• মাধুকর প্রতিনিধি
  • তারিখঃ ২০-১০-২০২২, সময়ঃ রাত ০৭:৪২
  • ৬৩ বার দেখা হয়েছে

রাণীনগরে খেজুর রস সংগ্রহে ব্যস্ত গাছিরা

রাণীনগরে খেজুর রস সংগ্রহে ব্যস্ত গাছিরা

আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ  ►

শীত এসে দরজায় কড়া নাড়ছে। শরৎ ঋতুকে বিদায় দিয়ে হেমন্তকে বরণ করেছে প্রকৃতি। বৈচিত্রপূর্ণ ছয়টি ঋতুর দেশ আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ। এক একটি ঋতুর রয়েছে এক একটি বৈশিষ্ট্য। ঋতু বৈচিত্রে এখন দিন শেষে একটু একটু কুয়াশা জানান দিচ্ছে শীতের আগমণী বার্তা। এদিকে উপজেলার সচেতন মহল মনে করেন, খেজুর গাছ আমাদের অর্থনীতি, সংস্কৃতি, সাহিত্য তথা জীবনধারায় মিশে আছে। এই ঐতিহ্যকে যে কোন মূল্যে আমাদের রক্ষা করতে হবে। 

আর প্রতিটি ঋতুর রয়েছে আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য। আর শীতকালের অনন্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে শত বছরের ঐতিহ্য খেজুর গাছের রস। শীতের সকালে খেজুর গাছের সুমিষ্ট রসের সঙ্গে হাতে ভাজা মুড়ি কিংবা চাল ভাজা খাওয়ার মজাই আলাদা। যার কারণে আবহমান গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য খেজুর রস সংগ্রহে নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার প্রতিটি গ্রামে গ্রামে খেজুর রস সংগ্রহের জন্য গাছিরা খেজুর গাছ কাটার কাজে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন।

পুবালি বাতাসে অপরুপ সৌন্দর্যে সকলের মন মাতিয়ে তুলছে মিষ্টি খেজুর রসের ঘ্রাণ। কাক ডাকা ভোরে রস সংগ্রহ ও সন্ধ্যায় চলছে গাছ পরিচর্যার কার্যক্রম। এবার কিছুটা আগেই উপজেলার প্রান্তিক জনপদের গ্রামে গ্রামে সকালের শিশিরের সাথে অনুভূত হচ্ছে মৃদু শীত।

আর মাত্র কয়েক দিন পর রস সংগ্রহ করে রস থেকে লালি ও গুড় তৈরির পর্ব শুরু হয়ে চলবে প্রায় মাঘ মাস পর্যন্ত। খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহের প্রস্তুতি উপজেলার প্রতিটি গ্রামে চোখে পড়ছে। খেজুর রস ও গুড়ের জন্য আত্রাই উপজেলা এক সময় খ্যাতি ছিল। সময়ের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রাম বাংলার প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী খেজুরের গুড়। কিছুদিন আগেও বিভিন্ন এলাকার অধিকাংশ বাড়িতে, ক্ষেতের আইলে, ঝোপ-ঝাড়ের পাশে ও রাস্তার দুই ধার দিয়ে ছিল অসংখ্য খেজুর গাছ। কিন্তু বর্তমান সময়ে আশঙ্কাজনক হারে কমতে শুরু করেছে খেজুর গাছ। যার কারণে রসের উৎপাদনও কমেছে অনেক। 

জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার বেশি হওয়ার কারণে যে পরিমাণ গাছ চোখে পড়ে তা নির্বিচারে নিধন করায় দিনদিন খেজুর গাছ কমছেই। এখনও শীতকালে শহর থেকে মানুষ দলে দলে ছুটে আসে গ্রাম বাংলার খেজুর রস খেতে। 

গাছি আবুল কালাম জানান, আমরা পেশাগত কারণে প্রায় প্রতি বছরেই উপজেলার রেললাইনের পাশের চকবলারাম গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় জমিতে তাবু গেড়ে ওই এলাকার খেজুর গাছ মালিকদের কাছ থেকে ৪ মাসের জন্য গাছ ভেদে ৫থেকে ৭ কেজি করে খেজুরের গুড়ের বিনিময়ে আমরা গাছগুলো থেকে রস সংগ্রহ করি।

কিন্তু বর্তমানে চাহিদা মত খেজুর গাছ না পাওয়ার কারণে রস কম হওয়ায় আশানুরুপ গুড় তৈরি করতে পারি না। তারপরও এবছর প্রায় ২শ’টির বেশি খেজুর গাছের মালিকদের সাথে চুক্তি করেছি। বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে না দিয়ে জীবন-জীবিকার জন্য এই পেশা ধরে রেখেছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শহীদুল ইসলাম জানান, খেজুর গাছের অনেক উপকারিতা রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলেই খেজুর গাছ প্রায় বিলুপ্তির পথে। গাছিদের খেজুর গাছ কাটার কাজটি শিল্প আর দক্ষতায় ভরা। আমাদের সবারই উচিত বাণিজ্যিক ভাবে না হলেও অন্যান্য গাছের মতো দু-একটি খেজুর গাছ রোপন করা।

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়