Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ৩ ঘন্টা আগে
ফটো কার্ড

শব্দদূষণে জনজীবন অতিষ্ঠ, সচেতনতার তাগিদ

শব্দদূষণে জনজীবন অতিষ্ঠ, সচেতনতার তাগিদ

এআই দিয়ে তৈরি প্রতিকী ছবি

ভবতোষ রায় মনা ►

গাইবান্ধা শহরজুড়ে অসহনীয় শব্দদূষণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে শহরের প্রধান সড়কগুলো, হাসপাতাল এলাকা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে যানবাহনের বিকট হর্ন ও অনিয়ন্ত্রিত মাইকিং জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলছে। দীর্ঘ সময় উচ্চ শব্দের মধ্যে থাকায় শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন। নাগরিক সমাজ মনে করছে, কেবল আইন দিয়ে নয়, চালকসহ সকল নাগরিকের সচেতনতাই পারে গাইবান্ধাকে শব্দদূষণমুক্ত একটি বাসযোগ্য শহরে পরিণত করতে।

সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের ট্রাফিক মোড়, ডিবি রোড এবং পৌরসভা এলাকাগুলোতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইকের চালকরা পাল্লা দিয়ে হাইড্রোলিক হর্ন বা বিকট শব্দের হর্ন বাজাচ্ছেন। এছাড়াও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রচারণার জন্য উচ্চশব্দে মাইক ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েই চলেছে। নিয়ম অনুযায়ী, হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশের এলাকা নিঃশব্দ অঞ্চল হওয়ার কথা থাকলেও, গাইবান্ধার অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সামনেই নিয়ম মানার বালাই নেই। শুধু তায় নয়, বিদ্যুৎ চলে গেলে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে জেনারেটরের বিকট শব্দে ওইসব এলাকার আশপাশে দাঁড়িয়ে থাকা দায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শব্দদূষণের কারণে শিক্ষার্থীদের মনোযোগে বিঘ্ন ঘটছে এবং বয়স্কদের মধ্যে ঘুমের ব্যাঘাত ও মানসিক অস্থিরতা দেখা দিচ্ছে। এ বিষয়ে এক ভুক্তভোগী নাম প্রকাশ না করার সত্বে বলেন, রাস্তায় বের হলে কানের পর্দা ফেটে যাওয়ার উপক্রম হয়। হর্নের শব্দে রাস্তা পার হওয়াও এখন ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এসকেএস হাসপাতালের চিকিৎসক এসি সাহা বলেন, হাসপাতাল ও এর আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত শব্দদূষণ রোগীদের জন্য অত্যন্ত দুর্ভোগের কারণ। দীর্ঘস্থায়ী শব্দদূষণ মানুষের শ্রবণশক্তি কমিয়ে দেয়, হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায় এবং তীব্র মাথাব্যথা ও মেজাজ খিটখিটে হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে গুরুতর অসুস্থ রোগী, শিশু, বয়স্ক এবং অস্ত্রোপচার-পরবর্তী রোগীদের জন্য অতিরিক্ত শব্দ শারীরিক ও মানসিক অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। 

এ বিষয়ে গাইবান্ধা পরিবেশ ক্লাবের সভাপতি গোলাম রব্বানী মুসা জানান, গাইবান্ধা শহরসহ পুরো দেশ আজ মাত্রাতিরিক্ত শব্দদূষণের কবলে। হাইড্রোলিক হর্ন, মাইকের যথেচ্ছ ব্যবহার, নির্মাণকাজের বিকট শব্দ এবং যত্রতত্র উচ্চৈঃস্বরে গান-বাজনা আমাদের জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর কোনো পদক্ষেপ না থাকায় এই বিধিমালা কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ।

এ প্রসঙ্গে গাইবান্ধা পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মোঃ শের আলম জানান, শব্দদূষণের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে নিয়মিত প্রচার-প্রচারণা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় আইন মেনে চলার পাশাপাশি পৌরবাসীকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad