Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ৩ ঘন্টা আগে
ফটো কার্ড

লিটনের সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশের দিন

লিটনের সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশের দিন

অনলাইন ডেস্ক ►

দ্বিতীয় টেস্টের সংক্ষিপ্ত স্কোর: প্রথম দিন শেষে

পাকিস্তান প্রথম ইনিংসে ৬ ওভারে ২১/০ (আওয়াইজ ১৩*, ফজল ৮*)

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৭৭ ওভারে ২৭৮/১০ ( শরিফুল ১২*; মাহদুমুল ০, তানজিদ ২৬, মুমিনুল ২২, শান্ত ২৯, মুশফিক ২৩, মিরাজ ৪, তাইজুল ১৬, তাসকিন ৭, লিটন ১২৬, নাহিদ ০)

লিটন দাসের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে প্রথম দিনটা ছিল বাংলাদেশের। শুরুর বিপর্যয় ছাপিয়ে পরে পাকিস্তানের বোলারদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছেন তিনি। তার ষষ্ঠ সেঞ্চুরিতেই বাংলাদেশ ইনিংসে সুবিধাজনক জায়গায় যেতে পেরেছে। দিনের সবচেয়ে আলোচিত ১২৬ রানের ইনিংসটি খেলেছেন তিনি। তার ব্যাটে ভর করেই প্রথম ইনিংসে অলআউট হয়েছে ২৭৮ রানে। পরে পাকিস্তান বিনা উইকেটে ২১ রানে প্রথম দিন শেষ করেছে। তারা এখনও ২৫৭ রানে পিছিয়ে। ১৩ রানে ব্যাট করছেন ওপেনার আজান আওয়াইজ। আব্দুল্লাহ ফজল ব্যাট করছেন ৮ রানে।

লিটনের আউটের পর ২৭৮ রানে শেষ বাংলাদেশের ইনিংস

পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের প্রথম দিনে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত উইকেটকিপার-ব্যাটার লিটন দাসের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে লড়াইয়ে ফিরেছে স্বাগতিকরা।

দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিম ও মেহেদী হাসান মিরাজ ফিরলে ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারায় তারা। তাতে দুইশর নিচে অলআউটের শঙ্কাও জাগে।

কিন্তু কঠিন সেই সময়েই প্রতিরোধ গড়ে তোলেন লিটন। লেজের দিকে টেলএন্ডারদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলকে ২৫০ রানের গণ্ডি পার করান তিনি। তাইজুল ইসলামের সঙ্গে ৬০, তাসকিন আহমেদের সঙ্গে ৩৮ এবং শরিফুল ইসলামের সঙ্গে নবম উইকেটে ৬৪ রানের জুটি গড়ে দলকে সুবিধাজনক স্থানে নিয়ে গেছেন।

অবশ্য এই সেঞ্চুরির পেছনে ভাগ্যও সহায় ছিল। ৫২ রানে আউট হতে পারতেন। পাকিস্তান রিভিউ না নেওয়াতে বেঁচে গেছেন। শেষ পর্যন্ত ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে হাসান আলীর বলে ১২৬ রানে ফিরেছেন। তার ১৫৯ বলের ইনিংসে ছিল ১৬টি চার ও ২টি ছক্কা। তার আউটের সঙ্গে সঙ্গে ইনিংস শেষ হতেও সময় লাগেনি। হাসান আলী ওই একই ওভারে নাহিদ রানাকেও তুলে নিলে বাংলাদেশ ৭৭ ওভারে ২৭৮ রানেই গুটিয়ে গেছে।

পাকিস্তানের হয়ে ৮১ রানে ৪ উইকেট নেন খুররম শাহজাদ। ৪৫ রানে ৩টি নেন মোহাম্মদ আব্বাস। ৪৯ রানে দুটি নেন হাসান আলী। ৯৬ রানে একটি নেন সাজিদ খান।

১২৬ রানে থামলেন লিটন

একটা সময় ইনিংসের নিয়ন্ত্রণই হাতছাড়া হতে বসেছিল। সেখানে ইনিংসের নিয়ন্ত্রণ নিতে পুরো কৃতিত্ব লিটন দাসের। ষষ্ঠ সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশকে অস্বস্তির বৃত্ত থেকে উদ্ধার করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১২৬ রানে থামতে হয়েছে তাকে। তাকে ফজলের ক্যাচ বানিয়েছেন হাসান আলী।  

লিটনের ষষ্ঠ টেস্ট সেঞ্চুরি

সতীর্থদের ব্যর্থতার দিনে লিটন দাসের ব্যাটিংয়েই ইনিংসে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। যেখানে দুইশর নিচেই অলআউট হওয়ার শঙ্কা জেগেছিল সেখানে একার লড়াইয়ে দলের স্কোর আড়াইশ পার করেছেন লিটন। তুলে নিয়েছেন টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি। পাকিস্তানের বিপক্ষেই এটি লিটনের তৃতীয় সেঞ্চুরি।

তাসকিনের আউটে পড়লো অষ্টম উইকেট

তাইজুলের বিদায়ের পর তাসকিনকে সঙ্গে নিয়ে আরও ৩৮ রানের জুটি গড়েন লিটন। তুলে নেন ২৮তম ফিফটি। লিটনের ব্যাটে স্কোরও ছাড়ায় দুইশ। ৬৪.১ ওভারে তাসকিনের (৭) বিদায়ে ভেঙেছে অষ্টম উইকেট জুটি। খুররম শাহজাদের বলে স্লিপে সালমান আলীকে ক্যাচ দিয়েছেন তাসকিন। এটি ছিল খুররমের চতুর্থ উইকেট।  

তাইজুলের বিদায়ে ভাঙলো ৬০ রানের জুটি

১১৬ রানে পড়েছিল ষষ্ঠ উইকেট। তার পর থেকে দুর্দান্ত জুটিতে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে থাকেন তাইজুল ইসলাম ও লিটন দাস। তাদের জুটিতে ভর করেই দ্বিতীয় সেশন পার করে বাংলাদেশ। কিন্তু তৃতীয় সেশনের পর বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি এই জুটি। তাইজুলকে (১৬) বোল্ড করে ৬০ রানের জুটি ভেঙেছেন সাজিদ খান। তাইজুলের বিদায়ে ১৭৬ রানে পড়েছে বাংলাদেশের সপ্তম উইকেট।  

৬ উইকেট পতনের পর লিটন-তাইজুলের জুটি, চায়ের বিরতিতে বাংলাদেশ

লাঞ্চের আগে দলকে দারুণভাবে টেনে নিচ্ছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিম। দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে তাদের প্রতিরোধ ভাঙতেই বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। ১৫ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় তারা। সপ্তম উইকেট জুটিতে দলকে খেলায় ফেরাতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন লিটন দাস ও তাইজুল ইসলাম। ৫২ রানে অবিচ্ছিন্ন থেকে চায়ের বিরতিতে গেছেন তারা। দ্বিতীয় সেশন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ১৬৮ রান। লিটন ব্যাট করছেন ৪২ রানে, তাইজুল ১১ রানে।

মিরাজের বিদায়ে পড়লো ষষ্ঠ উইকেট

লাঞ্চ থেকে ফিরেই ভীষণ বিপদে পড়েছে বাংলাদেশ।  শান্ত-মুশফিক ফিরেছেন। দলের বিপদের সময় প্রতিরোধ গড়তে ব্যর্থ হয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজও। ৩৮.২ ওভারে খুররম শাহজাদের তৃতীয় শিকারে পরিণত হয়েছেন তিনি। খুররমের বাউন্সারে শট খেলার চেষ্টায় ৪ রানে ক্যাচআউট হয়েছেন মিরাজ। তাতে ১৫ রানের মধ্যে দ্রুত পড়েছে ৩ উইকেট!

লাঞ্চের পর সাজঘরে শান্ত-মুশফিক

লাঞ্চের পর ভেঙে গেছে শান্ত-মুশফিকের ৪৩ রানের জুটি। আবারও বিপদে পড়েছে স্বাগতিকরা। ৩৩তম ওভারে সেই আব্বাসের বলেই কিপারের কাছে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন নাজমুল হোসেন শান্ত। বাংলাদেশ অধিনায়ক ৭৪ বলে ২৯ রানে ফিরেছেন। তার পর ৩৭তম ওভারে খুররম শাহজাদের বলে এলবিডাব্লিউ হয়েছেন মুশফিকুর রহিম। বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ব্যাটার ৬৪ বলে ২৩ রানে আউট হয়েছেন। তাতে ১১০ রানের মথ্যে ৫ উইকেট হারিয়েছে স্বাগতিক দল।  

প্রথম সেশনে পড়লো ৩ উইকেট, লাঞ্চ বিরতিতে বাংলাদেশ

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের প্রথম দিনে শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছিল বাংলাদেশ। পরে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিমের দৃঢ়তায় ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়ে প্রথম সেশন শেষ করেছে স্বাগতিক দল। লাঞ্চ বিরতির আগে প্রথম ইনিংসে তাদের সংগ্রহ ২৬ ওভারে ৩ উইকেটে ১০১।

শুরুতে মেঘলা আবহাওয়ায় টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। দারুণ ছন্দে থাকা শান্ত ৫১ বলে ২৬ রানে অপরাজিত আছেন। আর মুশফিক ৩১ বলে ১৮ রান করে তাকে সঙ্গ দিচ্ছেন। চতুর্থ উইকেটে দুজন মিলে অবিচ্ছিন্ন ৩৮ রানে।

সিলেটে প্রথম দিন দ্বিতীয় বলেই আঘাত হানেন আব্বাস। তার আঘাতে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়। প্রথম ঘণ্টাতে চোট আঘাত পায়  পাকিস্তানও। নিজের বলেই তানজিদ তামিমের ক্যাচ নিতে গিয়ে মাথা পিচে লেগে আহত হন পেসার হাসান আলী। পরে তাকে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নেওয়া হয়। যদিও পরে আবার মাঠে ফিরে বোলিং করেন তিনি।

অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা তানজিদ কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন শট খেলেছেন। তবে সেট হওয়ার পর উইকেট বিলিয়ে দেন এই বাঁহাতি। আব্বাসের বলে মিড-অনের ওপর দিয়ে খেলতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। তাতে তানজিদ আউট হন ২৬ রানে। তানজিদের বিদায়ে ভাঙে তার ও মুমিনুল হকের ৪৪ রানের জুটি।

এরপর মুমিনুল ও শান্ত আবার ইনিংস গড়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু সেটাও স্থায়ী হয়নি বেশিক্ষণ। এবার খুররম শাহজাদের বলে বোল্ড হন মুমিনুল। ৪১ বলে ২২ রান করে ফিরতে হয় তাকে। এরপর অধিনায়ক শান্ত ও মুশফিক সতর্ক ব্যাটিংয়ে ইনিংস সামাল দেন।

বোল্ড হয়ে ফিরলেন মুমিনুল

প্রথম সেশনেই চাপে পড়ে গেছে বাংলাদেশ। দ্রুত সময়ে মুমিনুল হকও (২২) ফেরায় পতন হয়েছে তৃতীয় উইকেটের। ১৬তম ওভারে তাকে বোল্ড করেছেন খুররম শাহজাদ। মুমিনুলের ৪১ বলের ইনিংসে ছিল ৩টি চার।

অভিষেকে ২৬ রানে ফিরলেন তানজিদ

দ্বিতীয় বলে মাহমুদুল হাসান জয়ের আউটের পর জুটি গড়ার চেষ্টায় ছিলেন অভিষিক্ত তানজিদ হাসান ও মুমিনুল হক। তুলনামূলক আগ্রাসী ছিলেন তানজিদ। কিন্তু তাকে বেশিক্ষণ টিকতে দেননি মোহাম্মদ আব্বাস। বাজে শটে ক্যাচ তুলে ফিরেছেন ২৬ রানে। তানজিদের ৩৪ বলের ইনিংসে ছিল ৩টি চার। এটি ছিল আব্বাসের দ্বিতীয় উইকেট।  

দিনের দ্বিতীয় বলেই আউট মাহমুদুল

দ্বিতীয় টেস্টে দিনের দ্বিতীয় বলেই ওপেনারকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। মোহাম্মদ আব্বাসের বলে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন মাহমুদুল হাসান জয়। বাংলাদেশ তাদের প্রথম উইকেট হারিয়েছে শূন্য রানে।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, তানজিদের অভিষেক

মেঘলা আবহাওয়ায় শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ-পাকিস্তান দ্বিতীয় টেস্ট। প্রথম টেস্টে দাপুটে জয়ের পর সিরিজে পাকিস্তানকে ধবলধোলাইয়ের লক্ষ্য নিয়ে আজ স্বাগতিক দল খেলতে নামছে। অবশ্য প্রথম টেস্টের মতো এবারও টস ভাগ্য সহায় হয়নি বাংলাদেশের। তাদের শুরুতে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানিয়েছে পাকিস্তান।

একাদশে কারা

অবশেষে দ্বিতীয় টেস্টে অভিষেক হচ্ছে ওপেনার তানজিদ হাসানের। সাদা বলে নিয়মিত এই ওপেনার এবার লাল বলের ক্রিকেটে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে যাচ্ছেন। প্রথম টেস্টের একাদশ থেকে আরও একটি পরিবর্তন এসেছে বাংলাদেশের। পেসার এবাদত হোসেনের জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন শরিফুল ইসলাম। পাকিস্তানও পরিবর্তন এনেছে ৩টি। বাদ পড়েছেন ইমাম উল হক, শাহীন আফ্রিদি ও নোমান আলী। ফিরেছেন বাবর আজম, খুররম শাহজাদ ও সাজিদ খান।

বাংলাদেশ একাদশ: নাজমুল হোসেন (অধিনায়ক), মাহমুদুল হাসান, তানজিদ হাসান, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস (উইকেটকিপার), মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা ও শরীফুল ইসলাম।

পাকিস্তান একাদশ: আজান আওয়াইজ, শান মাসুদ (অধিনায়ক), বাবর আজম, আব্দুল্লাহ ফজল, সৌদ শাকিল, মোহাম্মদ রিজওয়ান (উইকেটকিপার), সালমান আগা, খুররম শাহজাদ, সাজিদ খান, হাসান আলী ও মোহাম্মদ আব্বাস।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad