• মাধুকর প্রতিনিধি
  • তারিখঃ ১৬-১০-২০২২, সময়ঃ সকাল ১১:২৪
  • ১২৪ বার দেখা হয়েছে

সবুজ মাল্টার দখলে সৈয়দপুরের বাজার 

সবুজ মাল্টার দখলে সৈয়দপুরের বাজার 

শাহজাহান আলী মনন, সৈয়দপুর 

নীলফামারীর সৈয়দপুরের ফল বাজার এখন সবুজ মাল্টার দখলে। প্রায় সব প্রতিষ্ঠিত ফল দোকানসহ ফুটপাতেও স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এই পুষ্টিকর রসালো ফলের একক দাপট দেখা যাচ্ছে। স্বাদে বিদেশী হলুদ মাল্টার সমক এবং দামও তুলনামূলক কম হওয়ায় সর্বস্তরের ক্রেতার পছন্দের তালিকায় শীর্ষে স্থান করে নিয়েছে। একারণে ব্যাপক চাহিদাও বেড়েছে ফলটির। 
জেলার কিশোরগঞ্জ, জলঢাকা ও সৈয়দপুর ছাড়াও পার্শবর্তী রংপুরের পীরগঞ্জ, বদরগঞ্জ, দিনাজপুরের পার্বতীপুর, চিরিরবন্দর, বীরগঞ্জ, নবাবগঞ্জ এবং ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় জেলাসহ সুদূর চুয়াডাঙ্গা, যশোর, নাটোর, রাজশাহী, পাবনা থেকেও আসছে এই মাল্টা। দেশীয় সবুজ মাল্টা মোটামুটি মিষ্টি। তাই খেতে পরিপূর্ণ স্বাদই পাওয়া যায়। রসের পরিমাণও পর্যাপ্ত। ফলে দিন দিন এই ফল ভোক্তাদের মন জয় করেছে। 

সৈয়দপুর শহরের বঙ্গবন্ধু চত্বরের (পাঁচমাথা মোড়ে) রেল ঘুমটির ফুটপাতে ফল বিক্রেতা সাঈদ আহমেদ বলেন, দাম হাতের নাগালে থাকায় উচ্চবিত্ত মধ্যবিত্ত সব গ্রাহকই সবুজ মাল্টা কিনে। বিদেশি হলুদ মাল্টার দাম মৌসুম ভেদে ২২০ টাকা থেকে ২৮০ টাকা কেজি বিক্রি হয়। সেখানে দেশীটা সর্বোাচ্চ ১৮০ টাকা দাম ওঠে। বেশিরভাগ সময় ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ১২০ টাকা কেজিতেই পাওয়া যায়। 

উপজেলার কামারপুকুর নিজামের চৌপথী এলাকার সাদিকুল ইসলাম একজন ভ্রাম্যমাণ ফল বিক্রেতা। তিনি বলেন, আমরা পাড়া মহল্লাসহ বাজারের রাস্তায় রাস্তায় ফেরি করে ফল বিক্রি করি। যখন যে ফলের সিজন থাকে সেটা নিয়েই আমাদের ব্যবসা। অন্যান্য ফল অনেক সময় বিক্রি না হওয়ায় বেঁচে যায়, নষ্ট হয়। কিন্তু সবুজ মাল্টা তাজা হওয়ায় কখনই অবিক্রীত থাকেনা। আর নষ্ট হওয়ারতো প্রশ্নই উঠেনা। সারা দিনে এক ভাড় (দুই ডালা) প্রায় ১ থেকে দেড় মন বিক্রি কোন ব্যাপার না। কারণ ফলটা ধনি গরিব সবাই কেনে। 

একই কথা বলেন, শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়কের মদীনা মোড়ের ফল ব্যবসায়ী জহুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, দোকানে সবধরনের দেশি বিদেশি ফল রাখি। এমনকি অনেক বিরল ফল যা অন্য কোথাও পাবেন না। সেগুলোও আমার সংগ্রহে আছে। তারপরও ক্রেতারা এসে সবুজ মাল্টা খোঁজে। বাধ্য হয়ে বিদেশি হলুদ মাল্টার পাশাপাশি এটিও রাখতে হয় এবং চাহিদাও বেশি ও দামও কম হওয়ায় বিক্রি হচ্ছে বেশি। 

আরেক প্রতিষ্ঠিত ফল ব্যবসায়ী নিয়াজ আহমেদ বলেন, দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতির কারণে অনেক ক্রেতাই এখন ফল কিনতে হিমশিম খাচ্ছে। সব ফলেরই দাম বেড়েছে। তাই ক্রেতারা ফল কেনা কমিয়ে দিয়েছে এবং তুলনামূলক কম দামের ফল কিনছে। পুষ্টিগুণ বিচার করে তারা আপেলের জায়গায় পেয়ারা, বিদেশি মাল্টার বদলে সবুজ মাল্টা নিচ্ছে। একারনে সবুজ মাল্টার বেশ চাহিদা। 
তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হওয়ায় দামও সাধ্যের মধ্যে। ফলে প্রায় প্রতিটি দোকানেই এই ফল আছে। সেই সাথে ফেরি করে ও ফুটপাতের ছোট ছোট দোকানেও সবুজ মাল্টা বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরাও অল্প পূঁজি খাটিয়েই বিদেশি হলুদ মাল্টার চেয়েও বেশি লাভ করতে পারছে। আবার অবিক্রীত থাকার বা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকছেনা। কারণ এটি ইমপোর্ট করে আনতে হচ্ছেনা। বরং আশেপাশে থেকেই সংগ্রহ করায় অনেক টাটকাই মিলছে। 

পোস্ট অফিস সংলগ্ন আবিদ হোসেনের দোকানে ফল কিনতে আসা শহরের বাঁশবাড়ী এলাকার গৃহিণী জাকিয়া খাতুন বলেন, হলুদ মাল্টা ও সবুজ মাল্টার পুষ্টিগুণ একই। স্বাদ অর্থাৎ মিষ্টির দিকটা একটু কমবেশি হলেও রসের পরিমান প্রায় সমান। তাছাড়া হলুদটা বিদেশ থেকে আনা হয় বলে তা প্রিজারভেটিভ দিয়ে সংরতি এবং অনেকদিনের বাসি। আর সবুজটা দেশি হওয়ায় একেবারে সতেজ এবং কেমিকেলমুক্ত। আর বিদেশি এক কেজির টাকায় এটা দুই কেজি কেনা যাচ্ছে। তাই পছন্দের তালিকায় এখন সবুজ মাল্টাই প্রথম।

শেরে বাংলা সড়কের চৌধুরী টাওয়ার মার্কেটের সামনের দোকান থেকে ফলক্রেতা সরকারী চাকুরীজীবী ইমরান ফয়সাল বলেন, দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের মত আর আপেল আঙ্গুর কমলা বেদানা কেনা হয়না। তার বদলে পেয়ারা কলা আর সবুজ মাল্টা দিয়েই চাহিদা মেটাই। সে ক্ষেত্রে সবুজ মাল্টাটাই বেশ সাশ্রয়ী এবং সুবিধার। ফলটা বিদেশি হলুদ মাল্টা, কমলার বাজার দখল করেছে। সুমিষ্ট হওয়ায় সর্বস্তরের মানুষের কাছে প্রিয় হয়ে উঠেছে। 

ব্যবসায়ীদের দেয়া তথ্যানুযায়ী সৈয়দপুর শহরেই প্রতিদিন প্রায় ৮০ থেকে ১শ' মণ সবুজ মাল্টা বিক্রি হয়। আর উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজার ও ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতার হিসেব করলে এর পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণে দাঁড়াবে। খুচরা পর্যায়ে বিক্রির েেত্র একক কোন ফলের বাজার চাহিদার বিচারে এটি বেশ আশাব্যঞ্জক এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে ইতিবাচক। উৎপাদক ও খামারীদের মতে বারোমাসি নানা জাতের চাষ হওয়ায় আগামীতে সারাবছরই সবুজ মাল্টা বাজারে পাওয়া যাবে। এতে বিদেশি হলুদ মাল্টার আমদানি নির্ভরতা কমবে। যা স্থানীয় ফলচাষিদের বাজিমাত হবে বলে মনে করেন তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়