• মাধুকর প্রতিনিধি
  • তারিখঃ ৩১-১২-২০২২, সময়ঃ রাত ০৭:২৩
  • ৬৪ বার দেখা হয়েছে

সাংসদ লিটন হত্যাকারিদের ফাঁসি দাবি পরিবারের

সাংসদ লিটন হত্যাকারিদের ফাঁসি দাবি পরিবারের

সুন্দরগঞ্জ প্রতিনিধি ►

গাইবান্ধার-১ সুন্দরগঞ্জ আসনের সরকার দলীয় সাংসদ মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের হত্যাকারিদের ফাঁসির আদেশ দ্রæত কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্য ও আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীগণ। গতকাল শনিবার বিকালে প্রয়াত সাংসদ লিটনের সপ্তম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে স্বরণ সভা উপজেলা দলীয় কার্যালয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ও লিটনের বড় বোন আফরুজা বারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ চেয়াম্যান আশরাফুল আলম সরকার লেবুর সঞ্চালনায় স্বরন সভায় বক্তব্য রাখেন প্রায়ত সাংসদ লিটনের সহধর্মীনি ও উপজেলা আওয়ামীলীগ সহ-সভাপতি সৈয়দা খুরশীদ জাহান স্মৃতির, সহ-সভাপতি সাজেদুল ইসলাম, আব্দুল হান্নান সরকার, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক গোলাম কবির মুকুল, আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা আওয়ামীলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক ও প্রায়ত সাংসদ লিটনের একমাত্র ছেলে রাতিন, পৌর আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকাসহ জেলা, উপজেলা আওয়ামীলীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীগণ।

বক্তাগণ বলেন, নিম্ন আদালতে দেয়া এমপি লিটনের হত্যা মামলায় আসামিদের ফাঁসির রায় উচ্চ আদালতে বহাল রেখে  দ্রæত ফাঁসির রায় কার্যকরের দাবি জানান।

তৎকালীন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন ২০১২ সালে সাংসদ কাদের খানের বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে র্দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ দেন। তদন্তের পর তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে তিনি রাজনীতিতে যেমন কোনঠাসা হতে থাকেন, তেমনি জনসম্পৃক্ততা কমে যাওয়ায় তিনি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পরেন। পরবর্তীতে তিনি ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের কাছে পরাজিত হন সাংসদ কাদের খান। এরপর থেকে তিনি এলাকায় আসা ছেড়ে দেন। পরবর্তীতে ব্যারিস্টা শামীম হায়দার পাটোয়ারী জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে নিজ এলাকা সুন্দরগঞ্জে ব্যাপক রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু করেন।

জাতীয় পার্টির এই সাবেক এমপি কাদের খান আবারও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার স্বপ্নে এতটাই বিভোর ছিলেন যে, তিনি এমপি লিটনকে পথের কাঁটা ভেবে তাঁকে দুনিয়া থেকেই সরিয়ে দেয়ার ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা করেন। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় উপজেলার বামনডাঙ্গার মাস্টারপাড়ার নিজ বাড়িতে এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে গুলি করে সাংসদ কাদের খানের লালিত-পালিত খুনীরা। কিন্তু প্রথমে সন্দেহের দৃষ্টি থেকে দুরত্বেই ছিল ঘাতক চক্র কাদের খান ও তার সহযোগীরা। এমপি লিটন হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে মাঠে নামে গোয়েন্দারা। সন্দেহভাজন অনেকে গ্রেপ্তার হন। একপর্যায়ে উপজেলার ধোপাডাঙ্গায় একটি ছিনতাইয়ের ঘঁনায় ছিনতাইকারীদের প্রেপ্তার করার পর লিটন হত্যার প্রকৃত রহস্য উন্মোচন হতে থাকে। ২০১৭ সালের ২১ ফেব্রæয়ারি বগুড়ার বাসা থেকে সাংসদ কাদের খানকে প্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর তদন্ত শেষে কাদের খানসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ৩০ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। এরমধ্যে সুবল কসাই নামের এক আসামির কারাগারেই মৃত্যু হয়।

জেলা দায়রা ও জজ আদালত ২০১৯ সালের ২৮ নভেম্বর এমপি লিটন হত্যাকান্ডে জড়িত সাত আসামির ফাঁসির রায় ঘোষণা করেন। দন্ডিতরা হলো-  সাবেক সাংসদ আব্দুল কাদের খান ও তার পিএস শামছুজ্জোহা, হান্নান, মেহেদী, শাহীন, রানা ও চন্দন কুমার রায়। দন্ডপ্রাপ্ত আসামি চন্দ্রন কুমার রায় পলাতক রয়েছে। যেদিন তাকে গ্রেপ্তার করা হবে সেদিন থেকে তার রায় কার্যকর হবে  কিন্তু এখন পর্যন্ত আদেশ কার্যকর করা হয়নি।

এমপি লিটন হত্যার ঘটনায় পুলিশ দুটি মামলা দায়ের করে। একটি অস্ত্র মামলা ও অপরটি হত্যা মামলা। অস্ত্র মামলার রায়েও একমাত্র আসামি আব্দুল কাদের খানের ১২ বছরের কারাদন্ড হয়েছে।

প্রয়াত সাংসদ মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন ছাত্রজীবন থেকেই ছিলেন মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। ১৯৯৮ সালে তিনি বঙ্গবন্ধু পরিষদের সুন্দরগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি মনোনীত হন। জামায়াত অধ্যাষিত সুন্দরগঞ্জে তিনি ২০০০ সালে রাজাকার গোলাম আজমের জনসভা পন্ড করে দেন ও তার আগমন প্রতিহত করেন। তিনি ২০০৩ সালে ব্যালটের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের উপজেলা শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৪ সালে জাতীয় নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন।

শনিবার সকালে উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের উত্তর সাহাবাজ মাষ্টার পাড়া গ্রামে সাংসদ লিটনের কবরে পুস্পমাল্য অর্পণ করেন পরিবারের সদস্য ও উপজেলা আওয়ামীলীগ এবং তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীগণ। এছাড়া দোয়া মাহফিল ও তবারক বিতরণ করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়