Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ২ ঘন্টা আগে
  • ২৭ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

শিশুদের নিরাপত্তা কোথায়? অধিকার প্রতিষ্ঠার পথে বাড়ছে শঙ্কা

শিশুদের নিরাপত্তা কোথায়? অধিকার প্রতিষ্ঠার পথে বাড়ছে শঙ্কা

গোলাপ মোস্তাফিজ►
নিজের পরিবার থেকে পরিচিত পরিবেশ- কোথাও পুরোপুরি নিরাপদ নয় শিশুরা। অপহরণ, নিখোঁজ, যৌন সহিংসতা ও হত্যার মতো ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে শিশু সুরক্ষাব্যবস্থা নিয়ে। অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিরোধ, সামাজিক সচেতনতা ও কার্যকর তদারকির দাবি জোরালো হচ্ছে।

মায়ের কোলে থাকার কথা ১১ মাসের শিশু ফাতেমা আক্তার জান্নাতের। মায়ের স্নেহ-মমতায় বেড়ে ওঠার কথা ছিল তার শৈশব। অথচ সেই শৈশবের শুরুতেই নেমে আসে ভয়াবহ অন্ধকার। অভিযোগ, মায়ের কাছ থেকে নিয়ে শিশুটিকে ৩১ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন তার নিজের বাবা। দুই মাস পর গাইবান্ধার ফুলছড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা ও আরও কয়েকজনকে আটক করা হয়। পুলিশের ভাষ্য, মাদকের টাকা জোগাড় করতেই শিশুটিকে বিক্রি করা হয়েছিল।

ফাতেমা ফিরে এসেছে মায়ের কোলে। কিন্তু তার এই ফিরে আসা কি আমাদের নিশ্চিন্ত হওয়ার সুযোগ দেয়? বরং সামনে নিয়ে আসে আরও বড় প্রশ্ন— যে শিশুর নিরাপদ আশ্রয় হওয়ার কথা নিজের পরিবার, সেই পরিবারেই যদি তার জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে, তাহলে তার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেবে কে?

ফাতেমার ঘটনা বিচ্ছিন্ন কোনো পারিবারিক সংকটের গল্প নয়; এটি শিশুদের সুরক্ষা, অধিকার ও নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। কারণ, একটি শিশুর বিপন্নতা মানে শুধু একটি পরিবারের সংকট নয়, বরং সামগ্রিক সুরক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতারও ইঙ্গিত।

পরিসংখ্যানের আড়ালে শিশুদের কান্না
বাংলাদেশে শিশু নির্যাতনের চিত্র উদ্বেগজনক। হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে ৪০৪টি ধর্ষণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২৩৮ জন শিশু ও কিশোরী। একই সময়ে ১ হাজার ৭৭ শিশু বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩০৫ জন নিহত এবং ৭৭২ জন শারীরিক বা মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে সংগঠনটির পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।

এই পরিসংখ্যান কেবল কয়েকটি সংখ্যা নয়। প্রতিটি সংখ্যার পেছনে রয়েছে কোনো শিশুর বিপন্ন জীবন, কোনো পরিবারের অসহায়ত্ব এবং কখনো কখনো সারাজীবনের জন্য বয়ে বেড়ানো ক্ষত।

তবে এসব তথ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ও সংগৃহীত ঘটনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হওয়ায় অনেক অপ্রকাশিত ঘটনা হিসাবের বাইরে থেকে যেতে পারে। সামাজিক লোকলজ্জা, ভয়, অপরাধীর প্রভাব কিংবা বিচার না পাওয়ার আশঙ্কায় অনেক পরিবার অভিযোগ করতেও সাহস পায় না। ফলে বাস্তব চিত্র প্রকাশিত পরিসংখ্যানের চেয়েও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নিখোঁজ শিশুরা কোথায়, কতটা নিরাপদ?
শিশু সুরক্ষার আরেকটি উদ্বেগজনক দিক নিখোঁজের ঘটনা। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশুর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে অথবা তারা পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে। তবে ২ হাজার ৩৮ শিশু তখনও নিখোঁজ ছিল।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ছোট শিশুরা অনেক সময় পরিবারের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কিংবা পথ হারিয়ে নিখোঁজ হয়। বড় শিশু-কিশোরদের ক্ষেত্রে পারিবারিক দ্বন্দ্ব, পড়াশোনার চাপ ও বন্ধুবান্ধবের প্রভাবসহ নানা কারণ থাকতে পারে।

কিন্তু নিখোঁজ হওয়ার কারণ যা-ই হোক, প্রতিটি ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে গভীর উদ্বেগ। শিশুটি কোথায় আছে? সে কি নিরাপদ? কেউ কি তাকে শোষণ করছে, নাকি সে কোনো অপরাধের শিকার হয়েছে?

সব নিখোঁজ শিশুর গল্প ঘরে ফেরার মধ্য দিয়ে শেষ হয় না। কোনো কোনো ঘটনায় নিখোঁজের পর শিশুর মরদেহ উদ্ধারের খবরও সামনে আসে। তাই নিখোঁজের প্রতিটি ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত অনুসন্ধান, তথ্য আদান-প্রদান এবং সমন্বিত উদ্ধার কার্যক্রম নিশ্চিত করা জরুরি।

পরিচিত মানুষ, পরিচিত পরিবেশ—তবু নিরাপত্তা কোথায়?
শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও গভীর হয় যখন অপরাধের অভিযোগ ওঠে পরিচিত মানুষের বিরুদ্ধে। ২০২৬ সালের ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী আট বছর বয়সী রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয়। পুলিশের অভিযোগপত্র ও আদালতের নথি অনুযায়ী, প্রতিবেশী সোহেল রানা শিশুটিকে নিজের বাসায় নিয়ে ধর্ষণ ও হত্যা করে। তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও মামলায় আসামি করা হয়।

৭ জুন ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। পরে মামলাটি হাইকোর্টে যায়। রামিসার ঘটনা মনে করিয়ে দেয়, শিশুকে শুধু অপরিচিত মানুষের কাছ থেকে দূরে রাখলেই নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। অনেক সময় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে পরিচিত পরিবেশেও। প্রতিবেশী, আত্মীয় কিংবা শিশুর আস্থাভাজন কেউ অপরাধে জড়িত হলে শিশুর পক্ষে বিপদ বুঝতে পারা, প্রতিবাদ করা বা সাহায্য চাওয়া আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

এ কারণেই শিশুদের নিরাপত্তা শেখানোর পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্কদের আচরণ, দায়িত্বশীলতা এবং শিশুদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগের পরিবেশেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। শিশুর সঙ্গে কে মিশছে, কোথায় যাচ্ছে, তার আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে কি না—এসব বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকা জরুরি। তবে নিরাপত্তার নামে শিশুকে ভয় দেখানো নয়, বরং এমন আস্থার সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে, যাতে সে নির্ভয়ে নিজের অভিজ্ঞতা ও উদ্বেগের কথা বলতে পারে।

অতীতের ঘটনাও দেয় সতর্কবার্তা
শিশু হত্যা ও যৌন সহিংসতার ঘটনা বাংলাদেশে নতুন নয়। ২০২১ সালে খুলনার দৌলতপুরে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী অঙ্কিতা দে ছোঁয়া নিখোঁজ হওয়ার ছয় দিন পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় ২০২৩ সালে প্রীতম রুদ্রকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এ ধরনের ঘটনা একদিকে যেমন অপরাধের ভয়াবহতা সামনে আনে, অন্যদিকে তেমনি প্রশ্ন তোলে—শিশুরা বিপদের মুখে পড়ার আগেই কি তাদের সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব নয়?

অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর তদন্ত, গ্রেপ্তার ও বিচার অবশ্যই জরুরি। কিন্তু একটি শিশুর জীবন যখন ঝরে যায় কিংবা নির্যাতনের ক্ষত নিয়ে তাকে বেঁচে থাকতে হয়, তখন শুধু শাস্তির ঘোষণা দিয়ে সেই ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন অপরাধের আগেই ঝুঁকি শনাক্ত করা এবং প্রতিরোধের ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

যৌন সহিংসতার শিকার ছেলে শিশুরাও
শিশু যৌন নির্যাতনের আলোচনায় সাধারণত কন্যাশিশুদের ঘটনা বেশি গুরুত্ব পায়। কিন্তু ছেলে শিশুরাও যে যৌন সহিংসতার শিকার হচ্ছে, সেটিও সমান গুরুত্বের সঙ্গে সামনে আনা প্রয়োজন।

জাস্টিসমেকার্স বাংলাদেশ ইন ফ্রান্সের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ১৩১টি ঘটনায় ১৭১ ছেলে শিশুর যৌন সহিংসতার শিকার হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। সংগঠনটির হিসাবে, তাদের মধ্যে ১৬১ জন ধর্ষণের এবং ১০ জন ধর্ষণচেষ্টার শিকার।

এই তথ্য স্পষ্ট করে, শিশু সুরক্ষার প্রশ্নটি ছেলে বা মেয়ে—কোনো একটি লিঙ্গের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিটি শিশুর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার সমান।
ছেলে শিশুর নির্যাতনের ঘটনা সামাজিক লজ্জা, অবিশ্বাস কিংবা বিষয়টি গোপন রাখার প্রবণতায় আড়ালে থেকে যেতে পারে। তাই পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সবাইকে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে নির্যাতনের শিকার কোনো শিশু পরিচয় বা লিঙ্গের কারণে অবহেলিত হবে না এবং নির্ভয়ে সাহায্য চাইতে পারবে।

নিরাপত্তাহীনতার শিকড় আরও গভীরে
শিশু নির্যাতনের পেছনে দারিদ্র্য, পারিবারিক অস্থিরতা, মাদক, সচেতনতার অভাব, সামাজিক নীরবতা, দুর্বল তদারকি এবং অপরাধের পর বিচার পাওয়ার দীর্ঘসূত্রতা—বিভিন্ন কারণ কাজ করতে পারে।

গাইবান্ধার মতো নদীভাঙন ও চরপ্রবণ এলাকায় বাস্তবতা আরও কঠিন। ঘর হারানো, জীবিকার অনিশ্চয়তা, দারিদ্র্য ও বারবার স্থানান্তরের কারণে অনেক পরিবার শিশুদের নিরাপত্তা ও শিক্ষার বিষয়টি যথাযথভাবে দেখভাল করতে পারে না। ফলে শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ, পাচার ও বিভিন্ন ধরনের শোষণের ঝুঁকি তৈরি হয়।
তবে দায় শুধু পরিবারের নয়। একটি শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পরিবার থেকে রাষ্ট্র পর্যন্ত সবার।

বিচার নয়, প্রতিরোধও জরুরি
শিশু নির্যাতনের পর দ্রুত বিচার প্রয়োজন। কিন্তু অপরাধ ঘটে যাওয়ার পর বিচার নিশ্চিত করাই শেষ কথা নয়। অপরাধ যাতে ঘটতেই না পারে, সেই পরিবেশ তৈরি করাই সবচেয়ে জরুরি।

পরিবারে শিশুর কথা গুরুত্ব দিয়ে শুনতে হবে। বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও শিশুদের নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কার্যকর Child Safeguarding ব্যবস্থা থাকতে হবে। নিখোঁজ শিশুর ক্ষেত্রে দ্রুত অনুসন্ধান, নির্যাতনের ঘটনায় শিশুবান্ধব তদন্ত ও বিচার, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

একই সঙ্গে শিশুদের শেখাতে হবে—কোন আচরণ নিরাপদ, কোনটি অনিরাপদ এবং বিপদে পড়লে কোথায় সাহায্য চাইতে হবে। অভিভাবকদেরও জানতে হবে, শিশুর আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন, ভয় বা অস্বাভাবিক নীরবতা কখনো কখনো বিপদের সংকেত হতে পারে।

নিরাপদ শৈশবই হোক রাষ্ট্রের অগ্রাধিকার
ফাতেমা ফিরে এসেছে মায়ের কোলে। কিন্তু তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনা আমাদের সামনে রেখে গেছে অস্বস্তিকর এক বাস্তবতা। রামিসা আর ফিরবে না। নিখোঁজ থাকা শিশুদের পরিবার এখনো অপেক্ষায়। নির্যাতনের শিকার অনেক শিশুকে বয়ে বেড়াতে হচ্ছে শারীরিক ও মানসিক ক্ষত।

তারা কেউ পরিসংখ্যানের একটি সংখ্যা নয়। প্রত্যেকেই একটি পরিবার, একটি স্বপ্ন এবং একটি সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ। শিশুর অধিকার মানে শুধু বিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ নয়; নিরাপদে বেঁচে থাকা, নির্যাতন ও শোষণ থেকে সুরক্ষা পাওয়া, নিজের কথা বলার স্বাধীনতা এবং মর্যাদার সঙ্গে বেড়ে ওঠার অধিকারও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এই অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব শুধু মা-বাবার নয়—পরিবার, সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রশাসন ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত দায়িত্ব।

একটি শিশুকে নিরাপদ রাখতে ব্যর্থ হওয়া মানে শুধু তার বর্তমানকে ঝুঁকিতে ফেলা নয়, ভবিষ্যতের সম্ভাবনাকেও বিপন্ন করা। তাই শিশু নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনার পর সাময়িক ক্ষোভ প্রকাশ কিংবা বিচারের দাবিতে সোচ্চার হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে।

শিশুদের নিরাপত্তা যেখানে দোদুল্যমান, সেখানে অধিকার প্রতিষ্ঠা সত্যিই দুঃস্বপ্ন। সেই দুঃস্বপ্ন থেকে বেরিয়ে আসার পথ একটাই—প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ পরিবার, সুরক্ষিত সমাজ এবং দায়িত্বশীল রাষ্ট্র নিশ্চিত করা। কারণ, শিশুর নিরাপত্তা কোনো অনুগ্রহ নয়; এটি তার মৌলিক অধিকার।
 

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad