে টানা ১০-১২ বছর পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। স্থানীয় চাষি আমিনুল হকের তথ্যমতে, ৪০ শতক জমিতে ধান চাষ করে বছরে খরচ বাদে যেখানে ১৫-১৮ হাজার টাকা আয় করা কঠিন, সেখানে একই জমিতে পান চাষ করে খরচ বাদ দিয়ে বছরে ১ লাখ ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব।

সংসারে অভাব থাকলেও দমে যাননি মোমেনা খাতুন। অসুস্থ স্বামীর সংসারে একসময় অন্যের জমিতে দিনমজুরি করতেন তিনি। কিন্তু নিজের ১৮ শতক জমিতে পান চাষ করে আজ তিনি সচ্ছল। বর্তমানে তিনি নিজের জমানো টাকায় ১১ শতক জমি কিনেছেন এবং সন্তানদের পড়াশোনা করাচ্ছেন। মোমেনার ভাষায়, পান শুধু পাতা নয়, এগুলো যেন আমাদের জন্য টাকার গাছ।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আফরিন বিনতে আজিজা জানান, পান একটি অত্যন্ত লাভজনক অর্থকরী ফসল। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চাষিদের আধুনিক পদ্ধতিতে পান চাষ ও পরিচর্যার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।  বলরামপুর গ্রামের এই পান চাষিদের সফলতা নতুন প্রজন্মের কৃষকদের জন্যও একটি বড় প্রেরণা। সঠিক পরিচর্যা ও সরকারি সহায়তায় এই গ্রামটি রংপুরের কৃষি অর্থনীতিতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad