• মাধুকর প্রতিনিধি
  • তারিখঃ ৮-১২-২০২২, সময়ঃ রাত ০৭:২৮
  • ১৩৪ বার দেখা হয়েছে

রাজাকারের নামে কলেজ: স্বাধীনতার ৫১ বছরেও হয়নি নাম পরিবর্তন

রাজাকারের নামে কলেজ: স্বাধীনতার ৫১ বছরেও হয়নি নাম পরিবর্তন

রিপন আকন্দ,গাইবান্ধা 

৩৬ বছর ধরে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার একটি কলেজের নাম স্থানীয় এক রাজাকারের নামে রয়েছে। বছরের পর বছর নামটি পরিবর্তনের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেও নামটি পরিবর্তন করা যায়নি। এতে ক্ষোভ ও দু:খ প্রকাশ করেছেন ওই কলেজের শিক্ষক শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষেরা। তাদের দাবি দ্রুত নামটির পরিবর্তন করা হক। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে যোগাযোগ করে নামটি পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

কলেজটির নাম 'ধর্মপুর আব্দুল জব্বার ডিগ্রি কলেজ'। মুক্তিযুদ্ধের সময় আব্দুল জব্বার ছিলেন চিহ্নিত রাজাকার ও শান্তি কমিটির পরিচালক। জব্বারের মদদে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ও ব্যাপক লুটপাট চালায় পাক বাহিনী । সেই আব্দুল জব্বারে নামে ১৯৮৬ সালে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ধর্মপুর ইউনিয়নে প্রতিষ্ঠিত হয়  কলেজটি। কলেজটি প্রতিষ্ঠার সময় মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতার পক্ষের লোকজন নামকরন নিয়ে প্রতিবাদ করলেও কোন কাজ হয়নি। পরে ২০১৬ সাল থেকে কলেজের ছাত্র-ছাত্রী ও স্থানীয় সচেতন মহল নামটি পরিবর্তনে আন্দোলন সংগ্রাম করে আসলেও এখন পর্যন্ত নামটি পরিবর্তনে তেমন কোন উদ্যোগ গ্রহন করা হয়নি। কলেজের পক্ষ থেকে নাম পরিবর্তনের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালসহ শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে আবেদন করেও কোন ফলপ্রসু ফলাফল পায়নি। বার বার শুধু আশ্বাস মিলেছে। অজানা অথবা কোন দৈব্য শক্তির কারনে নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটি মন্ত্রনালয়ে ঝুলে আছে।

ধর্মপুর আব্দুল জব্বার ডিগ্রি কলেজের ডিগ্রি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সিহাব মিয়া জানান, আমরা বহু মিটিং মিছিল আন্দোলন সংগ্রাম করেছি কিন্তু রাজাকারে নামটি পরিবর্তন করতে পারিনি। কেন এবং কি কারনে কোন শক্তির বলে নামটি পরিবর্তন হচ্ছে না তা আমাদের জানা নেই। আমরা চাই এই কলেজটির নাম পরিবর্তন করা হোক। আমরা কলেজের নামের সাথে রাজাকারের নামটি উচ্চারন করতে চাই না।

রুকু ইয়াছমীন নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে যারা বিরোধীতা করেছে তাদের নামে যে আজও এই  কলেজটি আছে এটা ভাবতে আমাদের কষ্ট হয়। এই কলেজের একজন সাধারন শিক্ষার্থী হিসেবে প্রধান মন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানাই দ্রুত যেন রাজাকারে নামটি অপসারন করা হয়।

ইন্টারমেডিয়েট প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী শাকিল মিয়া বলেন, স্বাধীন দেশে রাজাকারে নামে কলেজ এটা ভাবতে ও পরিচয় দিতে লজ্জা লাগে। প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিজয়ের মাসেই পরিবর্তনের দাবি জানান এই ছাত্র।

স্থানীয় তাজুল ইসলাম নামে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় আব্দুল জব্বার স্বাধীনতার ঘোর বিরোধী  ছিলেন। শান্তি কমিটির পরিচালকও ছিলেন। জব্বারে দ্বারা এই অঞ্চলের মানুষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমি মুক্তিযোদ্ধা  হিসেবে দাবি করছি মৃত্যুর আগেই যেন এই কলেজ থেকে আব্দুল জব্বারের পরিবর্তে অন্য কোন নামকরণ করা হয়।

রাজু মিয়া নামে স্থানীয় এক আওয়ামীলীগ নেতা বলেন, দেশের জন্য মাটির জন্য যারা জীবন দিয়েছে তাদের কারো নামে যদি এই কলেজটি নাম হতো তাহলে শান্তি পেতাম। এই রাজাকার আব্দুল জব্বারের নামে ধরে কলেজটি নাম নিতে ঘৃণা হয়। আমরা চাই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের কোন শক্তির নামে অথবা স্থানীয় প্রসিদ্ধ কোন স্থানের নামে একটি কলেজটির নামকরণ করা হোক। এ ব্যাপারে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

এ ব্যাপারে কলেজের অধ্যক্ষ ছামিউল ইসলাম জানান, দীর্ঘ দিন ধরে কলেজটির নাম পরির্তনে চেষ্টা করে আসছি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও মন্ত্রনালয়ে ধরণা ধরেও আজ অবধি আশার আলো দেখতে পারিনি। আমি মনে করি প্রশাসনে লুকিয়ে থাকা ঘাপটি মেরে বসে থাকা অপশক্তির কারনে আমাদের এই কলেজ থেকে রাজাকারে নামটি মুছে সম্ভব হচ্ছে না। আমি আশা করব সরকার যেন এই কলেজটির নাম পরিবর্তন করে আমাদের অভিশাপ ও দায় মুক্ত করেন। এটা আমাদের এলাকার দাবি,এটা গাইবান্ধা বাসীর দাবি।

জেলা প্রশাসক অলিউর রহমান জানান, একজন চিহ্নিত রাজাকারে নামে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে একটি কলেজ আছে এই খবরটি আমার জানা ছিল না। আমি অতি দ্রুত কলেজের গর্ভরনিং বডির কথা বলে নিশ্চিত হয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে যোগাযোগ করে রাজাকারের নামটি পরিবর্তন করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়